নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 9
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও जवाबদিহিতার দাবিতে দেশটির রাজধানী তেল আবিব আবারও তীব্র বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক ও নজিরবিহীন হামলার আগে এবং পরে বাষ্ট্রের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চরম ব্যর্থতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের জোর দাবি জানিয়ে রাস্তায় নামেন শত শত ক্ষুব্ধ মানুষ।
ইসরায়েলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১৩ জুন) তেল আবিবের ঐতিহাসিক হাবিমা স্কয়ারে প্রায় ৫০০ মানুষের অংশগ্রহণে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখা বক্তারা সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, বর্তমান নেতানিয়াহু সরকার প্রচলিত আইন অনুযায়ী একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয়, বরং তারা এই ব্যর্থতার দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।
হামাসের ওই হামলায় প্রথমে অপরুদ্ধ এবং পরবর্তীতে গাজায় জিম্মি অবস্থায় নিহত হওয়া ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ ইয়োরাম মেটজগারের পুত্রবধূ আয়ালা মেটজগার সমাবেশে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “সময় যত গড়াচ্ছে, আমাদের মনে প্রশ্নের সংখ্যাও তত বাড়ছে।” তাঁর মতে, দেশের আইন অনুযায়ী গঠিত একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশনই হতে পারে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ তদন্তের একমাত্র মাধ্যম, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সরাসরি নিয়োগ করা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন। কিন্তু বর্তমান সরকার যে বিশেষ কমিটির প্রস্তাব সামনে এনেছে, তা পুরোপুরি political ভাবে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে বলে তিনি গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আয়ালা মেটজগার আরও দাবি করেন, সরকারের প্রস্তাবিত ওই কমিটিতে ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের রাখার কথা বলা হলেও, যদি বিরোধীরা এতে অংশ না নেয় তবে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াটি এককভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। আর এটি হলে তদন্তের প্রকৃত নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠবে।
অন্যদিকে, নোভা সঙ্গীত উৎসবে হামাসের হামলায় নিহত ২৬ বছর বয়সী তরুণী ওরিয়া লিটম্যানের বাবা এরান লিটম্যানও সমাবেশে অংশ নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর মেয়ে মূলত তীব্র ধর্মীয় সংঘাতের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন। হামাস নেতা ইয়াহইয়া সিনওয়ারের কথিত বিভিন্ন লেখালেখির সূত্র ধরে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক তীব্র উত্তেজনাই মূলত চলমান সংঘাতকে আরও বেশি গভীর ও রক্তক্ষয়ী করে তুলেছে। এরান লিটম্যান দেশটির বিতর্কিত সামরিক নীতির সমালোচনা করে আরও বলেন, বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এড়িয়ে যাওয়া চরমপন্থী ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে যে রাষ্ট্রীয় নীতি রয়েছে, তা দেশের সাধারণ নাগরিকদের সমান করা উচিত। তাঁর স্পষ্ট ভাষায়, “ধর্মীয় শিক্ষা কোনোভাবেই দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিকল্প হতে পারে না।”
এই সরকারবিরোধী সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ করেই চরমপন্থী সরকারপন্থি কর্মী হাদার মুখতার ঘটনাস্থলে এসে নিজের মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে উপস্থিত জনতার মাঝে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সরকারবিরোধী এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্মীর সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির উপক্রম হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং দুজনকে আলাদা করে হেফাজতে নেয়। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাঁদের দুজনকে ছেড়ে দেয় বলে জানা গেছে।

































