ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের ১ লাখ কর্মী নেওয়ার প্রস্তাবে মস্কোর সম্মতি

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / 12

রাশিয়ায় ১ লাখ কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের

বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারে এক বিশাল ও ঐতিহাসিক সুখবর এসেছে। বাংলাদেশ থেকে আগামী বছরের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানির পরিমাণ ১ লাখে উন্নীত করার বিষয়ে রাশিয়ার সরকারের স‌ঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা ক‌রেছে‌ন বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া এই মেগা প্রস্তাবে সাড়াপূর্বক চূড়ান্ত সম্মতি জানিয়েছে রাশিয়া। আজ মঙ্গলবার (৯ ‍জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এই ঐতিহাসিক অর্জনের তথ্য বিশদভাবে জানা‌নো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী রাশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে সফলতার সাথে কাজ করছেন। সেখানে এই জনশক্তি রপ্তানির সংখ্যাকে ১ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যে রুশ কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হ‌লে তারা অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেয় এবং দ্রুত এই বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়। এই বিশাল কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে উভয়পক্ষই খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা ও আইনি চুক্তি সম্পন্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাশিয়ান ফেডারেশনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বিশেষ ও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সক্রিয় অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বর্তমানে মস্কো সফর করছেন। এই সফরকালেই বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে আন্তর্জাতিক নীতি মেনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত হাইপ্রোফাইল বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান রাজনৈতিক সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও নতুন বিনিয়োগ, জ্বালানি খাতের বিশেষ সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন জটিল ইস্যুসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠক শেষে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি সৌজন্য মধ্যাহ্নভোজের (লাঞ্চ) আয়োজন করেন। এই মধ্যাহ্নভোজে দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অত্যন্ত চমৎকার ও অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বহুমাত্রিক সম্ভাবনা নিয়ে আন্তরিক মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পারস্পরিক গভীর শ্রদ্ধা, দীর্ঘদিনের আস্থা এবং সুদৃঢ় সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির মাঝেও উভয়পক্ষই এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি শক্তিশালী, গতিশীল ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে উন্নীত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

কূটনৈতিক সংশ্লিষ্ট ও নীতিনির্ধারকরা বলছেন, গত দীর্ঘ সাত বছরের মধ্যে এই প্রথম বাংলাদেশ থেকে এত উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিদলকে দ্বিপাক্ষিক ও আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য রাশিয়া রাষ্ট্রীয়ভাবে আমন্ত্রণ জানাল। এই বিশেষ সফরটি বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গুরুত্ব, গভীর পারস্পরিক আস্থা এবং দুই পরাশক্তির মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও বেশি সুদৃঢ় করার অভিন্ন আগ্রহের একটি অনন্য প্রতিফলন হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে বিবেচিত হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাংলাদেশের ১ লাখ কর্মী নেওয়ার প্রস্তাবে মস্কোর সম্মতি

সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারে এক বিশাল ও ঐতিহাসিক সুখবর এসেছে। বাংলাদেশ থেকে আগামী বছরের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানির পরিমাণ ১ লাখে উন্নীত করার বিষয়ে রাশিয়ার সরকারের স‌ঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা ক‌রেছে‌ন বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া এই মেগা প্রস্তাবে সাড়াপূর্বক চূড়ান্ত সম্মতি জানিয়েছে রাশিয়া। আজ মঙ্গলবার (৯ ‍জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এই ঐতিহাসিক অর্জনের তথ্য বিশদভাবে জানা‌নো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী রাশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে সফলতার সাথে কাজ করছেন। সেখানে এই জনশক্তি রপ্তানির সংখ্যাকে ১ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যে রুশ কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হ‌লে তারা অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেয় এবং দ্রুত এই বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়। এই বিশাল কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে উভয়পক্ষই খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা ও আইনি চুক্তি সম্পন্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাশিয়ান ফেডারেশনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বিশেষ ও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সক্রিয় অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বর্তমানে মস্কো সফর করছেন। এই সফরকালেই বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে আন্তর্জাতিক নীতি মেনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত হাইপ্রোফাইল বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান রাজনৈতিক সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও নতুন বিনিয়োগ, জ্বালানি খাতের বিশেষ সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন জটিল ইস্যুসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠক শেষে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি সৌজন্য মধ্যাহ্নভোজের (লাঞ্চ) আয়োজন করেন। এই মধ্যাহ্নভোজে দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অত্যন্ত চমৎকার ও অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বহুমাত্রিক সম্ভাবনা নিয়ে আন্তরিক মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পারস্পরিক গভীর শ্রদ্ধা, দীর্ঘদিনের আস্থা এবং সুদৃঢ় সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির মাঝেও উভয়পক্ষই এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি শক্তিশালী, গতিশীল ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে উন্নীত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

কূটনৈতিক সংশ্লিষ্ট ও নীতিনির্ধারকরা বলছেন, গত দীর্ঘ সাত বছরের মধ্যে এই প্রথম বাংলাদেশ থেকে এত উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিদলকে দ্বিপাক্ষিক ও আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য রাশিয়া রাষ্ট্রীয়ভাবে আমন্ত্রণ জানাল। এই বিশেষ সফরটি বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গুরুত্ব, গভীর পারস্পরিক আস্থা এবং দুই পরাশক্তির মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও বেশি সুদৃঢ় করার অভিন্ন আগ্রহের একটি অনন্য প্রতিফলন হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে বিবেচিত হচ্ছে।