নেতৃত্বহীন দুদকে নিষ্পাপ ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / 48
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বেসরকারি খাতের বহু উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ এবং সম্পত্তি ক্রোকের মতো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এক বছরের যৌথ তদন্তের পর ১১টি বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫টি এবং শত শত ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ নির্দোষ বা ‘ক্লিন’ প্রমাণিত হলেও তারা মুক্তি পাচ্ছেন না।
গত তিন মাস ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন ও অচল থাকায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও নতুন কমিশন বা সার্চ কমিটি গঠিত না হওয়ায় বিনা অপরাধে ব্যবসায়ীদের এই সাজা ভোগ করতে হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
বিগত দেড় বছরে দেশের বেসরকারি খাতের ওপর রাষ্ট্রীয় কিছু এজেন্সির একচেটিয়া দমনপীড়ন ও ভুল নীতিমালার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ না করেও কেবল আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে শত শত ব্যবসায়ী এখন চরম আর্থিক অবরুদ্ধতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
মূলত নেতৃত্বহীন দুদকে নিষ্পাপ ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি শিরোনামের এই প্রশাসনিক স্থবিরতা দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ও কর্মসংস্থানকে গভীর সংকটে ফেলেছে। আইনি ফাঁদে পড়ে এসব প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে।
গত ৩ মার্চ দুদকের শীর্ষ তিন কর্মকর্তার একযোগে পদত্যাগের পর থেকে সংস্থাটিতে কোনো নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে নেতৃত্বহীন দুদকে নিষ্পাপ ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি হওয়ার মূল আইনি কারণ হলো, দুদকের বিধিমালা অনুযায়ী কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যাংক হিসাব সচল বা মামলা নিষ্পত্তি করা অসম্ভব।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিতর্কিত অধ্যাদেশটি সম্প্রতি জাতীয় সংসদে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ২০০৪ সালের মূল আইনটি পুনর্বহাল হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত নতুন তিন সদস্যের কমিশন গঠনে ৫ সদস্যের সার্চ কমিটিই তৈরি করতে পারেনি বর্তমান নির্বাচিত সরকার।
এই দীর্ঘস্থায়ী অচল অবস্থাকে নজিরবিহীন ও হতাশাজনক বলে আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB)। বর্তমানে নেতৃত্বহীন দুদকে নিষ্পাপ ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটি কার্যত এক ধরণের দুর্নীতিসহায়ক পরিবেশ তৈরি করছে এবং নিরীহ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ করছে।
কোনো অপরাধ প্রমাণ ছাড়া এভাবে মাসের পর মাস সম্পত্তি আটকে রাখা সংবিধান পরিপন্থী। পরিশেষে বলা যায়, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের আইনি অধিকার ফিরিয়ে দিতে দ্রুততম সময়ে দুদককে পুনর্গঠন করা এখন সময়ের দাবি।






























