ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় ফেরানোর পরিকল্পনা ছিল ইসরাইলের 

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 20

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায়ে একটি চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনা ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরা সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে আবার ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা বিবেচনা করেছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পরিকল্পনায় আহমাদিনেজাদকে তেহরানে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করার জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান অন্তর্ভুক্ত ছিল। একই সঙ্গে কুর্দি গোষ্ঠীর সহায়তা নেওয়া এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার মাধ্যমে সরকারকে দুর্বল করার কৌশলও ভাবা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট থাকা আহমাদিনেজাদ দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। পরমাণু কর্মসূচির পক্ষে তার অবস্থান এবং রাজনৈতিক বক্তব্য তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কিত করে তোলে। পরবর্তী সময়ে তিনি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গেও বিরোধে জড়িয়ে পড়েন এবং রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা অবস্থায় চলে যান।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থান নিয়েও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ইরানের ভেতর থেকেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের একটি বিকল্প কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছিল, যেখানে আহমাদিনেজাদের নাম বিস্ময়করভাবে সামনে আসে।

তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘিরে মতভেদ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তা এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, তার অতীত ও বিতর্কিত রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ইরানের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া তার জন্য কঠিন হতে পারত।

অভিযানের শুরুর দিকে আহমাদিনেজাদের বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে তার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিহত হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান, যদিও আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভুল তথ্য ছড়িয়ে তার মৃত্যুর গুজব তৈরি হলেও তা দ্রুত অস্বীকার করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এটি ছিল বৃহত্তর এক বহু-ধাপের পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য ছিল সামরিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাধ্যমে ইরানের শাসন কাঠামো দুর্বল করা। তবে বাস্তবে সেই কৌশল প্রত্যাশিত ফল দেয়নি এবং সরকার কাঠামো আগের তুলনায় বেশি স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রাখে।

আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক জীবনও শেষ পর্যন্ত জটিল মোড় নেয়। ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নিজের শিবিরের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেন এবং একাধিকবার নির্বাচনে ফেরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বিদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে তুলনামূলক নরম অবস্থান দেখা গেলেও তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় ফেরানোর পরিকল্পনা ছিল ইসরাইলের 

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায়ে একটি চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনা ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরা সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে আবার ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা বিবেচনা করেছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পরিকল্পনায় আহমাদিনেজাদকে তেহরানে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করার জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান অন্তর্ভুক্ত ছিল। একই সঙ্গে কুর্দি গোষ্ঠীর সহায়তা নেওয়া এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার মাধ্যমে সরকারকে দুর্বল করার কৌশলও ভাবা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট থাকা আহমাদিনেজাদ দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। পরমাণু কর্মসূচির পক্ষে তার অবস্থান এবং রাজনৈতিক বক্তব্য তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কিত করে তোলে। পরবর্তী সময়ে তিনি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গেও বিরোধে জড়িয়ে পড়েন এবং রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা অবস্থায় চলে যান।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থান নিয়েও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ইরানের ভেতর থেকেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের একটি বিকল্প কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছিল, যেখানে আহমাদিনেজাদের নাম বিস্ময়করভাবে সামনে আসে।

তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘিরে মতভেদ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তা এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, তার অতীত ও বিতর্কিত রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ইরানের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া তার জন্য কঠিন হতে পারত।

অভিযানের শুরুর দিকে আহমাদিনেজাদের বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে তার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিহত হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান, যদিও আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভুল তথ্য ছড়িয়ে তার মৃত্যুর গুজব তৈরি হলেও তা দ্রুত অস্বীকার করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এটি ছিল বৃহত্তর এক বহু-ধাপের পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য ছিল সামরিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাধ্যমে ইরানের শাসন কাঠামো দুর্বল করা। তবে বাস্তবে সেই কৌশল প্রত্যাশিত ফল দেয়নি এবং সরকার কাঠামো আগের তুলনায় বেশি স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রাখে।

আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক জীবনও শেষ পর্যন্ত জটিল মোড় নেয়। ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নিজের শিবিরের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেন এবং একাধিকবার নির্বাচনে ফেরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বিদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে তুলনামূলক নরম অবস্থান দেখা গেলেও তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।