ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 39

ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স

দেশে টিকা সরবরাহ ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারকে—এমন দাবি করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির মতে, একাধিক চিঠি ও বৈঠকের মাধ্যমে আগেই সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে জানানো হয়েছিল।

বুধবার (২০ মে) ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত পাঁচটি চিঠি পাঠিয়ে টিকা সংকটের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রায় ১০টি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ইউনিসেফের ভাষ্য অনুযায়ী, টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার কারণে সময়মতো দেশে প্রয়োজনীয় টিকা পৌঁছায়নি। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিলম্ব সৃষ্টি হয় বলে তারা মনে করে।

সংবাদ সম্মেলনে রানা ফ্লাওয়ার্স আরও বলেন, চলমান সংকটের মধ্যেও হাম নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু ইতোমধ্যে হাম প্রতিরোধী টিকা পেয়েছে।

তিনি প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় টিকা সংকটের কারণ, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিসেফের ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়ানোর উপায় নিয়ে কথা বলেন। শিশুমৃত্যুর বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

সরকারি তদন্ত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, প্রয়োজনে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংস্থাটি তথ্য ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেয়।

তিনি আরও জানান, উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হলেও এতে সময় বেশি লাগে। অন্যদিকে ইউনিসেফের মাধ্যমে তুলনামূলক দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে দেশে চলতি বছর হামে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার অতীতের তুলনায় বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

দেশে টিকা সরবরাহ ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারকে—এমন দাবি করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির মতে, একাধিক চিঠি ও বৈঠকের মাধ্যমে আগেই সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে জানানো হয়েছিল।

বুধবার (২০ মে) ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত পাঁচটি চিঠি পাঠিয়ে টিকা সংকটের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রায় ১০টি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ইউনিসেফের ভাষ্য অনুযায়ী, টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার কারণে সময়মতো দেশে প্রয়োজনীয় টিকা পৌঁছায়নি। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিলম্ব সৃষ্টি হয় বলে তারা মনে করে।

সংবাদ সম্মেলনে রানা ফ্লাওয়ার্স আরও বলেন, চলমান সংকটের মধ্যেও হাম নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু ইতোমধ্যে হাম প্রতিরোধী টিকা পেয়েছে।

তিনি প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় টিকা সংকটের কারণ, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিসেফের ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়ানোর উপায় নিয়ে কথা বলেন। শিশুমৃত্যুর বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

সরকারি তদন্ত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, প্রয়োজনে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংস্থাটি তথ্য ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেয়।

তিনি আরও জানান, উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হলেও এতে সময় বেশি লাগে। অন্যদিকে ইউনিসেফের মাধ্যমে তুলনামূলক দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে দেশে চলতি বছর হামে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার অতীতের তুলনায় বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।