ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিপিডিসি: জনস্বার্থের কাজে দুই লাখ টাকা ‘ঘুষ’!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / 70

ডিপিডিসি’র সহকারী প্রকৌশলী মো. আতাউর রহমান পরামানিক। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বনশ্রীর পশ্চিম নন্দীপাড়ার পানির পাম্প তিন রাস্তার মোড় এলাকায় সড়কের মাঝে একটি বিদ্যুতের খুঁটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এতে করে ঐ সড়কে বড় যানবাহনও প্রবেশ করতে পারছে না।

জনস্বার্থে এলাকাবাসীর পক্ষে এই খুঁটি অপসারনের একটি আবেদন করা হলে তার বিনিময়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) বনশ্রী ডিভিশনের সহকারী প্রকৌশলী মো. আতাউর রহমান পরামানিক ।

ওই কর্মকর্তা গ্রাহকের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি। তার দাবি আরো এক লাখ টাকা। আর সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ডিপিডিসি’র কর্মচারীদের মাধ্যমে আবেদন নিয়ে যাওয়া ঠিকাদারকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।

মো. রাশেদ নামের এক ঠিকাদার গত ৭ মে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি লিখিত আবেদন করেছেন।

রাশেদ নামের ওই ঠিকাদার জানান, স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে মো. সেলিম রেজা প্রায় তিন মাস আগে ডিপিডিসি’র বনশ্রী কার্যালয়ে বিদ্যুতের খুঁটিটি সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুতের খুঁটিটির কারনে ওই এলাকায় মানুষের চলাচলে মারাত্নক ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পাশাপাশি ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আবেদনের সাথে রাস্তার ওপর থাকা খুঁটির ছবিও যুক্ত করে দেওয়া হয়।

সাব স্টেশন ব্যবসায়ি মো. রাশেদ জানান, সেলিম রেজার পক্ষে তিনিই এ বিষয়ে ডিপিডিসি বনশ্রী ডিভিশনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এক পর্যায়ে তার কাছে খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় এবং তিনি তা পরিশোধও করেন। কিন্তু ঘুষ দেওয়ার পরেও কাজ না হওয়ায় গত ৬ মে তিনি ডিপিডিসি’র বনশ্রী কার্যালয়ে গেলে তার কাছে আরো এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় এবং সেই ঘুষের অর্থ বনশ্রী ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী, সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী (সেন্ট্রাল), নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) এর খরচের জন্য দাবি করা হয় বলে অভিযোগে জানানো হয়। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে ডিপিডিসি’র বনশ্রী কার্যালয়ের অভ্যন্তরেই শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয় বলেও জানান মো. রাশেদ।

অভিযোগের বিষয়ে বাংলা অ্যাফেয়ার্স’র পক্ষ থেকে সহকারী প্রকৌশলী মো. আতাউর রহমান পরামানিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ঘুষ গ্রহণ’ এবং মো. রাশেদকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি জানান, খুঁটি সরানোর আবেদনটি পাওয়ার পর তিনি এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। তারা জানান, এই ধরনের কাজ ‘ডিপোজিট ওয়ার্ক’ (জমা ভিত্তিক) এর মাধ্যমে করতে হবে। অর্থাৎ ডিপিডিসি’র জনস্বার্থে এই কাজ করবে না। এ জন্য গ্রাহকদের নিয়ম অনুযায়ি ডিপিডিসির কোষাগারে অর্থ জমা দিতে হবে।

আমরা ওই কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম সড়কের মাঝের এই খুঁটি সরাতে কে অর্থ জমা দিবেন ? এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তার জবাব ছিলো গোজামিলে ভরা। তিনি জানান, ‘বিষয়টি আমিও বুঝতে পারছি কিন্তু আমার কি করার আছে এখানে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ধরনের কাজ ‘জনস্বার্থে’ এলাকাবাসীর পক্ষে আবেদন পাওয়ার পর সেটি যাচাই-বাছাই করবে স্থানীয় সহকারি প্রকৌশলী। মূলত তার দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিপিডিসির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ডিপিডিসি’তে কাজে যোগদান করেন মো. আতাউর রহমান পরামানিক। এরপর তাকে সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় মুগদাপাড়া এলাকায়। সেখানে তিনি তিন বছরের অধিক সময় দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে বর্তমান এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয় ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট।

মুগদাপাড়া এবং বর্তমান কর্মস্থলের এলাকায় খোঁজ নিয়ে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেবা গ্রহণের গ্রাহকদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূলত গ্রাহকের কাছ থেকে কোন টাকা না পেলে তিনি কোন কাজই করেন না।

বনশ্রী ডিভিশনের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, আতাউর রহমান উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে উপঢৌকন দিয়েই উচ্চচাপ সংযোগকে পাশ কাটিয়ে নিম্নচাপ সংযোগ দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন- এ জাতীয় অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বনশ্রী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বে আছেন জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর ডিপিডিসি শাখার সভাপতি প্রকৌশলী রুহুল আমিন। অভিযোগের বিষয়ে এই কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ জানার পর তিনি ওই প্রকৌশলীর (আতাউর রহমান) সাথে যোগাযোগ করে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন; আতাউর রহমান পরামানিক ‘ঘুষ গ্রহনের’ এবং গ্রাহককে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, আমার কাছে কোন অফিসিয়াল কাগজ আসেনি। যেহেতু বিদ্যুৎ বিভাগে আবেদন করেছে গ্রাহক, ঐ বিভাগই বলতে পারবে কি ব্যবস্থা নিবে?

এদিকে গত ৭ মে বিদ্যুৎ সচিব বরাবর অভিযোগ জানানো হলে আতাউর রহমান তার অফিসের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে অভিযোগকারি রাশেদকে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেন। সে সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ হাতে পেয়েছে বাংলা অ্যাফেয়ার্স। ঘুষ গ্রহণ না করলে কেন টাকা ফেরত দিতে চাচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে আতাউর রহমান পরামানিকের সাথে গত কয়েকদিন একাধিকবার যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, গ্রাহক অভিযোগ দায়েরের ১০ দিন পরও বিদ্যুৎ বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

রবিবার (১৭ মে ২০২৬) বেলা ১টার দিকে বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানমের কাছে অভিযোগের অগ্রগতি জানতে মুঠোফোনে কল করা হলে, তিনি জানান মূল অভিযোগ পত্রটি তার কাছে এখনো পৌঁছায়নি। তবে তিনি অভিযোগের একটি ফটোকপি পেয়েছেন। সেটি তিনি ফাইলবদ্ধ করেছেন।

এদিকে বনশ্রী ডিভিশনের সহকারী প্রকৌশলী মো. আতাউর রহমান পরামানিকের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগের তথ্য প্রমানাদি এসেছে বাংলা অ্যাফেয়ার্সের হাতে। দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার রয়েছে বিশাল একটি সিন্ডিকেট। আর এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি আয় করছেন কোটি কোটি টাকা। ঢাকায় রয়েছে তার একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট। দ্বিতীয় পর্বে আতাউর রহমানের দুর্নীতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবে বাংলা অ্যাফেয়ার্স।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ডিপিডিসি: জনস্বার্থের কাজে দুই লাখ টাকা ‘ঘুষ’!

সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

রাজধানীর বনশ্রীর পশ্চিম নন্দীপাড়ার পানির পাম্প তিন রাস্তার মোড় এলাকায় সড়কের মাঝে একটি বিদ্যুতের খুঁটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এতে করে ঐ সড়কে বড় যানবাহনও প্রবেশ করতে পারছে না।

জনস্বার্থে এলাকাবাসীর পক্ষে এই খুঁটি অপসারনের একটি আবেদন করা হলে তার বিনিময়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) বনশ্রী ডিভিশনের সহকারী প্রকৌশলী মো. আতাউর রহমান পরামানিক ।

ওই কর্মকর্তা গ্রাহকের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি। তার দাবি আরো এক লাখ টাকা। আর সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ডিপিডিসি’র কর্মচারীদের মাধ্যমে আবেদন নিয়ে যাওয়া ঠিকাদারকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।

মো. রাশেদ নামের এক ঠিকাদার গত ৭ মে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি লিখিত আবেদন করেছেন।

রাশেদ নামের ওই ঠিকাদার জানান, স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে মো. সেলিম রেজা প্রায় তিন মাস আগে ডিপিডিসি’র বনশ্রী কার্যালয়ে বিদ্যুতের খুঁটিটি সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুতের খুঁটিটির কারনে ওই এলাকায় মানুষের চলাচলে মারাত্নক ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পাশাপাশি ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আবেদনের সাথে রাস্তার ওপর থাকা খুঁটির ছবিও যুক্ত করে দেওয়া হয়।

সাব স্টেশন ব্যবসায়ি মো. রাশেদ জানান, সেলিম রেজার পক্ষে তিনিই এ বিষয়ে ডিপিডিসি বনশ্রী ডিভিশনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এক পর্যায়ে তার কাছে খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় এবং তিনি তা পরিশোধও করেন। কিন্তু ঘুষ দেওয়ার পরেও কাজ না হওয়ায় গত ৬ মে তিনি ডিপিডিসি’র বনশ্রী কার্যালয়ে গেলে তার কাছে আরো এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় এবং সেই ঘুষের অর্থ বনশ্রী ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী, সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী (সেন্ট্রাল), নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) এর খরচের জন্য দাবি করা হয় বলে অভিযোগে জানানো হয়। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে ডিপিডিসি’র বনশ্রী কার্যালয়ের অভ্যন্তরেই শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয় বলেও জানান মো. রাশেদ।

অভিযোগের বিষয়ে বাংলা অ্যাফেয়ার্স’র পক্ষ থেকে সহকারী প্রকৌশলী মো. আতাউর রহমান পরামানিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ঘুষ গ্রহণ’ এবং মো. রাশেদকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি জানান, খুঁটি সরানোর আবেদনটি পাওয়ার পর তিনি এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। তারা জানান, এই ধরনের কাজ ‘ডিপোজিট ওয়ার্ক’ (জমা ভিত্তিক) এর মাধ্যমে করতে হবে। অর্থাৎ ডিপিডিসি’র জনস্বার্থে এই কাজ করবে না। এ জন্য গ্রাহকদের নিয়ম অনুযায়ি ডিপিডিসির কোষাগারে অর্থ জমা দিতে হবে।

আমরা ওই কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম সড়কের মাঝের এই খুঁটি সরাতে কে অর্থ জমা দিবেন ? এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তার জবাব ছিলো গোজামিলে ভরা। তিনি জানান, ‘বিষয়টি আমিও বুঝতে পারছি কিন্তু আমার কি করার আছে এখানে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ধরনের কাজ ‘জনস্বার্থে’ এলাকাবাসীর পক্ষে আবেদন পাওয়ার পর সেটি যাচাই-বাছাই করবে স্থানীয় সহকারি প্রকৌশলী। মূলত তার দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিপিডিসির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ডিপিডিসি’তে কাজে যোগদান করেন মো. আতাউর রহমান পরামানিক। এরপর তাকে সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় মুগদাপাড়া এলাকায়। সেখানে তিনি তিন বছরের অধিক সময় দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে বর্তমান এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয় ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট।

মুগদাপাড়া এবং বর্তমান কর্মস্থলের এলাকায় খোঁজ নিয়ে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেবা গ্রহণের গ্রাহকদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূলত গ্রাহকের কাছ থেকে কোন টাকা না পেলে তিনি কোন কাজই করেন না।

বনশ্রী ডিভিশনের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, আতাউর রহমান উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে উপঢৌকন দিয়েই উচ্চচাপ সংযোগকে পাশ কাটিয়ে নিম্নচাপ সংযোগ দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন- এ জাতীয় অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বনশ্রী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বে আছেন জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর ডিপিডিসি শাখার সভাপতি প্রকৌশলী রুহুল আমিন। অভিযোগের বিষয়ে এই কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ জানার পর তিনি ওই প্রকৌশলীর (আতাউর রহমান) সাথে যোগাযোগ করে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন; আতাউর রহমান পরামানিক ‘ঘুষ গ্রহনের’ এবং গ্রাহককে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, আমার কাছে কোন অফিসিয়াল কাগজ আসেনি। যেহেতু বিদ্যুৎ বিভাগে আবেদন করেছে গ্রাহক, ঐ বিভাগই বলতে পারবে কি ব্যবস্থা নিবে?

এদিকে গত ৭ মে বিদ্যুৎ সচিব বরাবর অভিযোগ জানানো হলে আতাউর রহমান তার অফিসের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে অভিযোগকারি রাশেদকে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেন। সে সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ হাতে পেয়েছে বাংলা অ্যাফেয়ার্স। ঘুষ গ্রহণ না করলে কেন টাকা ফেরত দিতে চাচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে আতাউর রহমান পরামানিকের সাথে গত কয়েকদিন একাধিকবার যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, গ্রাহক অভিযোগ দায়েরের ১০ দিন পরও বিদ্যুৎ বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

রবিবার (১৭ মে ২০২৬) বেলা ১টার দিকে বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানমের কাছে অভিযোগের অগ্রগতি জানতে মুঠোফোনে কল করা হলে, তিনি জানান মূল অভিযোগ পত্রটি তার কাছে এখনো পৌঁছায়নি। তবে তিনি অভিযোগের একটি ফটোকপি পেয়েছেন। সেটি তিনি ফাইলবদ্ধ করেছেন।

এদিকে বনশ্রী ডিভিশনের সহকারী প্রকৌশলী মো. আতাউর রহমান পরামানিকের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগের তথ্য প্রমানাদি এসেছে বাংলা অ্যাফেয়ার্সের হাতে। দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার রয়েছে বিশাল একটি সিন্ডিকেট। আর এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি আয় করছেন কোটি কোটি টাকা। ঢাকায় রয়েছে তার একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট। দ্বিতীয় পর্বে আতাউর রহমানের দুর্নীতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবে বাংলা অ্যাফেয়ার্স।