ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ৭২ জন মুক্তিযোদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 80

সংসদে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ফজলুর রহমানের দেওয়া এক বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধীদলীয় নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, ওই বক্তব্য শুধু আপত্তিকরই নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও সংসদীয় শিষ্টাচারের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলাম এ প্রতিক্রিয়া জানান। বিবৃতিতে মোট ৭২ জন মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষর রয়েছে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ফজলুর রহমান যে ধরনের আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং সংসদের মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দল ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে করা মন্তব্যকে তারা অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়েছেন—আওয়ামী লীগ, জাসদ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি এমনকি জামায়াতে ইসলামীতেও। তাই কোনো নির্দিষ্ট পরিচয় বা দলে সীমাবদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের সদস্যদের বিচার করার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করা হয়।

সংগঠনটি ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। পাশাপাশি তারা মনে করিয়ে দেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী যেকোনো নাগরিকের রাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে, যা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত।

সংসদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে নেতারা বলেন, জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্র, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিভাজনের রাজনীতি চর্চার জায়গা নয়। তারা রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রেখে জাতীয় ঐক্য জোরদারের আহ্বান জানান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ৭২ জন মুক্তিযোদ্ধা

সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সংসদে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ফজলুর রহমানের দেওয়া এক বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধীদলীয় নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, ওই বক্তব্য শুধু আপত্তিকরই নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও সংসদীয় শিষ্টাচারের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলাম এ প্রতিক্রিয়া জানান। বিবৃতিতে মোট ৭২ জন মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষর রয়েছে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ফজলুর রহমান যে ধরনের আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং সংসদের মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দল ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে করা মন্তব্যকে তারা অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়েছেন—আওয়ামী লীগ, জাসদ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি এমনকি জামায়াতে ইসলামীতেও। তাই কোনো নির্দিষ্ট পরিচয় বা দলে সীমাবদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের সদস্যদের বিচার করার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করা হয়।

সংগঠনটি ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। পাশাপাশি তারা মনে করিয়ে দেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী যেকোনো নাগরিকের রাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে, যা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত।

সংসদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে নেতারা বলেন, জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্র, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিভাজনের রাজনীতি চর্চার জায়গা নয়। তারা রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রেখে জাতীয় ঐক্য জোরদারের আহ্বান জানান।