ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাওরপাড়ে হাঁসের বাচ্চা খামার বদলে দিচ্ছে জীবনের গল্প

হৃদয় রায় সজীব, নেত্রকোণা প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:১৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 14

প্রতীকী ছবি

নেত্রকোণার কুটুরীকোণায় তরুণ উদ্যোক্তা আমিনুল ইসলামের উদ্যোগে সনাতনী হ্যাচারি ঘিরে তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান ও নতুন সম্ভাবনা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর দীর্ঘ বর্ষাকালে কাজের সংকটে থাকা হাওরাঞ্চলে এখন ভরসার নাম হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন। মদন উপজেলার কুটুরীকোণা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা আমিনুল ইসলামের উদ্যোগে গড়ে ওঠা সনাতনী হ্যাচারি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি এনেছে।

১৯৯০ সালে ইদ্রিস মিয়া মাত্র ১২ হাজার টাকা দিয়ে এই উদ্যোগ শুরু করেন। পরবর্তীতে তার ছেলে আমিনুল ইসলাম সেটিকে বড় পরিসরে নিয়ে যান। বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগে পরিচালিত এই খামারে ১২ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। এখান থেকে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গ্রামের টিন ও কাঁচা ঘরে তৈরি ছোট ছোট হ্যাচারিতে ডিম সংরক্ষণ করে হ্যারিকেনের আলো ও তুষের তাপে ২৭ থেকে ২৮ দিনে বাচ্চা ফুটানো হয়। উদ্যোক্তা ও শ্রমিকরা জানান, সঠিক তাপমাত্রা ও যত্নই এই পদ্ধতির মূল ভিত্তি, যার ফলে মৃত্যুহার কম এবং বাজারে চাহিদা বেশি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে বর্ষার ছয় মাস কাজের সুযোগ ছিল না, এখন সেখানে অনেকেই হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন ও সরবরাহে যুক্ত হয়ে আয় করছেন। প্রতিটি একদিন বয়সী বাচ্চা প্রায় ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে দামও বাড়ে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুটুরীকোণায় বছরে প্রায় ৩ কোটি হাঁসের বাচ্চা উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় নয়, আশপাশের জেলার চাহিদাও পূরণ করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এই খাত আরও সম্প্রসারণে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হাওরপাড়ে হাঁসের বাচ্চা খামার বদলে দিচ্ছে জীবনের গল্প

সর্বশেষ আপডেট ০৫:১৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

নেত্রকোণার কুটুরীকোণায় তরুণ উদ্যোক্তা আমিনুল ইসলামের উদ্যোগে সনাতনী হ্যাচারি ঘিরে তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান ও নতুন সম্ভাবনা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর দীর্ঘ বর্ষাকালে কাজের সংকটে থাকা হাওরাঞ্চলে এখন ভরসার নাম হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন। মদন উপজেলার কুটুরীকোণা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা আমিনুল ইসলামের উদ্যোগে গড়ে ওঠা সনাতনী হ্যাচারি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি এনেছে।

১৯৯০ সালে ইদ্রিস মিয়া মাত্র ১২ হাজার টাকা দিয়ে এই উদ্যোগ শুরু করেন। পরবর্তীতে তার ছেলে আমিনুল ইসলাম সেটিকে বড় পরিসরে নিয়ে যান। বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগে পরিচালিত এই খামারে ১২ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। এখান থেকে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গ্রামের টিন ও কাঁচা ঘরে তৈরি ছোট ছোট হ্যাচারিতে ডিম সংরক্ষণ করে হ্যারিকেনের আলো ও তুষের তাপে ২৭ থেকে ২৮ দিনে বাচ্চা ফুটানো হয়। উদ্যোক্তা ও শ্রমিকরা জানান, সঠিক তাপমাত্রা ও যত্নই এই পদ্ধতির মূল ভিত্তি, যার ফলে মৃত্যুহার কম এবং বাজারে চাহিদা বেশি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে বর্ষার ছয় মাস কাজের সুযোগ ছিল না, এখন সেখানে অনেকেই হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন ও সরবরাহে যুক্ত হয়ে আয় করছেন। প্রতিটি একদিন বয়সী বাচ্চা প্রায় ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে দামও বাড়ে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুটুরীকোণায় বছরে প্রায় ৩ কোটি হাঁসের বাচ্চা উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় নয়, আশপাশের জেলার চাহিদাও পূরণ করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এই খাত আরও সম্প্রসারণে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।