স্বাধীনতাবিরোধীদের রুখে দেয়ায় উদীচী’র অভিনন্দন
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 127
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন ধরনের সহিংসতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধীদের রুখে দেয়ায় জনগণকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
শনিবার এক বিবৃতিতে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, নতুন সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাহাত্তরের সংবিধানের আলোকে দেশ পরিচালনা করবে বলে আশা করে উদীচী।
বিবৃতিতে উদীচীর নেতৃবৃন্দ বলেন, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে নানামুখী ষড়যন্ত্র ছিল। দেশজুড়ে বিভিন্ন দলের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা এবং প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা পরিলক্ষিত হয়। নির্বাচনের আগের দিন সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ টাকার বস্তাসহ জামায়াত নেতার ধরা পড়া, বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের টাকা দিতে গিয়ে জামায়াত নেতাদের ধরা পড়া, জামায়াত কর্মীকে ভোটের অবৈধ সিলসহ আটক হতে দেখা যায়। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শঙ্কা ছিল। জামায়াতের আমীর-এর নারী কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে অনভিপ্রেত বক্তব্যও লক্ষ্য করেছে দেশবাসী। এতো কিছুর পরও বড় ধরনের কোন সহিংসতা বা সংঘাত ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারায় পুরো প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত সবাইকে অভিনন্দন জানান উদীচীর নেতৃবৃন্দ।
লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাহাত্তরের সংবিধানকে খণ্ডিত করার যেকোন অপচেষ্টা রুখে দিতে নতুন সরকার এবং দেশবাসীর প্রতি আহ্বানও জানান উদীচীর নেতৃবৃন্দ। অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট আয়োজনের এখতিয়ার আছে কিনা এ প্রশ্ন সত্বেও গণভোট আয়োজন, সরকারের নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করে গণভোটের আগে হাঁ-এর পক্ষে প্রকাশ্য প্রচারণা, গণভোটের হারের সাথে নির্বাচনের ভোটদানের হারের অসামঞ্জস্য এবং কোথাও কোথাও গণভোটে হাঁ-এর পক্ষে মোট ভোটারের ২৪৪ শতাংশ পর্যন্ত ভোটদানের হারের সংবাদ প্রকাশ গণভোটকে অগ্রহণযোগ্য প্রমাণ করেছে বলে মনে করে উদীচী।
নতুন সরকারের কাছে উদীচীর প্রত্যাশার কথাও বিবৃতিতে তুলে ধরেন উদীচীর নেতৃবৃন্দ। বলেন, উদীচী আশা করে, নতুন সরকার দেশবিরোধী , সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ অপশক্তিকে কঠোর হাতে দমন করবে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মারক যেসব ভাস্কর্য, শিল্পকর্ম, জাদুঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট হয়েছে সেগুলোকে দ্রুত সংস্কার করার দাবি জানায় উদীচী। উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ছায়ানট ভবন এবং গণমাধ্যমের উপর হামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানায় উদীচী। শুধু তাই নয়, দেশজুড়ে মাজার, বাউল আখড়ায় যে নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে সেসব ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানায় উদীচী।
উদীচীর নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সরকার সংস্কৃতি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে দেশব্যাপী সংস্কৃতি চর্চার গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করবে। নিরবচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাতিকে সংস্কৃতিমনস্ক করে তোলার পরিবেশ সৃষ্টি এবং ভিন্নমত দমনের অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির আহ্বানও জানায় উদীচী।



































