সীমান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সম্ভাব্য পুশব্যাক ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে বিজিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে পুশব্যাক বাড়ার আশঙ্কা তিনি দেখছেন না, তবু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, সীমান্তে কাউকে বাংলাদেশি সন্দেহে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া হলে সেটিই পুশব্যাক হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তার মতে, এটি আলাদা নির্দেশনার বিষয় নয়; বরং প্রশাসন, পুলিশ ও বিচার বিভাগের সমন্বিত দায়িত্ব। মাঠপর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় থাকলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মাদক ও অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে অনলাইন জুয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এসব কার্যক্রম সমাজে ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই এই খাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিআইডি কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই বাস্তবতায় নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ব্লক করার চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, অতীতে এ ধরনের অপরাধ এত বিস্তৃত না থাকায় যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাদক, অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েই মোকাবিলা করা হচ্ছে।