শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এনামুল হক শামীমের প্রশ্ন
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 19
জাতীয় সংসদে আইন পাসের প্রায় তিন বছর পরও শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক পানি সম্পদ উপমন্ত্রী ও শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘শরীয়তপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না কেন?’ শিরোনামে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পটভূমি তুলে ধরে দ্রুত কার্যক্রম শুরুর দাবি জানান। তাঁর স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর ২৪ ঘণ্টায় ৯০২টি রিঅ্যাক্ট, ৮০টি মন্তব্য ও ১৫০টি শেয়ার হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্ট্যাটাসে এনামুল হক শামীম দাবি করেন, শরীয়তপুরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে ২০২১ সালের ১০ জুন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে তিনি একটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেন। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।
তিনি জানান, ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি ‘শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২২’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। পরবর্তী সময়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৩’ পাস হয়। একই বছরের ১৩ নভেম্বর সরকারি গেজেটে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩’ প্রকাশিত হয়।
আইন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কৃষিবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সম্প্রসারণ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
এনামুল হক শামীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি কেবল কৃষিশিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা ও কলা, গবেষণাসহ বিভিন্ন যুগোপযোগী বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিশিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় তৎকালীন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে আইন পাসের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তাঁর ভাষ্য, “প্রায় তিন বছর আগে অনুমোদনকৃত বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না কেন? সেটাই পরিতাপের বিষয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, আগের সরকার ক্ষমতায় থাকলে এরই মধ্যে উপাচার্য নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ, ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো।
এদিকে, ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’-এর পরিবর্তে নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়।
আইন পাসের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় শরীয়তপুরের বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ, প্রশাসনিক কাঠামো গঠন, স্থায়ী স্থান নির্ধারণ, ভূমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে জেলার উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি গবেষণা ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।




























