ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভুয়া দলিলের অভিযোগে

আগৈলঝাড়ায় লিয়াকতের মিউটেশন বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 13

ভুয়া দলিলের অভিযোগে আগৈলঝাড়ায় লিয়াকতের মিউটেশন বাতিল

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ভুয়া দলিলের মাধ্যমে ২৭ শতাংশ জমি নিজের নামে নামজারি (মিউটেশন) করার অভিযোগ উঠেছিল লিয়াকত আলী হাওলাদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর এবার তার নামে করা মিউটেশন বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের উত্তর ভাল্লুকসী মৌজার এসএ ৫৬ নম্বর খতিয়ানের ৩৭৪ নম্বর দাগ এবং বিএস ২৪৮ নম্বর খতিয়ানের ৫৪৯ নম্বর দাগের ২৭ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আগের অভিযোগে ওই জমির রেকর্ডীয় মালিক হিসেবে উপসনার নাম থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১০ আগস্টের ১৭১৯ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে লিয়াকত আলী হাওলাদার জমিটির ২৭ শতাংশ নিজের নামে নামজারি করেন। পরে দলিলটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, আগৈলঝাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নথি এবং বরিশাল নকলখানা থেকে সংগৃহীত একই নম্বরের দলিলের মধ্যে দাতা-গ্রহীতার নাম ও সম্পত্তির বিবরণে অসঙ্গতি রয়েছে।

এ ঘটনায় আজগোর আলী মৃধা বাদী হয়ে লিয়াকত আলী হাওলাদারের বিরুদ্ধে বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং ৭১/২০২৬ দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)কে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নথিতে লিয়াকত আলী হাওলাদারের নামে করা মিউটেশন বাতিলের আদেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নথিতে আগের মিউটেশন রেকর্ড বাতিলের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কথিত ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে করা নামজারি নিয়ে চলমান বিরোধে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে।

মামলার বাদী আজগোর আলী মৃধা বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তার দাবি, মিউটেশন বাতিল হওয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও দীর্ঘদিন ধরে আজগোর আলী মৃধার ওই জমি ভোগদখলের কথা জানিয়েছেন।

তবে অভিযুক্ত লিয়াকত আলী হাওলাদার এর আগে অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, বৈধ দলিলের ভিত্তিতেই তিনি মিউটেশনের আবেদন করেছিলেন। তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে তার নামে ২৭ শতাংশ জমি নামজারি করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। পরে ওই জমি অন্যদের কাছে বিক্রি করেছেন বলেও জানান লিয়াকত।

বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ আহমেদ এর আগে জানিয়েছিলেন, আবেদনকারী অনলাইনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করে মিউটেশনের আবেদন করেছিলেন। তৎকালীন কর্মকর্তা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে রেকর্ড দিয়েছিলেন। আবেদনকারী কোনো ধরনের জালিয়াতি করে থাকলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মিউটেশন বাতিলের পর এখন ১৭১৯ নম্বর দলিলটির সত্যতা, সেটি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ওই দলিলের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে জমি বিক্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতে চলমান মামলা ও সিআইডির তদন্তে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভুয়া দলিলের অভিযোগে

আগৈলঝাড়ায় লিয়াকতের মিউটেশন বাতিল

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ভুয়া দলিলের মাধ্যমে ২৭ শতাংশ জমি নিজের নামে নামজারি (মিউটেশন) করার অভিযোগ উঠেছিল লিয়াকত আলী হাওলাদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর এবার তার নামে করা মিউটেশন বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের উত্তর ভাল্লুকসী মৌজার এসএ ৫৬ নম্বর খতিয়ানের ৩৭৪ নম্বর দাগ এবং বিএস ২৪৮ নম্বর খতিয়ানের ৫৪৯ নম্বর দাগের ২৭ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আগের অভিযোগে ওই জমির রেকর্ডীয় মালিক হিসেবে উপসনার নাম থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১০ আগস্টের ১৭১৯ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে লিয়াকত আলী হাওলাদার জমিটির ২৭ শতাংশ নিজের নামে নামজারি করেন। পরে দলিলটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, আগৈলঝাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নথি এবং বরিশাল নকলখানা থেকে সংগৃহীত একই নম্বরের দলিলের মধ্যে দাতা-গ্রহীতার নাম ও সম্পত্তির বিবরণে অসঙ্গতি রয়েছে।

এ ঘটনায় আজগোর আলী মৃধা বাদী হয়ে লিয়াকত আলী হাওলাদারের বিরুদ্ধে বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং ৭১/২০২৬ দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)কে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নথিতে লিয়াকত আলী হাওলাদারের নামে করা মিউটেশন বাতিলের আদেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নথিতে আগের মিউটেশন রেকর্ড বাতিলের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কথিত ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে করা নামজারি নিয়ে চলমান বিরোধে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে।

মামলার বাদী আজগোর আলী মৃধা বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তার দাবি, মিউটেশন বাতিল হওয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও দীর্ঘদিন ধরে আজগোর আলী মৃধার ওই জমি ভোগদখলের কথা জানিয়েছেন।

তবে অভিযুক্ত লিয়াকত আলী হাওলাদার এর আগে অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, বৈধ দলিলের ভিত্তিতেই তিনি মিউটেশনের আবেদন করেছিলেন। তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে তার নামে ২৭ শতাংশ জমি নামজারি করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। পরে ওই জমি অন্যদের কাছে বিক্রি করেছেন বলেও জানান লিয়াকত।

বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ আহমেদ এর আগে জানিয়েছিলেন, আবেদনকারী অনলাইনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করে মিউটেশনের আবেদন করেছিলেন। তৎকালীন কর্মকর্তা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে রেকর্ড দিয়েছিলেন। আবেদনকারী কোনো ধরনের জালিয়াতি করে থাকলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মিউটেশন বাতিলের পর এখন ১৭১৯ নম্বর দলিলটির সত্যতা, সেটি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ওই দলিলের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে জমি বিক্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতে চলমান মামলা ও সিআইডির তদন্তে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।