লোকঐতিহ্যের নানান পরিবেশনায় শুরু হলো চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 104
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলেও জনগন আস্থা বিশ্বাস থেকে বর্তমান সরকারকে গ্রহণ করেছে। ”
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে চৈত্র সংক্রান্তি ১৪৩২ অনুষ্ঠানের প্রথম দিন একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ভবনে বাংলাদেশের লোকশিল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি।
পহেলা বৈশাখ আয়োজন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আগামিকাল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে আমরা নানামুখী কর্মসূচী হাতে নিয়েছি। পহেলা বৈশাখ আসলে কৃষকের সংস্কৃতি। এদেশের মানুষ আগে কখনই ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বাহিরে/ অন্য দেশে যায় নি। বরং বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটক মনিষীরা এদেশে এসেছে।
কিন্তু ঐতিহাসিক নানা কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি। তবে আমরা বিশ্বাস করি সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারলে আমাদের হারানো গৌরব আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারবো। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আমরাই আবার সেরা হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবো ”।
পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা, লোকশিল্প প্রদর্শনী এবং বৈশাখী মেলা।
নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং লোকসাহিত্যের নানান উপকরণ ও অনুষ্ঠানমালায় সাজানো হয়েছে বর্ষবরণের এ আয়োজন।
ঢাক ঢোল, লাঠিখেলা, ঘুড়ি উড়ানো, লাটিম খেলা, জারিগান, সারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠ, যাত্রাপালা, কবিগান, গাজির গান, গম্ভীরা, ভাওয়াইয়া গান, পুতুলনাট্য পরিবেশনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বৈশাখী মেলার বৈচিত্রপূর্ণ আয়োজন থাকছে বর্ষবরণে।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নূরুল ইসলাম মনি এমপি, চিফ হুইপ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সভাপতিত্ব করেন কানিজ মওলা সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
উদ্বোধনী দিনে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার শুরুতে ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয়েছে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’। এরপর একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণের এ আয়োজনে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে ধামাইল নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এরপর পরিবেশিত হয়েছে লোকসংগীত, জারিগান, পটগান ও পুঁথি পাঠ। বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশনা ছিলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্যে ।
সবশেষে মঞ্চস্থ হয়েছে লোকসাহিত্যের অন্যতম উপাদান, গ্রামীণ বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম যাত্রাপালা: ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’। পরিবেশন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি যাত্রাদল।
বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পহেলা বৈশাখে ২য় দিনের আয়োজন শুরু হবে বিকাল ৪ টায়। এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন জহির উদ্দিন স্বপন এমপি, মন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বিশেষ অতিথি থাকবেন ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এছাড়াও বিশেষ অতিথি থাকবেন মোঃ আব্দুস সালাম, প্রশাসক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।
সভাপতিত্ব করবেন কানিজ মওলা, সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দিবেন শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। এছাড়া ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সচিব, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ঢাকঢোল বাদনের ছন্দে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সাংস্কৃতিক পর্বে শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে শতকণ্ঠে জাতীয় সংগীত এবং ‘এসো হে বৈশাখ’।
এছাড়া পরিবেশিত হবে কবিগান, গাজীর গান, গম্ভীরা ও বাউল গান। থাকবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনা। আরও থাকবে তারকা শিল্পীদের ও ব্যান্ড সংগীত পরিবেশনা।
এছাড়া ১৩-১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা চলবে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। বণার্ঢ্য অনুষ্ঠানমালা সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


























