রেলে সেবা উন্নয়নে বেসরকারি বিনিয়োগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
- / 23
রেল খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত হলে যাত্রীসেবার মান আরও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।
বুধবার মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেলব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে বেসরকারি অংশগ্রহণের সুযোগ বিবেচনায় রাখা হচ্ছে, যদিও নিয়ন্ত্রণ থাকবে সরকারের হাতেই।
তিনি জানান, রেলকে ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ চলছে, তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এর পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং পুরনো লাইনের সংস্কারও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, রেল বর্তমানে লোকোমোটিভ সংকটে রয়েছে। মিটারগেজ ও ব্রডগেজ ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতা এবং পুরনো ইঞ্জিনের কারণে চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে, বিশেষ করে ঈদের মতো সময়গুলোতে চাপ আরও বেড়ে যায়।
আর্থিক অবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রেল এখনো বড় ধরনের ঘাটতিতে চলছে—আয়ের তুলনায় ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
রেলের অব্যবহৃত ও বেদখল জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। এসব জমি পরে সৌরবিদ্যুৎ, বনায়ন কিংবা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
সেবার মান উন্নয়নে শুধু আধুনিক ট্রেন সংযোজন নয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও কর্মীদের আচরণেও পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। এজন্য মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায় শুধু চালক বা গার্ডের নয়, সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
নারায়ণগঞ্জ রুটে ডেমু ট্রেন চালুর বিষয়ে তিনি জানান, এ খাতে নতুন সরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেই। তবে বেসরকারি আগ্রহ এলে তা বিবেচনা করা হতে পারে। সামগ্রিকভাবে রেলকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যেই সরকার এগোচ্ছে।































