ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিডিয়ায় জেন্ডার সংবেদনশীলতার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 37

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “আমাদের সবাইকে একই অবস্থানে এসে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যাতে সংবাদ সংস্থা, পেশাদার সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিকদের মধ্যে একটি যৌথ মূল্যবোধের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। এই প্রচেষ্টার কেন্দ্রে থাকতে হবে জবাবদিহিতা।

“পেশাদারিত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না দিলে ক্ষতিকর চর্চা অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম, উভয় ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র জবাবদিহিতার একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি গড়ে তুললেই আমরা একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল গণমাধ্যম নিশ্চিত করতে পারব এবং জেন্ডার সংবেদনশীল সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নিতে পারব।”

বুধবার (২২ এপ্রিল ) দেশের গণমাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল চর্চা জোরদারের লক্ষ্যে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-এ “সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা” শীর্ষক একটি ম্যানুয়ালের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, জহির উদ্দিন স্বপন এ কথা বলেন।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে “সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি” প্রকল্পের আওতায় এটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটি জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সহযোগিতায় এবং নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস ।

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এবং ম্যানুয়ালটি উপস্থাপন করেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিন। ম্যানুয়ালটি পর্যালোচনা করেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ইনফ্লুয়েন্সিং, ক্যাম্পেইন ও কমিউনিকেশনস বিভাগের পরিচালক নিশাত সুলতানা।

কবিতা বোস বলেন, “আজকের সময়ে গণমাধ্যম সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। এই ম্যানুয়ালটি গণমাধ্যমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, এবং এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গণমাধ্যমকে আরও সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করছে।”

ম্যানুয়ালটি সবার অংশগ্রহণে এবং বিভিন্ন ধাপে কাজ করে তৈরি করা যেখানে দেশের কেন্দ্র ও বিভিন্ন অঞ্চলের গণমাধ্যমের প্রায় ২০০ জন সাংবাদিক,যাদের মধ্যে ৪০ জন নারী সাংবাদিকের অংশগ্রহণে পরামর্শসভা, কর্মশালা এবং নিড অ্যাসেসমেন্ট পরিচালিত হয়েছে।

মাহবুবা ফারজানা বলেন, “এই ম্যানুয়ালটি, অন্তর্ভুক্তির প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন, এবং এর দেওয়া নির্দেশনাগুলো আমাদের গ্রহণ করতে হবে। সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে, কারণ অর্থবহ পরিবর্তন আপনাদের নেতৃত্ব থেকেই আসবে। সবাই মিলে একসাথে কাজ করলে আমরা বিদ্যমান ব্যবধানগুলো দূর করতে পারব এবং একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে এগিয়ে যেতে পারব। আইন থাকলেও, প্রকৃত অগ্রগতির জন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।”

শবনম মোস্তারী বলেন, “জেন্ডার সমতা কেবল নীতিমালায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।এটি আমাদের দৈনন্দিন চর্চা, বিশেষ করে গণমাধ্যমে প্রতিফলিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সংবাদ উপস্থাপন, ভাষার ব্যবহার এবং কার কণ্ঠ আমরা তুলে ধরছি,এই প্রতিটি ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

এর মাধ্যমেই আমরা একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে এগিয়ে যেতে পারবো। ম্যানুয়ালটিতে নৈতিক সাক্ষাৎকার গ্রহণের নির্দেশিকা, সংবাদ যাচাইয়ের জন্য সম্পাদকীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এবং দর্শক-পাঠকের প্রতিক্রিয়া জানানোর একটি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।”

ফারুক ওয়াসিফ বলেন, “গণমাধ্যমে নারীদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, তা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এই ম্যানুয়ালটি সাংবাদিকদের আরও জেন্ডার সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপন নিশ্চিত করতে ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা প্রদান করবে ।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মিডিয়ায় জেন্ডার সংবেদনশীলতার আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “আমাদের সবাইকে একই অবস্থানে এসে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যাতে সংবাদ সংস্থা, পেশাদার সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিকদের মধ্যে একটি যৌথ মূল্যবোধের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। এই প্রচেষ্টার কেন্দ্রে থাকতে হবে জবাবদিহিতা।

“পেশাদারিত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না দিলে ক্ষতিকর চর্চা অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম, উভয় ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র জবাবদিহিতার একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি গড়ে তুললেই আমরা একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল গণমাধ্যম নিশ্চিত করতে পারব এবং জেন্ডার সংবেদনশীল সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নিতে পারব।”

বুধবার (২২ এপ্রিল ) দেশের গণমাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল চর্চা জোরদারের লক্ষ্যে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-এ “সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা” শীর্ষক একটি ম্যানুয়ালের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, জহির উদ্দিন স্বপন এ কথা বলেন।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে “সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি” প্রকল্পের আওতায় এটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটি জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সহযোগিতায় এবং নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস ।

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এবং ম্যানুয়ালটি উপস্থাপন করেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিন। ম্যানুয়ালটি পর্যালোচনা করেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ইনফ্লুয়েন্সিং, ক্যাম্পেইন ও কমিউনিকেশনস বিভাগের পরিচালক নিশাত সুলতানা।

কবিতা বোস বলেন, “আজকের সময়ে গণমাধ্যম সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। এই ম্যানুয়ালটি গণমাধ্যমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, এবং এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গণমাধ্যমকে আরও সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করছে।”

ম্যানুয়ালটি সবার অংশগ্রহণে এবং বিভিন্ন ধাপে কাজ করে তৈরি করা যেখানে দেশের কেন্দ্র ও বিভিন্ন অঞ্চলের গণমাধ্যমের প্রায় ২০০ জন সাংবাদিক,যাদের মধ্যে ৪০ জন নারী সাংবাদিকের অংশগ্রহণে পরামর্শসভা, কর্মশালা এবং নিড অ্যাসেসমেন্ট পরিচালিত হয়েছে।

মাহবুবা ফারজানা বলেন, “এই ম্যানুয়ালটি, অন্তর্ভুক্তির প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন, এবং এর দেওয়া নির্দেশনাগুলো আমাদের গ্রহণ করতে হবে। সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে, কারণ অর্থবহ পরিবর্তন আপনাদের নেতৃত্ব থেকেই আসবে। সবাই মিলে একসাথে কাজ করলে আমরা বিদ্যমান ব্যবধানগুলো দূর করতে পারব এবং একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে এগিয়ে যেতে পারব। আইন থাকলেও, প্রকৃত অগ্রগতির জন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।”

শবনম মোস্তারী বলেন, “জেন্ডার সমতা কেবল নীতিমালায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।এটি আমাদের দৈনন্দিন চর্চা, বিশেষ করে গণমাধ্যমে প্রতিফলিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সংবাদ উপস্থাপন, ভাষার ব্যবহার এবং কার কণ্ঠ আমরা তুলে ধরছি,এই প্রতিটি ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

এর মাধ্যমেই আমরা একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে এগিয়ে যেতে পারবো। ম্যানুয়ালটিতে নৈতিক সাক্ষাৎকার গ্রহণের নির্দেশিকা, সংবাদ যাচাইয়ের জন্য সম্পাদকীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এবং দর্শক-পাঠকের প্রতিক্রিয়া জানানোর একটি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।”

ফারুক ওয়াসিফ বলেন, “গণমাধ্যমে নারীদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, তা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এই ম্যানুয়ালটি সাংবাদিকদের আরও জেন্ডার সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপন নিশ্চিত করতে ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা প্রদান করবে ।”