মা-ছেলের একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা
- সর্বশেষ আপডেট ০২:২৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
- / 35
নাটোরের লালপুরে জীবনের নানা প্রতিকূলতা জয় করে ৪০ বছর বয়সে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় বসেছেন ফুলঝড়ি বেগম। তিনি এবং তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে মনিরুল ইসলাম উপজেলার মধুবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোকেশনাল শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। ভ্যানচালক স্বামীর সহযোগিতায় এই বয়সে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং নারী শিক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
নাটোরের লালপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফুলঝড়ি বেগম প্রমাণ করেছেন যে, শিক্ষার কোনো বয়স নেই। ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তার পড়াশোনার স্বপ্ন অধরা রয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে মা-ছেলের একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। দিনমজুর ও ভ্যানচালক স্বামীর সীমিত আয়ের সংসারে নানা অভাব-অনটন থাকলেও সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করার পাশাপাশি নিজের স্বপ্ন পূরণেও তিনি অবিচল রয়েছেন।
ফুলঝড়ি বেগম জানান, সমাজের অনেকে কটু কথা বললেও তার পরিবার তাকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। বড় মেয়ে নার্সিং শেষ করে চাকরিতে যোগ দেওয়ায় এবং ছেলে মনিরুলের উৎসাহে তিনি পুনরায় বই হাতে তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে মা-ছেলের একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। মনিরুলও জানায়, মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে পেরে সে অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ এই ঘটনাকে দেশের নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান যে, মা-ছেলের একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে বয়স্ক শিক্ষা ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুলঝড়ি বেগমকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। পরিশেষে বলা যায়, সমাজের বাধা উপেক্ষা করে ফুলঝড়ি বেগমের এই শিক্ষা সফর অন্যদের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা।




































