ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে নীলফামারীর কৃষকদের হতাশা
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
- / 14
নীলফামারীতে বোরো ধানের ভালো ফলন হলেও বাজারে দাম না থাকায় বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছেন কৃষকেরা। উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বাড়লেও সেই তুলনায় ধানের মূল্য না পাওয়ায় অনেকেই লোকসানের হিসাব কষতে বাধ্য হচ্ছেন।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন পুরোদমে ধান কাটার কাজ চলছে। দিগন্তজোড়া মাঠে সোনালি শীষ কাটতে ব্যস্ত কৃষক, কেউ ধান বাঁধছেন, কেউ আবার ভ্যানে করে বাড়ি নিচ্ছেন ফসল। তবে এই ব্যস্ততার মাঝেও তাদের মুখে স্বস্তির চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে হতাশা।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮১ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯০১ মেট্রিক টন চাল। এরই মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে।
চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, উৎপাদন খরচ বাড়লেও ফসলের ন্যায্যমূল্য মিলছে না। তার ভাষায়, “সব কিছুর দাম বাড়ছে, কিন্তু আমরা যে ফসল ফলাই তার দাম নেই। এতে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”
কিসামত ভুটিয়ান এলাকার কৃষক আব্দুল জলিল হোসেন বলেন, ধান চাষে লাভ তো দূরের কথা, খরচও উঠছে না। তার হিসেবে দুই বিঘা জমিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি করে মিলবে তার চেয়ে কম। তাই ভবিষ্যতে ধান না চাষ করে ভুট্টার দিকে ঝুঁকবেন বলে জানান তিনি।
লক্ষীচাপ এলাকার কৃষক ললিত চন্দ্র রায় জানান, ফলন ভালো হলেও দাম কমে যাওয়ায় আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলছে না। অন্যদিকে শহরের কৃষক রজব আলী বিদ্যুৎ, সার ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়াকে বড় চাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মীরগঞ্জ হাটের চিত্রও একই রকম। এক সপ্তাহ আগে যেখানে ধান বিক্রি হয়েছিল তুলনামূলক বেশি দামে, এখন সেখানে প্রতি মণে কয়েকশ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক কম দামে ধান বিক্রি করছেন।
স্থানীয় কৃষক সংগঠনের নেতারা বলছেন, সেচ, সার, কীটনাশক থেকে শুরু করে শ্রমিক খরচ—সবকিছুই বেড়েছে। কিন্তু ধানের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি, বরং কমতির দিকে। এতে কৃষকের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে জেলা কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণও কম ছিল। তবে বাজারে দাম কম থাকায় কৃষকেরা কিছুটা চাপের মুখে আছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, জেলায় কম্বাইন হারভেস্টারসহ আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে ধান কাটার কাজ চলছে, যাতে কৃষকের শ্রম কিছুটা হলেও কমে আসে।




































