ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে

মাদক পার্টিতে গ্রামীণফোন-এশিয়াটিকের কর্মকর্তারা, তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 70

মাদক পার্টিতে গ্রামীণফোন-এশিয়াটিকের কর্মকর্তারা, তদন্ত

রাজধানীর পূর্বাচলসংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স হাউজিংয়ে ওএসডি অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের বাসায় রাতভর পার্টি, মাদক ও মদ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। ওই আয়োজনে দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল বলে অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযানের সময় তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৪ থেকে ১৫ জন স্থান ত্যাগ করে চলে যান বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁদের পরিচয়, সেখানে উপস্থিতির উদ্দেশ্য এবং আয়োজকদের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিজ্ঞাপনী ও জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিক গ্রুপের কয়েকটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান- মাইন্ডশেয়ার, এএমএল ও কমিউনিকেশনসের অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা ওই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি), প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, ফিলিপ মরিস, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও এসিআই মোটরসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতির কথাও বলা হচ্ছে।

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল গত সোমবার রাতে ওই বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় প্রভাবশালী মহল থেকে তদবির ও চাপ এসেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে এসব চাপের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযান শেষে ৫৯ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও জরিমানা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পুরুষদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নারীদের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের কেউ কেউ এশিয়াটিক গ্রুপের বিভিন্ন ক্লায়েন্টের হয়ে কাজ করতেন বলেও দাবি করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের কয়েকজনের পরিচয়, ঠিকানা ও পেশা যাচাই নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের ভাষ্য।

ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলীমের ভাষ্য, তাঁদের থানায় হস্তান্তর না করে সরাসরি ডিবির তত্ত্বাবধানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা ও জরিমানা দেওয়া হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই পার্টির সঙ্গে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ নারায়ণ পাল এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরার সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত ১২ অক্টোবর পল্লবী ও বনানী থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে সূত্র জানিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের তহবিল-সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়ার দাবিও সামনে এসেছে।

ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ডিআইজির বাসাটি নিয়মিত ডিজে পার্টির আড়ালে মাদক ও অন্যান্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হতো। তল্লাশিতে গাঁজা, ইয়াবা, মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও যৌন সামগ্রী উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এসব আয়োজনের মাধ্যমে কোনো গোষ্ঠী নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে লোকজনকে সংগঠিত বা নিয়োগ করত কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এশিয়াটিক গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফরথট পিআর ও ব্ল্যাকবোর্ডের আয়োজনে ২০২১ সালে ঢাকার অদূরে সারা রিসোর্টে একটি রাতের পার্টি ঘিরে বিষাক্ত মদ্যপানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর পাশাপাশি কয়েকজনের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছিলেন বলে তৎকালীন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

১৫ দিনের কারাদণ্ড পাওয়া ২৬ নারী

অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়ি থেকে আটক ২৬ নারীকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করা কেএম সাওফা সিলভি (২৬), পিতা-কেএম এনায়েতুর করিম; এশিয়াটিকের কর্মকর্তা ও মিরপুরের কনটেন্ট ক্রিয়েটর আফসানা বুলবুল (২৭), পিতা-হামিদ নেওয়াজ; এশিয়াটিকের আরেক কর্মকর্তা সামজানা মেহজাবীন (২৬), পিতা-ইদ্রিস আলী। মেহজাবীন নিজেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তার দেওয়া তথ্য ভুয়া বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তালিকায় আরও রয়েছেন টঙ্গীর এবিএ গার্মেন্টসের কর্মকর্তা ফারিয়া জামান (২৬), পিতা-আক্তারুজ্জামান; ক্লোথিং ব্র্যান্ডের উদ্যোক্তা ফারিয়া সুন্নাহ (২৭), পিতা-ফেরদৌস আলী; সিটি ব্যাংকের অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার নিশাত সাল সাবিল মিম (২৭), পিতা-নুরুল ইসলাম; ধানমন্ডির একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী মালিহা, পিতা-আব্দুল বাতেন; এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সারিকা (২৫), পিতা-আব্দুল হান্নান চৌধুরী।

তালিকায় আরও আছেন গেট লিবরেজের অপারেশন স্পেশালিস্ট রিফা (২৬), পিতা-শাহ আলম; মোহাম্মদপুরের ইফতিদা (২৩), পিতা-মিন্টু; প্যানস্টোন একাডেমির ছাত্রী নায়মা, পিতা-আমিনুল ইসলাম; ক্লোথিং ব্র্যান্ডের উদ্যোক্তা মুনমুন রায় বর্ষা (২৫), পিতা-বিমল রায়; রাজধানীর কাওলা সিভিল অ্যাভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী তাসকিন হোসাইন রাহা (১৯), পিতা-তানভীর হোসেন; আইইউবি থেকে অনার্স সম্পন্ন করা হৃদি (২৪), পিতা-মমিনুর রশিদ; এসিআই মোটরসের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইয়ামাহা মোটরের প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ নাছরিন সুলতানা (২৬), পিতা-জামান হোসেন; ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কনসালট্যান্ট ও গ্রামীণফোনে ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত সায়মা (২৬), পিতা-মঞ্জুরুল মাওলা; এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট কোম্পানির ফ্রিল্যান্সার ও এশিয়াটিকে কর্মরত ওয়াফা (৩২), পিতা-রফিক।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কল সেন্টারে কর্মরত মোহাম্মদপুরের আনিকা বেলাল করিম (৩০), পিতা-আনিস মাহমুদ; স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মালিহা (২৬), পিতা-জাকির রহমান; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আফরা (২৪), পিতা-আব্দুল মান্নান; মিরপুরের বিইউপির সাবেক ছাত্রী সামরাইন (২৩), পিতা-শফি ইকবাল; আইইউবির ছাত্রী সোহা (২১), পিতা-শফি ইকবাল; মিরপুর ডিওএইচএসের সাবরিনা (১৯), পিতা-সিহাব ইকবাল; বিইউপির ছাত্রী জারিন তাসনিম (২৬), পিতা-মেজর (অব.) সোয়েব; যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটিতে আসা সামিয়া (২৫), পিতা-কামরুজ্জামান; এবং চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ছাত্রী রুবাবা মোহাম্মদী (২৫), পিতা-আব্দুল কাদির।

৫৯ যুবকের এক মাসের কারাদণ্ড

অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়ি থেকে মাদকদ্রব্যসহ আটক ৫৯ পুরুষকে এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামের এনায়েত বাজারের সুকেন্দু বিকাশ বড়ুয়ার ছেলে রানা বড়ুয়া (৩৮); মিরপুর ডিওএইচএসের শহিদুল হাসানের ছেলে নাদবি হাসান (২৬); উত্তর ইব্রাহিমপুরের আবু জাফর মোল্লার ছেলে সাদমান রাফিক (২৫); উত্তরা পশ্চিমের মৃন্ময় গুহের ছেলে পরম গুহ (২৬); ধানমন্ডির আবু মো. শফিউল আজমের ছেলে আবু মো. মুহসিউল আজম (৩২); গ্রিন রোডের উমর আল ফারুকের ছেলে মোরসালিন (২৪); গুলশান-২-এর এহসানুল হকের ছেলে রাইয়ান আব্দুল্লাহ সাকিবুল হক (২৭); মিরপুর ডিওএইচএসের শহিদ উল্ল্যার ছেলে রামিম আল রাফি নাসিম (২৫); ধানমন্ডির সেলিস এইচআর-এ ইন্টার্ন হিসেবে কর্মরত শেওড়াপাড়ার ইছাক আলীর ছেলে সাদমান সাকিব (২৮); এবং ধানমন্ডির পাভেল শাহাবুদ্দিনের ছেলে আল শাহরিয়ার রুদ্র (২২), যিনি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) শিক্ষার্থী।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন পশ্চিম শেওড়াপাড়ার আহসান হাবীব সুমনের ছেলে সাদমান বিন আহসান (২৫), যিনি গুলশান-১-এর ‘ইটিআই বাংলাদেশ’ এনজিওতে কর্মরত; বনানীর আব্দুল ছাত্তারের ছেলে হানজালা নূর সাঈদ (২৭), যিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী; পশ্চিম মালিবাগের শাহ মো. জুবায়ের হোসেনের ছেলে শাহ মো. শাফায়েত হোসেন (২২), তিনিও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী; ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি চত্বরের আব্দুর রহমানের ছেলে নাঈমুর রহমান (২৬), যিনি গাজীপুরের আইইউটির শিক্ষার্থী; উত্তর বাড্ডার ইমরুল আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম রাফি (২৬), যিনি উত্তরার শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী; ধানমন্ডি-৩২-এর কামরুল ইসলামের ছেলে হাসিব খান (২৬), যিনি আইইউবির শিক্ষার্থী; এবং বনানীর নিয়ামত উদ্দিন আহমেদের ছেলে তাওহিদ (২৭), যিনি ফিলিপ মরিসের (মালবোরো) ম্যানেজার।

এ ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন পল্লবীর নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সাদাত (২৮), যিনি মারভেল কোম্পানির কমিউনিকেশন লিড বা জনসংযোগ কর্মকর্তা; কাফরুলের জাহাঙ্গীর হারুনের ছেলে জিফান তাহমিদ (২৯), যিনি ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ব্যবসায়ী; বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার শাহিন ভূঁইয়া (৩২); ইসিবি চত্বরের জামাল হোসেন সিকদারের ছেলে জুবায়ের সিকদার (২৫), যিনি বিইউপির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী; পুরান ঢাকার কোতোয়ালির ফারিয়াজ আরজুর ছেলে ফারাহিম ফাইয়াজ (২৭), যিনি ইস্ট ওয়েস্ট ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের সেলস অ্যান্ড রিজার্ভেশন অফিসার; উত্তর কাফরুলের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে শায়ান কিবরিয়া (১৯), যিনি আদমজী কলেজের শিক্ষার্থী ও এইচএসসি পাস; খিলক্ষেত লেকসিটির বাবর আলীর ছেলে মাহবুবুল আলম (৩৮), যিনি গোল্ডেন সানরাইজের ম্যানেজার; কলাবাগান সেন্ট্রাল রোডের সোহেল আহমেদের ছেলে ফারহান আহমেদ (২৫), যিনি বিইউপির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী; এবং কাঁঠালবাগানের জয়নাল আবেদিনের ছেলে আইমান আবেদিন রাফিন (২৫), যিনি একটি অনলাইন পেজের মডারেটর।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন মোহাম্মদপুরের শেখ ফজলুল হকের ছেলে শেখ ফাহিম হক (২৬), যিনি আইইউবির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী; ভাটারার ব্লক-জির মির্জা বকুলের ছেলে মির্জা আরেফিন (২৭); পল্লবীর এমএ গফুরের ছেলে মেহরাব রহমান (২৬), যিনি বিইউপির এমবিএর শিক্ষার্থী; রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসন এলাকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকিরের ছেলে হিম (১৯), যিনি বিইউপির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী; মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের হাসান মোহাম্মদ তানভির ইমতিয়াজের ছেলে রাশিক ইভতেসাম (২০), যিনি আদমজী কলেজের শিক্ষার্থী ও এইচএসসি পাস; ভাটারার রাশেদুল হকের ছেলে রাফিয়াদ দারাজাদ হক (২৩), যিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী; কোতোয়ালির নবাবপুর রোডের এরফান হাসান (৩০), যিনি ঢাকা ট্রিবিউনের সাবেক সাংবাদিক; এবং ধানমন্ডির ড. হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহমুদ ফাহিম রহমান শান্ত (২৫), যিনি কিংস কলেজ লন্ডনের শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলাম তানজিম (২৭), যিনি প্রাণ-আরএফএলের ব্র্যান্ড ম্যানেজার; শাহজাহানপুরের শহীদবাগের মঈনুল হকের ছেলে সাফওয়ান হক (২৭), যিনি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী; বসুন্ধরার জামাল উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে রাফি আহমেদ চৌধুরী (২২), যিনি এআইইউবির শিক্ষার্থী; কাফরুলের মো. মনিরুজ্জামানের ছেলে মাফি মুস্তাফা (২৫), যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইনভিজিবল টেকের ডেটা অ্যানালিস্ট; আফতাবনগরের শফিক উল্লাহর ছেলে তানজির আহমেদ (৩১), যিনি এশিয়াটিক মিডিয়া লিমিটেডের (এএমএল) সিনিয়র ম্যানেজার; মিরপুর-১২ পল্লবীর মো. মাইনুদ্দিনের ছেলে সাজিদ মাহমুদ (২৬), যিনি এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ার বিডির কৌশলগত কর্মকর্তা; উত্তর বাসাবোর মহসিন সরকারের ছেলে ফাইজাল আলভি সরকার আদব (২৫), যিনি এআইইউবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী; এবং ধানমন্ডির মাহফুজুর রহমানের ছেলে ওমর বিন মাহফুজ (২৪), যিনি ফোর ট্রেডার্স লিমিটেডের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।

দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় আরও রয়েছেন বসুন্ধরার সাজ্জাদুল আলম সেজান (২৭); মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের আব্দুস সালামের ছেলে ফয়সাল আহমেদ (২৪), যিনি এমআইএসটির শিক্ষার্থী ও রিসার্চ অ্যানালিস্ট; ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা বাজারের ইসমাইল হোসেনের ছেলে তানজিদ ইসলাম সিয়াম (১৯), যিনি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী; বনশ্রী-রামপুরার মিজান মাওলার ছেলে আফতাবুল মাওলা রাব্বি (২৪), যিনি প্রাইমটেক্স লিমিটেডের সিনিয়র ভেন্ডর ম্যানেজার; পশ্চিম রামপুরার ইয়ামিন খানের ছেলে ইউসুফ খান পলক (২৫), যিনি বিআইইউপির সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী; এবং ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি এলাকার মাইনুদ্দিন মানিকের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৬), যিনি আইইউবিএটির বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া রয়েছেন উত্তর কাফরুলের সুলতান আহমেদের ছেলে ফেরদৌস আহমেদ (৩০), যিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগে কর্মরত; শান্তিনগরের শাহ নিয়াজ আকনের ছেলে হাসান হাফিজুর (২৭); খিলক্ষেতের রেজাউল করিমের ছেলে সাজিউর রহমান (২৬); শান্তিনগরের শহিদুল আলম চৌধুরীর ছেলে হামেদ হাসান (২৪); শান্তিনগরের মহিউদ্দিন খানের ছেলে ফারহান খান সাদাফ (২৫); দক্ষিণখানের কাজী তাহমিদ ইসলাম (২৮), যিনি এশিয়াটিকের কমনিওর কোম্পানিতে এসডিআর পদে কর্মরত; লালমাটিয়ার শেখ মনিরুল আলম টিটুর ছেলে শেখ অধ্যায় আলম (২৩); মিরপুর-১০-এর মাসুদ রানার ছেলে আরিয়ান মানাভ (২৭); পশ্চিম শেওড়াপাড়ার জলিল উদ্দিনের ছেলে নাহিন আলী জাকি (২৬); মিরপুর ডিওএইচএসের জামাল হোসেনের ছেলে তাজওয়ার তাহমিদ জামাল (২৬); এবং ঢাকার কাঁটাবন রোডের শেখ ফরিদ হোসেন চৌধুরীর ছেলে আইমান শাবিত চৌধুরী (২৫)।

গত মঙ্গলবার আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের স্বাক্ষরিত আদেশে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে ওএসডি করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ি নির্মাণ ও জমি কেনার অর্থের উৎস খতিয়ে দেখছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। বাড়িটি ভাড়া নিয়ে দেশি-বিদেশি অনেকে রাতযাপন ও পার্টি করতেন বলেও জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে ছয় কাঠা জমির ওপর নির্মিত তিনতলা বাড়িটি অনলাইনে ‘এয়ারবিএনবি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো। জহির বাড়িটি পরিচালনার জন্য মাহবুব আলম নামে একজনকে ‘কো-হোস্ট’ হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, ওই বাড়ি থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার ৭০ শতাংশ টাকা জহিরের অ্যাকাউন্টে জমা হতো এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ মাহবুব নিতেন।

অভিযান পরিচালনাকারী ডিবি উত্তরা বিভাগের ডিসি ইলিয়াস কবির জানান, বাড়িটিতে নিয়মিত ডিজে পার্টির আড়ালে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলত। এসব আয়োজনে এশিয়াটিক, গ্রামীণফোন, প্রাণ-আরএফএল ও এসিআই মটরসসহ বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ছিল।

পাঁচ কক্ষের বাড়িটিতে প্রতি রুমে ১০ জন পর্যন্ত ভাড়া নিতেন আয়োজকেরা। অতিরিক্ত প্রত্যেকের জন্য নেওয়া হতো ৬০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি। দুপুর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত চলা এসব আয়োজনে মাসে ১৮-২০টি অনুষ্ঠান হতো, প্রতিটি থেকে মিলত লাখ টাকা ভাড়া। তল্লাশিতে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে

মাদক পার্টিতে গ্রামীণফোন-এশিয়াটিকের কর্মকর্তারা, তদন্ত

সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর পূর্বাচলসংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স হাউজিংয়ে ওএসডি অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের বাসায় রাতভর পার্টি, মাদক ও মদ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। ওই আয়োজনে দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল বলে অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযানের সময় তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৪ থেকে ১৫ জন স্থান ত্যাগ করে চলে যান বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁদের পরিচয়, সেখানে উপস্থিতির উদ্দেশ্য এবং আয়োজকদের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিজ্ঞাপনী ও জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিক গ্রুপের কয়েকটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান- মাইন্ডশেয়ার, এএমএল ও কমিউনিকেশনসের অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা ওই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি), প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, ফিলিপ মরিস, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও এসিআই মোটরসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতির কথাও বলা হচ্ছে।

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল গত সোমবার রাতে ওই বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় প্রভাবশালী মহল থেকে তদবির ও চাপ এসেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে এসব চাপের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযান শেষে ৫৯ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও জরিমানা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পুরুষদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নারীদের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের কেউ কেউ এশিয়াটিক গ্রুপের বিভিন্ন ক্লায়েন্টের হয়ে কাজ করতেন বলেও দাবি করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের কয়েকজনের পরিচয়, ঠিকানা ও পেশা যাচাই নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের ভাষ্য।

ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলীমের ভাষ্য, তাঁদের থানায় হস্তান্তর না করে সরাসরি ডিবির তত্ত্বাবধানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা ও জরিমানা দেওয়া হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই পার্টির সঙ্গে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ নারায়ণ পাল এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরার সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত ১২ অক্টোবর পল্লবী ও বনানী থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে সূত্র জানিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের তহবিল-সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়ার দাবিও সামনে এসেছে।

ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ডিআইজির বাসাটি নিয়মিত ডিজে পার্টির আড়ালে মাদক ও অন্যান্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হতো। তল্লাশিতে গাঁজা, ইয়াবা, মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও যৌন সামগ্রী উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এসব আয়োজনের মাধ্যমে কোনো গোষ্ঠী নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে লোকজনকে সংগঠিত বা নিয়োগ করত কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এশিয়াটিক গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফরথট পিআর ও ব্ল্যাকবোর্ডের আয়োজনে ২০২১ সালে ঢাকার অদূরে সারা রিসোর্টে একটি রাতের পার্টি ঘিরে বিষাক্ত মদ্যপানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর পাশাপাশি কয়েকজনের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছিলেন বলে তৎকালীন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

১৫ দিনের কারাদণ্ড পাওয়া ২৬ নারী

অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়ি থেকে আটক ২৬ নারীকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করা কেএম সাওফা সিলভি (২৬), পিতা-কেএম এনায়েতুর করিম; এশিয়াটিকের কর্মকর্তা ও মিরপুরের কনটেন্ট ক্রিয়েটর আফসানা বুলবুল (২৭), পিতা-হামিদ নেওয়াজ; এশিয়াটিকের আরেক কর্মকর্তা সামজানা মেহজাবীন (২৬), পিতা-ইদ্রিস আলী। মেহজাবীন নিজেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তার দেওয়া তথ্য ভুয়া বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তালিকায় আরও রয়েছেন টঙ্গীর এবিএ গার্মেন্টসের কর্মকর্তা ফারিয়া জামান (২৬), পিতা-আক্তারুজ্জামান; ক্লোথিং ব্র্যান্ডের উদ্যোক্তা ফারিয়া সুন্নাহ (২৭), পিতা-ফেরদৌস আলী; সিটি ব্যাংকের অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার নিশাত সাল সাবিল মিম (২৭), পিতা-নুরুল ইসলাম; ধানমন্ডির একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী মালিহা, পিতা-আব্দুল বাতেন; এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সারিকা (২৫), পিতা-আব্দুল হান্নান চৌধুরী।

তালিকায় আরও আছেন গেট লিবরেজের অপারেশন স্পেশালিস্ট রিফা (২৬), পিতা-শাহ আলম; মোহাম্মদপুরের ইফতিদা (২৩), পিতা-মিন্টু; প্যানস্টোন একাডেমির ছাত্রী নায়মা, পিতা-আমিনুল ইসলাম; ক্লোথিং ব্র্যান্ডের উদ্যোক্তা মুনমুন রায় বর্ষা (২৫), পিতা-বিমল রায়; রাজধানীর কাওলা সিভিল অ্যাভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী তাসকিন হোসাইন রাহা (১৯), পিতা-তানভীর হোসেন; আইইউবি থেকে অনার্স সম্পন্ন করা হৃদি (২৪), পিতা-মমিনুর রশিদ; এসিআই মোটরসের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইয়ামাহা মোটরের প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ নাছরিন সুলতানা (২৬), পিতা-জামান হোসেন; ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কনসালট্যান্ট ও গ্রামীণফোনে ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত সায়মা (২৬), পিতা-মঞ্জুরুল মাওলা; এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট কোম্পানির ফ্রিল্যান্সার ও এশিয়াটিকে কর্মরত ওয়াফা (৩২), পিতা-রফিক।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কল সেন্টারে কর্মরত মোহাম্মদপুরের আনিকা বেলাল করিম (৩০), পিতা-আনিস মাহমুদ; স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মালিহা (২৬), পিতা-জাকির রহমান; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আফরা (২৪), পিতা-আব্দুল মান্নান; মিরপুরের বিইউপির সাবেক ছাত্রী সামরাইন (২৩), পিতা-শফি ইকবাল; আইইউবির ছাত্রী সোহা (২১), পিতা-শফি ইকবাল; মিরপুর ডিওএইচএসের সাবরিনা (১৯), পিতা-সিহাব ইকবাল; বিইউপির ছাত্রী জারিন তাসনিম (২৬), পিতা-মেজর (অব.) সোয়েব; যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটিতে আসা সামিয়া (২৫), পিতা-কামরুজ্জামান; এবং চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ছাত্রী রুবাবা মোহাম্মদী (২৫), পিতা-আব্দুল কাদির।

৫৯ যুবকের এক মাসের কারাদণ্ড

অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়ি থেকে মাদকদ্রব্যসহ আটক ৫৯ পুরুষকে এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামের এনায়েত বাজারের সুকেন্দু বিকাশ বড়ুয়ার ছেলে রানা বড়ুয়া (৩৮); মিরপুর ডিওএইচএসের শহিদুল হাসানের ছেলে নাদবি হাসান (২৬); উত্তর ইব্রাহিমপুরের আবু জাফর মোল্লার ছেলে সাদমান রাফিক (২৫); উত্তরা পশ্চিমের মৃন্ময় গুহের ছেলে পরম গুহ (২৬); ধানমন্ডির আবু মো. শফিউল আজমের ছেলে আবু মো. মুহসিউল আজম (৩২); গ্রিন রোডের উমর আল ফারুকের ছেলে মোরসালিন (২৪); গুলশান-২-এর এহসানুল হকের ছেলে রাইয়ান আব্দুল্লাহ সাকিবুল হক (২৭); মিরপুর ডিওএইচএসের শহিদ উল্ল্যার ছেলে রামিম আল রাফি নাসিম (২৫); ধানমন্ডির সেলিস এইচআর-এ ইন্টার্ন হিসেবে কর্মরত শেওড়াপাড়ার ইছাক আলীর ছেলে সাদমান সাকিব (২৮); এবং ধানমন্ডির পাভেল শাহাবুদ্দিনের ছেলে আল শাহরিয়ার রুদ্র (২২), যিনি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) শিক্ষার্থী।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন পশ্চিম শেওড়াপাড়ার আহসান হাবীব সুমনের ছেলে সাদমান বিন আহসান (২৫), যিনি গুলশান-১-এর ‘ইটিআই বাংলাদেশ’ এনজিওতে কর্মরত; বনানীর আব্দুল ছাত্তারের ছেলে হানজালা নূর সাঈদ (২৭), যিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী; পশ্চিম মালিবাগের শাহ মো. জুবায়ের হোসেনের ছেলে শাহ মো. শাফায়েত হোসেন (২২), তিনিও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী; ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি চত্বরের আব্দুর রহমানের ছেলে নাঈমুর রহমান (২৬), যিনি গাজীপুরের আইইউটির শিক্ষার্থী; উত্তর বাড্ডার ইমরুল আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম রাফি (২৬), যিনি উত্তরার শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী; ধানমন্ডি-৩২-এর কামরুল ইসলামের ছেলে হাসিব খান (২৬), যিনি আইইউবির শিক্ষার্থী; এবং বনানীর নিয়ামত উদ্দিন আহমেদের ছেলে তাওহিদ (২৭), যিনি ফিলিপ মরিসের (মালবোরো) ম্যানেজার।

এ ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন পল্লবীর নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সাদাত (২৮), যিনি মারভেল কোম্পানির কমিউনিকেশন লিড বা জনসংযোগ কর্মকর্তা; কাফরুলের জাহাঙ্গীর হারুনের ছেলে জিফান তাহমিদ (২৯), যিনি ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ব্যবসায়ী; বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার শাহিন ভূঁইয়া (৩২); ইসিবি চত্বরের জামাল হোসেন সিকদারের ছেলে জুবায়ের সিকদার (২৫), যিনি বিইউপির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী; পুরান ঢাকার কোতোয়ালির ফারিয়াজ আরজুর ছেলে ফারাহিম ফাইয়াজ (২৭), যিনি ইস্ট ওয়েস্ট ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের সেলস অ্যান্ড রিজার্ভেশন অফিসার; উত্তর কাফরুলের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে শায়ান কিবরিয়া (১৯), যিনি আদমজী কলেজের শিক্ষার্থী ও এইচএসসি পাস; খিলক্ষেত লেকসিটির বাবর আলীর ছেলে মাহবুবুল আলম (৩৮), যিনি গোল্ডেন সানরাইজের ম্যানেজার; কলাবাগান সেন্ট্রাল রোডের সোহেল আহমেদের ছেলে ফারহান আহমেদ (২৫), যিনি বিইউপির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী; এবং কাঁঠালবাগানের জয়নাল আবেদিনের ছেলে আইমান আবেদিন রাফিন (২৫), যিনি একটি অনলাইন পেজের মডারেটর।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন মোহাম্মদপুরের শেখ ফজলুল হকের ছেলে শেখ ফাহিম হক (২৬), যিনি আইইউবির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী; ভাটারার ব্লক-জির মির্জা বকুলের ছেলে মির্জা আরেফিন (২৭); পল্লবীর এমএ গফুরের ছেলে মেহরাব রহমান (২৬), যিনি বিইউপির এমবিএর শিক্ষার্থী; রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসন এলাকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকিরের ছেলে হিম (১৯), যিনি বিইউপির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী; মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের হাসান মোহাম্মদ তানভির ইমতিয়াজের ছেলে রাশিক ইভতেসাম (২০), যিনি আদমজী কলেজের শিক্ষার্থী ও এইচএসসি পাস; ভাটারার রাশেদুল হকের ছেলে রাফিয়াদ দারাজাদ হক (২৩), যিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী; কোতোয়ালির নবাবপুর রোডের এরফান হাসান (৩০), যিনি ঢাকা ট্রিবিউনের সাবেক সাংবাদিক; এবং ধানমন্ডির ড. হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহমুদ ফাহিম রহমান শান্ত (২৫), যিনি কিংস কলেজ লন্ডনের শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলাম তানজিম (২৭), যিনি প্রাণ-আরএফএলের ব্র্যান্ড ম্যানেজার; শাহজাহানপুরের শহীদবাগের মঈনুল হকের ছেলে সাফওয়ান হক (২৭), যিনি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী; বসুন্ধরার জামাল উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে রাফি আহমেদ চৌধুরী (২২), যিনি এআইইউবির শিক্ষার্থী; কাফরুলের মো. মনিরুজ্জামানের ছেলে মাফি মুস্তাফা (২৫), যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইনভিজিবল টেকের ডেটা অ্যানালিস্ট; আফতাবনগরের শফিক উল্লাহর ছেলে তানজির আহমেদ (৩১), যিনি এশিয়াটিক মিডিয়া লিমিটেডের (এএমএল) সিনিয়র ম্যানেজার; মিরপুর-১২ পল্লবীর মো. মাইনুদ্দিনের ছেলে সাজিদ মাহমুদ (২৬), যিনি এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ার বিডির কৌশলগত কর্মকর্তা; উত্তর বাসাবোর মহসিন সরকারের ছেলে ফাইজাল আলভি সরকার আদব (২৫), যিনি এআইইউবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী; এবং ধানমন্ডির মাহফুজুর রহমানের ছেলে ওমর বিন মাহফুজ (২৪), যিনি ফোর ট্রেডার্স লিমিটেডের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।

দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় আরও রয়েছেন বসুন্ধরার সাজ্জাদুল আলম সেজান (২৭); মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের আব্দুস সালামের ছেলে ফয়সাল আহমেদ (২৪), যিনি এমআইএসটির শিক্ষার্থী ও রিসার্চ অ্যানালিস্ট; ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা বাজারের ইসমাইল হোসেনের ছেলে তানজিদ ইসলাম সিয়াম (১৯), যিনি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী; বনশ্রী-রামপুরার মিজান মাওলার ছেলে আফতাবুল মাওলা রাব্বি (২৪), যিনি প্রাইমটেক্স লিমিটেডের সিনিয়র ভেন্ডর ম্যানেজার; পশ্চিম রামপুরার ইয়ামিন খানের ছেলে ইউসুফ খান পলক (২৫), যিনি বিআইইউপির সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী; এবং ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি এলাকার মাইনুদ্দিন মানিকের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৬), যিনি আইইউবিএটির বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া রয়েছেন উত্তর কাফরুলের সুলতান আহমেদের ছেলে ফেরদৌস আহমেদ (৩০), যিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগে কর্মরত; শান্তিনগরের শাহ নিয়াজ আকনের ছেলে হাসান হাফিজুর (২৭); খিলক্ষেতের রেজাউল করিমের ছেলে সাজিউর রহমান (২৬); শান্তিনগরের শহিদুল আলম চৌধুরীর ছেলে হামেদ হাসান (২৪); শান্তিনগরের মহিউদ্দিন খানের ছেলে ফারহান খান সাদাফ (২৫); দক্ষিণখানের কাজী তাহমিদ ইসলাম (২৮), যিনি এশিয়াটিকের কমনিওর কোম্পানিতে এসডিআর পদে কর্মরত; লালমাটিয়ার শেখ মনিরুল আলম টিটুর ছেলে শেখ অধ্যায় আলম (২৩); মিরপুর-১০-এর মাসুদ রানার ছেলে আরিয়ান মানাভ (২৭); পশ্চিম শেওড়াপাড়ার জলিল উদ্দিনের ছেলে নাহিন আলী জাকি (২৬); মিরপুর ডিওএইচএসের জামাল হোসেনের ছেলে তাজওয়ার তাহমিদ জামাল (২৬); এবং ঢাকার কাঁটাবন রোডের শেখ ফরিদ হোসেন চৌধুরীর ছেলে আইমান শাবিত চৌধুরী (২৫)।

গত মঙ্গলবার আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের স্বাক্ষরিত আদেশে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে ওএসডি করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ি নির্মাণ ও জমি কেনার অর্থের উৎস খতিয়ে দেখছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। বাড়িটি ভাড়া নিয়ে দেশি-বিদেশি অনেকে রাতযাপন ও পার্টি করতেন বলেও জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে ছয় কাঠা জমির ওপর নির্মিত তিনতলা বাড়িটি অনলাইনে ‘এয়ারবিএনবি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো। জহির বাড়িটি পরিচালনার জন্য মাহবুব আলম নামে একজনকে ‘কো-হোস্ট’ হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, ওই বাড়ি থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার ৭০ শতাংশ টাকা জহিরের অ্যাকাউন্টে জমা হতো এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ মাহবুব নিতেন।

অভিযান পরিচালনাকারী ডিবি উত্তরা বিভাগের ডিসি ইলিয়াস কবির জানান, বাড়িটিতে নিয়মিত ডিজে পার্টির আড়ালে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলত। এসব আয়োজনে এশিয়াটিক, গ্রামীণফোন, প্রাণ-আরএফএল ও এসিআই মটরসসহ বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ছিল।

পাঁচ কক্ষের বাড়িটিতে প্রতি রুমে ১০ জন পর্যন্ত ভাড়া নিতেন আয়োজকেরা। অতিরিক্ত প্রত্যেকের জন্য নেওয়া হতো ৬০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি। দুপুর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত চলা এসব আয়োজনে মাসে ১৮-২০টি অনুষ্ঠান হতো, প্রতিটি থেকে মিলত লাখ টাকা ভাড়া। তল্লাশিতে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।