ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন নিয়ে উদীচীর ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 95

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

উদীচী প্রকাশ করেছে গভীর উদ্বেগ, কারণ পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম আবারও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তাদের বক্তব্যে বলা হয়েছে, এটি শুধু একটি নাম নয়, বরং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সার্বজনীন ঐক্যের প্রতীক। বারবার নাম পরিবর্তনকে তারা অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি জানিয়েছেন, নামটি অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে।

পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় চাপের কাছে নতি স্বীকারের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। শোভাযাত্রার সূচনা হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল প্রেক্ষাপটে এবং সময়ের সঙ্গে দেশ-বিদেশে “মঙ্গল শোভাযাত্রা” হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

২০১৬ সালে ইউনেস্কো-এর স্বীকৃতি এই আয়োজনকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। উদীচী বলছে, নাম পরিবর্তন বা মুছে ফেলার চেষ্টা ইতিহাস, সংগ্রাম ও ধারাবাহিকতাকে অস্বীকার করার সমতুল্য। “মঙ্গল” শব্দটি অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ও মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এর অপসারণ সাংস্কৃতিক ভিত্তি দুর্বল করে।

সংস্কৃতির বহুত্ববাদ, সহনশীলতা ও মুক্তচিন্তার চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা রক্ষা শুধু দায়িত্ব নয়, অস্তিত্ব ও পরিচয়ের প্রশ্নও বটে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন নিয়ে উদীচীর ক্ষোভ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

উদীচী প্রকাশ করেছে গভীর উদ্বেগ, কারণ পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম আবারও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তাদের বক্তব্যে বলা হয়েছে, এটি শুধু একটি নাম নয়, বরং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সার্বজনীন ঐক্যের প্রতীক। বারবার নাম পরিবর্তনকে তারা অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি জানিয়েছেন, নামটি অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে।

পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় চাপের কাছে নতি স্বীকারের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। শোভাযাত্রার সূচনা হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল প্রেক্ষাপটে এবং সময়ের সঙ্গে দেশ-বিদেশে “মঙ্গল শোভাযাত্রা” হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

২০১৬ সালে ইউনেস্কো-এর স্বীকৃতি এই আয়োজনকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। উদীচী বলছে, নাম পরিবর্তন বা মুছে ফেলার চেষ্টা ইতিহাস, সংগ্রাম ও ধারাবাহিকতাকে অস্বীকার করার সমতুল্য। “মঙ্গল” শব্দটি অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ও মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এর অপসারণ সাংস্কৃতিক ভিত্তি দুর্বল করে।

সংস্কৃতির বহুত্ববাদ, সহনশীলতা ও মুক্তচিন্তার চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা রক্ষা শুধু দায়িত্ব নয়, অস্তিত্ব ও পরিচয়ের প্রশ্নও বটে।