ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 81

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি নৌযোগাযোগ, এলএনজি আমদানি এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিস্তারিত জানানো হয়।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্তসংযোগ–সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রয়োজনীয় আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এ কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে শুরু করে ধাপে ধাপে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা যেতে পারে বলেও তিনি মত দেন।

বৈঠকে কৃষিপণ্য, মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ ও হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ (বি-টু-বি) জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রসঙ্গ তুলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফেরাতে দ্রুত অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায় বাংলাদেশ।

জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে পাওয়া প্রত্যাবাসনযোগ্য রোহিঙ্গাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

এ ছাড়া নিয়মিত যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন, পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি নৌ ও জাহাজ যোগাযোগ চালুর লক্ষ্যে প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।

বৈঠকে বলা হয়, সরাসরি নৌযোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমবে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি নৌযোগাযোগ, এলএনজি আমদানি এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিস্তারিত জানানো হয়।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্তসংযোগ–সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রয়োজনীয় আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এ কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে শুরু করে ধাপে ধাপে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা যেতে পারে বলেও তিনি মত দেন।

বৈঠকে কৃষিপণ্য, মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ ও হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ (বি-টু-বি) জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রসঙ্গ তুলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফেরাতে দ্রুত অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায় বাংলাদেশ।

জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে পাওয়া প্রত্যাবাসনযোগ্য রোহিঙ্গাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

এ ছাড়া নিয়মিত যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন, পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি নৌ ও জাহাজ যোগাযোগ চালুর লক্ষ্যে প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।

বৈঠকে বলা হয়, সরাসরি নৌযোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমবে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন উপস্থিত ছিলেন।