ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিথর বৃষ্টির সিঁথিতে সিঁদুর, অপূর্ণ রইল বিয়ে

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 49

নিথর বৃষ্টির সিঁথিতে সিঁদুর, অপূর্ণ রইল বিয়ে

আর মাত্র দুই সপ্তাহ পর বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল গোপালগঞ্জের ২৫ বছর বয়সী বৃষ্টি ঘরামির। লাল শাড়ি, সিঁদুরসহ বিয়ের সব কেনাকাটাও শেষ হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারান তিনি। শেষ বিদায়ের আগে বৃষ্টির নিথর দেহে সিঁদুর পরিয়ে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন হবু বর।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বৃষ্টির মৃত্যু হয়। ঢাকার শ্যামলীর একটি ট্রমা সেন্টারে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। সেখানে প্রায় নয় মাস ধরে কাজ করছিলেন।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) সিঁদুর পরা বৃষ্টির নিথর দেহের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মৃত্যুর দিন সকালেও তিনি বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। রক্তদাতাদের এগিয়ে আসার অনুরোধও জানিয়েছিলেন তিনি।

বৃষ্টির বড়বোন জানান, ১৬ অক্টোবর তাদের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। বিয়ের সব কেনাকাটাও শেষ হয়েছিল। কিন্তু ডেঙ্গুতে হঠাৎ করেই বৃষ্টিকে হারাতে হয়েছে।

তিনি বলেন, বৃষ্টির জ্বর ১০৮ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল। পরে তার হিট স্ট্রোক হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা দ্রুত শুরু করা গেলে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে মনে করেন তিনি।

বৃষ্টির হবু বরের বাড়ি গোপালগঞ্জের টেকেরহাট এলাকায়। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার সময় তার শ্বশুর-শাশুড়ি বিয়ের কেনাকাটা করা সামগ্রীও সঙ্গে নিয়ে আসেন। পরে হবু বর বৃষ্টির নিথর দেহে সিঁদুর পরিয়ে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেন।

নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রোগীদের প্রতিও বৃষ্টির ছিল গভীর মমতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন পোস্টে তার সেই মানবিকতার প্রকাশ পাওয়া যায়। এক দুর্ঘটনাকবলিত কিশোরীর চিকিৎসার সময় তার প্রতি মমতা ও ভালোবাসার কথাও লিখেছিলেন তিনি।

বিয়ের স্বপ্ন, নতুন জীবনের প্রস্তুতি আর প্রিয়জনদের ঘিরে সব আয়োজন এক মুহূর্তে থেমে গেছে বৃষ্টির আকস্মিক মৃত্যুতে। শেষ বিদায়ের আগে হবু বরের সিঁদুর পরিয়ে দেওয়ার সেই মুহূর্তটি এখন পরিবারের কাছে অপূর্ণ বিয়ের এক বেদনাবিধুর স্মৃতি হয়ে রইল।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নিথর বৃষ্টির সিঁথিতে সিঁদুর, অপূর্ণ রইল বিয়ে

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

আর মাত্র দুই সপ্তাহ পর বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল গোপালগঞ্জের ২৫ বছর বয়সী বৃষ্টি ঘরামির। লাল শাড়ি, সিঁদুরসহ বিয়ের সব কেনাকাটাও শেষ হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারান তিনি। শেষ বিদায়ের আগে বৃষ্টির নিথর দেহে সিঁদুর পরিয়ে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন হবু বর।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বৃষ্টির মৃত্যু হয়। ঢাকার শ্যামলীর একটি ট্রমা সেন্টারে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। সেখানে প্রায় নয় মাস ধরে কাজ করছিলেন।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) সিঁদুর পরা বৃষ্টির নিথর দেহের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মৃত্যুর দিন সকালেও তিনি বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। রক্তদাতাদের এগিয়ে আসার অনুরোধও জানিয়েছিলেন তিনি।

বৃষ্টির বড়বোন জানান, ১৬ অক্টোবর তাদের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। বিয়ের সব কেনাকাটাও শেষ হয়েছিল। কিন্তু ডেঙ্গুতে হঠাৎ করেই বৃষ্টিকে হারাতে হয়েছে।

তিনি বলেন, বৃষ্টির জ্বর ১০৮ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল। পরে তার হিট স্ট্রোক হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা দ্রুত শুরু করা গেলে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে মনে করেন তিনি।

বৃষ্টির হবু বরের বাড়ি গোপালগঞ্জের টেকেরহাট এলাকায়। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার সময় তার শ্বশুর-শাশুড়ি বিয়ের কেনাকাটা করা সামগ্রীও সঙ্গে নিয়ে আসেন। পরে হবু বর বৃষ্টির নিথর দেহে সিঁদুর পরিয়ে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেন।

নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রোগীদের প্রতিও বৃষ্টির ছিল গভীর মমতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন পোস্টে তার সেই মানবিকতার প্রকাশ পাওয়া যায়। এক দুর্ঘটনাকবলিত কিশোরীর চিকিৎসার সময় তার প্রতি মমতা ও ভালোবাসার কথাও লিখেছিলেন তিনি।

বিয়ের স্বপ্ন, নতুন জীবনের প্রস্তুতি আর প্রিয়জনদের ঘিরে সব আয়োজন এক মুহূর্তে থেমে গেছে বৃষ্টির আকস্মিক মৃত্যুতে। শেষ বিদায়ের আগে হবু বরের সিঁদুর পরিয়ে দেওয়ার সেই মুহূর্তটি এখন পরিবারের কাছে অপূর্ণ বিয়ের এক বেদনাবিধুর স্মৃতি হয়ে রইল।