ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিকশা চুরির অপবাদে চালককে পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:২৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • / 40

পুলিশ

গোপালগঞ্জ শহরের মধ্য মিয়াপাড়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে আলামীন শেখ (৩০) নামে এক রিকশাচালককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক গ্যারেজ কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে। নিহত যুবক সদর উপজেলার খাটিয়াগড় গ্রামের বাসিন্দা।

বুধবার (২০ মে) রাতে একটি বাসার ভেতর আটকে রেখে তাকে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে নিহতের মায়ের উপস্থিতিতে ঘরের বাথরুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কেয়ারটেকার মো. কামরুল ঠাকুর পলাতক রয়েছে।

আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সামান্য সন্দেহের বশে একজন শ্রমজীবী মানুষকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলার আরও একটি কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক সহনশীলতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

মূলত রিকশা চুরির অপবাদে চালককে পিটিয়ে হত্যা শিরোনামের এই নৃশংস ঘটনার পর নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কামরুল ঠাকুরের গ্যারেজের একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা দুইদিন আগে চুরি হয়। বর্তমানে রিকশা চুরির অপবাদে চালককে পিটিয়ে হত্যা করার উদ্দেশ্যে চালক আলামীনকে প্রধান সন্দেহভাজন বানিয়ে ওই শরীফ লিটন সড়কের একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। সেখানে সারা রাত তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। আলামীনের মা ঘরের দরজার বাইরে এসে আকুতি জানালেও তাকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

পরবর্তীতে দরজা খোলা হলে বাথরুমের ভেতর অবুজ যুবকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বর্তমানে রিকশা চুরির অপবাদে চালককে পিটিয়ে হত্যা করে কামরুল ঠাকুর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আসামিকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, এমন বিচারহীনতার সংস্কৃতি রুখতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রিকশা চুরির অপবাদে চালককে পিটিয়ে হত্যা

সর্বশেষ আপডেট ০২:২৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

গোপালগঞ্জ শহরের মধ্য মিয়াপাড়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে আলামীন শেখ (৩০) নামে এক রিকশাচালককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক গ্যারেজ কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে। নিহত যুবক সদর উপজেলার খাটিয়াগড় গ্রামের বাসিন্দা।

বুধবার (২০ মে) রাতে একটি বাসার ভেতর আটকে রেখে তাকে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে নিহতের মায়ের উপস্থিতিতে ঘরের বাথরুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কেয়ারটেকার মো. কামরুল ঠাকুর পলাতক রয়েছে।

আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সামান্য সন্দেহের বশে একজন শ্রমজীবী মানুষকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলার আরও একটি কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক সহনশীলতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

মূলত রিকশা চুরির অপবাদে চালককে পিটিয়ে হত্যা শিরোনামের এই নৃশংস ঘটনার পর নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কামরুল ঠাকুরের গ্যারেজের একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা দুইদিন আগে চুরি হয়। বর্তমানে রিকশা চুরির অপবাদে চালককে পিটিয়ে হত্যা করার উদ্দেশ্যে চালক আলামীনকে প্রধান সন্দেহভাজন বানিয়ে ওই শরীফ লিটন সড়কের একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। সেখানে সারা রাত তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। আলামীনের মা ঘরের দরজার বাইরে এসে আকুতি জানালেও তাকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

পরবর্তীতে দরজা খোলা হলে বাথরুমের ভেতর অবুজ যুবকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বর্তমানে রিকশা চুরির অপবাদে চালককে পিটিয়ে হত্যা করে কামরুল ঠাকুর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আসামিকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, এমন বিচারহীনতার সংস্কৃতি রুখতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।