নরসিংদীতে টানা সহিংসতা, উদ্বেগ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৩:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 162
কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের শুক্রবার আদালতে নেওয়া হয় কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের শুক্রবার আদালতে নেওয়া হয়
কয়েক দিনের ব্যবধানে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, গুলিবর্ষণ ও লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নরসিংদীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
রায়পুরায় বিএনপির সক্রিয় কর্মী আমির মেম্বারকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নরসিংদী সদর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন।
নরসিংদীতে যেন হঠাৎ করেই অস্থিরতা জমাট বেঁধেছে। গত দুই-তিন দিনের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার যে চিত্র সামনে এসেছে, তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কম।
হত্যা, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গুলিবর্ষণ, নদীতে ভাসমান লাশ উদ্ধার—ঘটনার ধরন আলাদা হলেও ভয়ের সুর একই। স্থানীয়রা বলছেন, পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল বাশগাড়ি ইউনিয়নের দিঘলিয়াকান্দি এলাকায়। সেখানে সাবেক ইউপি সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সক্রিয় কর্মী আমির মেম্বারকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
প্রতিপক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এ হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
এর আগের দিন, ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার শীলমান্দি ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে জুনায়েদ (৭) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। সারাদিন খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান মেলেনি। পরদিন সকালে স্থানীয়রা ডোবায় ভাসমান মরদেহ দেখতে পান।
স্বজনদের দাবি, শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল; তাদের সন্দেহ, শিশুটিকে অন্যত্র হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়েছে। যদিও ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
একই দিন বিকেলে শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে চরআড়ালিয়ার বড়চর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে করিমপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ি।
ফাঁড়ির ইনচার্জ সুব্রত পোদ্দার জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পাঁচ থেকে সাত দিন আগে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। দেহে পচন ধরায় আঘাতের চিহ্ন নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সদর উপজেলার মাধবদীতে আরও একটি নৃশংস হত্যার খবর আসে। কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে আমেনা বেগম (১৫) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, পনেরো দিন আগে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা হয়।
নিহতের বাবা দাবি করেন, বুধবার বিকেলে মেয়েকে আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে আসার পথে অভিযুক্তদের একটি দল তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে মেয়ের লাশ পাওয়া যায়। এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এছাড়া রায়পুরার তুলাতুলি গ্রামে তুচ্ছ ঘটনার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে স্বপন নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে।
পরপর এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় অপরাধীদের মধ্যে এক ধরনের বেপরোয়া মানসিকতা তৈরি হচ্ছে—যার খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে আমেনা বেগম হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, নিহতের পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, সে লক্ষ্যে তিনি নিজের সামর্থ্যের সবটুকু প্রয়োগ করবেন।





























