দ্বিগুণ লবণ খাচ্ছে বাংলাদেশিরা
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / 119
বাংলাদেশে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ লবণ গ্রহণ করছেন। বুধবার (১৩ মে) বিশ্ব লবণ সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে জানানো হয়, দেশে একজন ব্যক্তি প্রতিদিন গড়ে ৯ গ্রাম লবণ খান, যেখানে আদর্শ মাত্রা হওয়া উচিত ৫ গ্রামের কম। অতিরিক্ত লবণ বা সোডিয়ামযুক্ত খাদ্যাভ্যাসের কারণে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, যা হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় লবণের পরিমিত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে জানানো হয়েছে যে, দেশের অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যুর ৭১ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের সাথে সম্পর্কিত। মূলত দ্বিগুণ লবণ খাচ্ছে বাংলাদেশিরা হওয়ার কারণে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। ২০২৫ সালের গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ স্টাডি অনুযায়ী, মাত্রাতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ বিশ্বের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়। বর্তমানে দ্বিগুণ লবণ খাচ্ছে বাংলাদেশিরা এবং এর ফলে হৃদরোগ এককভাবে ৩৪ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী। উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত খাদ্যাভ্যাস কেবল রক্তচাপই বাড়ায় না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রতঙ্গের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত সচেতনতা না বাড়ালে অকাল মৃত্যুর এই হার আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় খাবারে লবণের পরিবর্তে প্রাকৃতিক ভেষজ ও মসলা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দ্বিগুণ লবণ খাচ্ছে বাংলাদেশিরা—এই প্রবণতা কমাতে রান্নায় আদা, রসুন, গোলমরিচ এবং লেবুর রস ব্যবহার করে খাবারের স্বাদ বাড়ানো সম্ভব। এছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে সোডিয়ামের পরিমাণ কমানোর জন্য কঠোর শিল্প নীতিমালা এবং ‘ফ্রন্ট-অফ-প্যাক’ লেবেলিং চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং সরকারি সমন্বিত উদ্যোগই পারে দেশের জনস্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে।





























