ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই ছেলের মারামারি দেখে বাবার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 14

দুই ছেলের মারামারি দেখে বাবার মৃত্যু

রংপুরের কাউনিয়ায় দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে মহির উদ্দিন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, ছেলেদের মারামারি দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু গুলশান মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মহির উদ্দিন ওই এলাকার বাসিন্দা। মৃত্যুর পর বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তাঁর মরদেহ কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় ছিল।

স্থানীয়রা জানান, মহির উদ্দিন তাঁর ছোট স্ত্রী ও দুই ছেলে মাইদুল ইসলাম ও রশিদুল ইসলামকে নিয়ে গুলশান মোড় এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে তাঁর একটি মুদি দোকান রয়েছে। রশিদুল নেশাগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকদিন ধরে তাঁকে দোকানে বসতে দিচ্ছিলেন না বাবা ও বড় ভাই মাইদুল। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রশিদুল দোকানে গিয়ে টাকা নিতে চাইলে তাঁকে বাধা দেন বড় ভাই মাইদুল। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাঁরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।

এ সময় কাউনিয়া তকিপল বাজার থেকে মুদি মালামাল কিনে মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে আসেন মহির উদ্দিন। চোখের সামনে দুই ছেলেকে মারামারি করতে দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। পরে মাইদুল ও স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, মহির উদ্দিন এর আগেও দুইবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসক তাঁকে হৃদ্‌যন্ত্রে রিং পরানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তা করানো সম্ভব হয়নি। তাঁদের ধারণা, দুই ছেলের মারামারি দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন।

কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, দুই ছেলের মারামারি দেখার পর এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ছেলেদের এমন কর্মকাণ্ডে বাবার মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। নিহতের দুই স্ত্রী রয়েছেন। বড় স্ত্রীর ছেলে বাইরে থেকে আসার পর পরিবারের সদস্যরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দুই ছেলের মারামারি দেখে বাবার মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরের কাউনিয়ায় দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে মহির উদ্দিন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, ছেলেদের মারামারি দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু গুলশান মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মহির উদ্দিন ওই এলাকার বাসিন্দা। মৃত্যুর পর বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তাঁর মরদেহ কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় ছিল।

স্থানীয়রা জানান, মহির উদ্দিন তাঁর ছোট স্ত্রী ও দুই ছেলে মাইদুল ইসলাম ও রশিদুল ইসলামকে নিয়ে গুলশান মোড় এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে তাঁর একটি মুদি দোকান রয়েছে। রশিদুল নেশাগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকদিন ধরে তাঁকে দোকানে বসতে দিচ্ছিলেন না বাবা ও বড় ভাই মাইদুল। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রশিদুল দোকানে গিয়ে টাকা নিতে চাইলে তাঁকে বাধা দেন বড় ভাই মাইদুল। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাঁরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।

এ সময় কাউনিয়া তকিপল বাজার থেকে মুদি মালামাল কিনে মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে আসেন মহির উদ্দিন। চোখের সামনে দুই ছেলেকে মারামারি করতে দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। পরে মাইদুল ও স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, মহির উদ্দিন এর আগেও দুইবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসক তাঁকে হৃদ্‌যন্ত্রে রিং পরানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তা করানো সম্ভব হয়নি। তাঁদের ধারণা, দুই ছেলের মারামারি দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন।

কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, দুই ছেলের মারামারি দেখার পর এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ছেলেদের এমন কর্মকাণ্ডে বাবার মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। নিহতের দুই স্ত্রী রয়েছেন। বড় স্ত্রীর ছেলে বাইরে থেকে আসার পর পরিবারের সদস্যরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।