ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় জাতীয় ক্রাইসিস রেসপন্স সিস্টেমের দাবি

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 22

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় জাতীয় ক্রাইসিস রেসপন্স সিস্টেমের দাবি

মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ক্রাইসিস রেসপন্স সিস্টেম গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য এখন আর ব্যক্তিগত বা বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়; এটি জাতীয় জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংকটের সময়ে দ্রুত সহায়তা না পাওয়ায় অনেক মানুষ গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত র‌্যালি ও মানববন্ধনে বক্তারা এসব দাবি জানান। মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক উদ্যোগ ‘মনোকথা’, বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতি (বিপিএ), ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ), জেসিআই বাংলাদেশ ও শক্তি ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ডিআরডিএফের সভাপতি ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী। এতে বক্তব্য দেন রাজনীতিবিদ বজলুর রশীদ ফিরোজ, পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রসুল, মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক তানজীম জামান, বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতির কোষাধ্যক্ষ এ. এইচ. এম. মনিরুজ্জোহা, শক্তি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. হুমায়রা ইসলাম, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, জেসিআই বাংলাদেশের জাতীয় সহসভাপতি এ. এফ. এম. ফাহিমুর রহমান (অনি) এবং মনোবিজ্ঞানী হৃদয় ইফতেখার ইফতিসহ অনেকে।

সভাপতির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, মানসিক সমস্যার কথা বলতে এখনো অনেকে সংকোচ বোধ করেন। অনেকে আবার সাহায্য নেওয়াকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেন। এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। শারীরিক অসুস্থতার মতো মানসিক কষ্টকেও গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সংখ্যা বাড়ানো এবং সংকটের মুহূর্তে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান।

রাজনীতিবিদ বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, সংকটকালীন সময়ে দ্রুত সহায়তার জন্য সরকারি পর্যায়ে কার্যকর জাতীয় ক্রাইসিস লাইন নেই। সীমিত জনবল ও সম্পদ নিয়ে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী হেল্পলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য তা যথেষ্ট নয়। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

শক্তি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. হুমায়রা ইসলাম বলেন, গবেষণা ও দীর্ঘদিনের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট আর বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন জাতীয় বাস্তবতা। এর সমাধানে শুধু সহানুভূতি নয়, সুসংগঠিত ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক তানজীম জামান বলেন, দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বাইরে রয়েছেন। প্রাথমিক ও কমিউনিটি পর্যায়েও পর্যাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে ওঠেনি। তাই জরুরি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা শুধু বড় শহর বা হাসপাতালকেন্দ্রিক না রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সহজলভ্য করতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় জাতীয় ক্রাইসিস রেসপন্স সিস্টেমের দাবি

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ক্রাইসিস রেসপন্স সিস্টেম গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য এখন আর ব্যক্তিগত বা বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়; এটি জাতীয় জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংকটের সময়ে দ্রুত সহায়তা না পাওয়ায় অনেক মানুষ গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত র‌্যালি ও মানববন্ধনে বক্তারা এসব দাবি জানান। মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক উদ্যোগ ‘মনোকথা’, বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতি (বিপিএ), ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ), জেসিআই বাংলাদেশ ও শক্তি ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ডিআরডিএফের সভাপতি ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী। এতে বক্তব্য দেন রাজনীতিবিদ বজলুর রশীদ ফিরোজ, পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রসুল, মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক তানজীম জামান, বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতির কোষাধ্যক্ষ এ. এইচ. এম. মনিরুজ্জোহা, শক্তি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. হুমায়রা ইসলাম, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, জেসিআই বাংলাদেশের জাতীয় সহসভাপতি এ. এফ. এম. ফাহিমুর রহমান (অনি) এবং মনোবিজ্ঞানী হৃদয় ইফতেখার ইফতিসহ অনেকে।

সভাপতির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, মানসিক সমস্যার কথা বলতে এখনো অনেকে সংকোচ বোধ করেন। অনেকে আবার সাহায্য নেওয়াকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেন। এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। শারীরিক অসুস্থতার মতো মানসিক কষ্টকেও গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সংখ্যা বাড়ানো এবং সংকটের মুহূর্তে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান।

রাজনীতিবিদ বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, সংকটকালীন সময়ে দ্রুত সহায়তার জন্য সরকারি পর্যায়ে কার্যকর জাতীয় ক্রাইসিস লাইন নেই। সীমিত জনবল ও সম্পদ নিয়ে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী হেল্পলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য তা যথেষ্ট নয়। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

শক্তি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. হুমায়রা ইসলাম বলেন, গবেষণা ও দীর্ঘদিনের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট আর বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন জাতীয় বাস্তবতা। এর সমাধানে শুধু সহানুভূতি নয়, সুসংগঠিত ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক তানজীম জামান বলেন, দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বাইরে রয়েছেন। প্রাথমিক ও কমিউনিটি পর্যায়েও পর্যাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে ওঠেনি। তাই জরুরি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা শুধু বড় শহর বা হাসপাতালকেন্দ্রিক না রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সহজলভ্য করতে হবে।