ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় উন্নয়নে প্রবাসীদের যুক্ত করার আহ্বান বিশিষ্টজনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 253

"জাতি গঠনে প্রবাসীদের সম্ভাবনা উন্মোচন" শীর্ষক সংলাপে উপস্থিত বক্তারা। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

বাংলাদেশের ২৪ লাখ প্রবাসীকে জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্সের উৎস হিসেবে দেখা নয়-বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা, জ্ঞান স্থানান্তর ও নীতি পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাঠামোগত ব্যবস্থা দরকার। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত “জাতি গঠনে প্রবাসীদের সম্ভাবনা উন্মোচন” শীর্ষক এক সংলাপে বক্তারা এই আহ্বান জানান।

বন্ড, ক্লাব জেসিআই, নেক্সট ৫০, দ্য ডেইলি স্টার এবং অক্সফাম এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সংলাপে বাংলাদেশ এবং শীষস্থানীয় দেশের প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি সরাসরি এবং অনলাইনে অংশ নেন। অক্সফাম বাংলাদেশের যোগাযোগ, অ্যাডভোকেসি এবং মিডিয়া প্রধান মোঃ শরিফুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় সংলাপে অংশ নেন শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ তানজিল শফিক, বন্ড -এর প্রতিষ্ঠাতা কাজী এম. আহমেদ, যুক্তরাজ্যের মুজাহিদ খান এমবিই ডিএল, বিলিয়নস ফর বাংলাদেশের প্রাক্তন সভাপতি আনিস রহমান , বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন (বিডা) এর প্রতিনিধিত্ব করেন পরিচালক শাহ নুসরাত জাহান। এছাড়াও অংশ নেয় এ. গফুর, ড. চৌধুরী এইচ. আহসান, ইকবাল বাহার জাহিদ, ড. ফেরদৌস সালেহীন, মনজুর চৌধুরী, ড. নেহাল মাহতাব, ড. ফারাজী বিন্তি ফেরদৌস, শেহতাজ চৌধুরী, গাজী জিশান, বেলাল ব্রেগা বখত, ইমরান কাদির এবং মিনহাজ আনোয়ার, এসএম আরিফুজ্জামান প্রমুখ।

প্রবাসীদের রেমিট্যান্স-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের অবদান বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা, জ্ঞান স্থানান্তর, নীতিগত সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, নবনিবাচিত সরকারের অধীনে বাংলাদেশ একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশের প্রায় ২৪ লাখ প্রবাসী সদস্য রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইইউ দেশগুলিতে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, জ্ঞান বিনিময়, দক্ষতা, নেটওয়ার্ক এবং নীতিগত সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে তবুও এর বেশিরভাগই অব্যবহৃত রয়ে গেছে।

সহযোগী অধ্যাপক ডঃ তানজিল শফিক বলেন, মূল চ্যালেঞ্জ প্রবাসীদের আগ্রহ নয় বরং বিশ্বাসযোগ্য সম্পৃক্ততার অভাব। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তিনি একটি চার-স্তরের মডেল প্রস্তাব করেন। প্রবেশের জন্য একটি “সম্মুখ দ্বার”, পরিষেবা, বিনিয়োগ এবং জ্ঞানের জন্য স্পষ্ট পথ, স্বচ্ছতার জন্য একটি বিশ্বাসের অবকাঠামো এবং সরকার, বেসরকারি খাত এবং প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অংশীদারিত্বের কথা তুলে ধরেন।

কাজী এম. আহমেদ ব্যবস্থার ফাঁকফোকর তুলে ধরে সমন্বয় ও আস্থা নিশ্চিত করার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির আহ্বান জানান। আনিস রহমান প্রবাসী বিনিয়োগকে সহজতর করার জন্য একটি কার্যকরী, এক-স্টপ পরিষেবার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। সৈয়দ সাইফুল হক বলেন, অভিবাসন, দক্ষতা এবং শ্রম ব্যবস্থার সাথে প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করতে নীতি কাঠামো প্রয়োজন।

মুজাহিদ খান এম বিই ডিএল বলেছেন, যারা বাংলাদেশের সাথে জড়িত হতে আগ্রহী , তাদের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন।

ভারতের মতো আন্তর্জাতিক উদাহরণগুলো উল্লেখ করে সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, বাংলাদেশের প্রবাসী বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার উপর জোর দেন।
প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. মসুদ মান্নান এনডিসি তার কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, যে প্রবাসী সদস্যরা ধারাবাহিকভাবে অবদান রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু পূর্ববর্তী উদ্যোগগুলিতে সমন্বয় এবং ধারাবাহিকতার অভাব ছিল।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জাতীয় উন্নয়নে প্রবাসীদের যুক্ত করার আহ্বান বিশিষ্টজনের

সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের ২৪ লাখ প্রবাসীকে জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্সের উৎস হিসেবে দেখা নয়-বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা, জ্ঞান স্থানান্তর ও নীতি পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাঠামোগত ব্যবস্থা দরকার। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত “জাতি গঠনে প্রবাসীদের সম্ভাবনা উন্মোচন” শীর্ষক এক সংলাপে বক্তারা এই আহ্বান জানান।

বন্ড, ক্লাব জেসিআই, নেক্সট ৫০, দ্য ডেইলি স্টার এবং অক্সফাম এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সংলাপে বাংলাদেশ এবং শীষস্থানীয় দেশের প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি সরাসরি এবং অনলাইনে অংশ নেন। অক্সফাম বাংলাদেশের যোগাযোগ, অ্যাডভোকেসি এবং মিডিয়া প্রধান মোঃ শরিফুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় সংলাপে অংশ নেন শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ তানজিল শফিক, বন্ড -এর প্রতিষ্ঠাতা কাজী এম. আহমেদ, যুক্তরাজ্যের মুজাহিদ খান এমবিই ডিএল, বিলিয়নস ফর বাংলাদেশের প্রাক্তন সভাপতি আনিস রহমান , বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন (বিডা) এর প্রতিনিধিত্ব করেন পরিচালক শাহ নুসরাত জাহান। এছাড়াও অংশ নেয় এ. গফুর, ড. চৌধুরী এইচ. আহসান, ইকবাল বাহার জাহিদ, ড. ফেরদৌস সালেহীন, মনজুর চৌধুরী, ড. নেহাল মাহতাব, ড. ফারাজী বিন্তি ফেরদৌস, শেহতাজ চৌধুরী, গাজী জিশান, বেলাল ব্রেগা বখত, ইমরান কাদির এবং মিনহাজ আনোয়ার, এসএম আরিফুজ্জামান প্রমুখ।

প্রবাসীদের রেমিট্যান্স-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের অবদান বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা, জ্ঞান স্থানান্তর, নীতিগত সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, নবনিবাচিত সরকারের অধীনে বাংলাদেশ একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশের প্রায় ২৪ লাখ প্রবাসী সদস্য রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইইউ দেশগুলিতে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, জ্ঞান বিনিময়, দক্ষতা, নেটওয়ার্ক এবং নীতিগত সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে তবুও এর বেশিরভাগই অব্যবহৃত রয়ে গেছে।

সহযোগী অধ্যাপক ডঃ তানজিল শফিক বলেন, মূল চ্যালেঞ্জ প্রবাসীদের আগ্রহ নয় বরং বিশ্বাসযোগ্য সম্পৃক্ততার অভাব। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তিনি একটি চার-স্তরের মডেল প্রস্তাব করেন। প্রবেশের জন্য একটি “সম্মুখ দ্বার”, পরিষেবা, বিনিয়োগ এবং জ্ঞানের জন্য স্পষ্ট পথ, স্বচ্ছতার জন্য একটি বিশ্বাসের অবকাঠামো এবং সরকার, বেসরকারি খাত এবং প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অংশীদারিত্বের কথা তুলে ধরেন।

কাজী এম. আহমেদ ব্যবস্থার ফাঁকফোকর তুলে ধরে সমন্বয় ও আস্থা নিশ্চিত করার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির আহ্বান জানান। আনিস রহমান প্রবাসী বিনিয়োগকে সহজতর করার জন্য একটি কার্যকরী, এক-স্টপ পরিষেবার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। সৈয়দ সাইফুল হক বলেন, অভিবাসন, দক্ষতা এবং শ্রম ব্যবস্থার সাথে প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করতে নীতি কাঠামো প্রয়োজন।

মুজাহিদ খান এম বিই ডিএল বলেছেন, যারা বাংলাদেশের সাথে জড়িত হতে আগ্রহী , তাদের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন।

ভারতের মতো আন্তর্জাতিক উদাহরণগুলো উল্লেখ করে সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, বাংলাদেশের প্রবাসী বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার উপর জোর দেন।
প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. মসুদ মান্নান এনডিসি তার কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, যে প্রবাসী সদস্যরা ধারাবাহিকভাবে অবদান রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু পূর্ববর্তী উদ্যোগগুলিতে সমন্বয় এবং ধারাবাহিকতার অভাব ছিল।