ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৌশলগত অংশীদারত্বে বাংলাদেশ-জাপান

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৪২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 31

কৌশলগত অংশীদারত্বে বাংলাদেশ-জাপান

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য, অবকাঠামো, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই দেশের সরকারপ্রধান বৈঠকে বসেন।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর দুই দেশের বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথম দিকেই দেশটিকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের অবদান উল্লেখযোগ্য। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারেক রহমান জানান, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদেশি বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বৈঠকের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে জাপানের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসার সুযোগ তৈরিতে জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও সহযোগিতার শক্তিশালী ভিত্তিতে রূপান্তর করাই এখন লক্ষ্য। এর মাধ্যমে উভয় দেশের মানুষের জন্য সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপান দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত হওয়ায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাকাইচি। একই সঙ্গে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কৌশলগত অংশীদারত্বে বাংলাদেশ-জাপান

সর্বশেষ আপডেট ১০:৪২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য, অবকাঠামো, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই দেশের সরকারপ্রধান বৈঠকে বসেন।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর দুই দেশের বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথম দিকেই দেশটিকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের অবদান উল্লেখযোগ্য। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারেক রহমান জানান, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদেশি বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বৈঠকের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে জাপানের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসার সুযোগ তৈরিতে জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও সহযোগিতার শক্তিশালী ভিত্তিতে রূপান্তর করাই এখন লক্ষ্য। এর মাধ্যমে উভয় দেশের মানুষের জন্য সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপান দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত হওয়ায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাকাইচি। একই সঙ্গে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।