কৃষক কার্ডে নারী ও জুমচাষিদের অন্তর্ভুক্তির দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:২১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
- / 163
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরুর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে প্রান্তিক নারী কৃষক ও জুমচাষে সম্পৃক্ত আদিবাসী নারীদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন দেশের ২৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
সোমবার (১৬ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার, যা প্রশংসনীয়। একইসঙ্গে ঘোষিত কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষিতে নারীদের বাস্তব অবদানকে যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বিবৃতিতে বলা হয়, পাইলট প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও এর পরিধি দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন। চলতি বছরের মধ্যেই এ কার্যক্রম সারা দেশে সম্প্রসারণের দাবি জানান তারা।
বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেন, কৃষক কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে শুধু জমির মালিকানাকে ভিত্তি না করে কৃষিতে শ্রম ও অবদানের ভিত্তিতে কার্ড দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের কৃষিকাজে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় ৫৮ শতাংশ। তাই প্রান্তিক নারী কৃষক, বর্গাচাষী ও লিজের মাধ্যমে কৃষিকাজে যুক্ত নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জুমচাষে যুক্ত আদিবাসী নারীরাও কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই তাদেরও কৃষক কার্ডের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া মৎস্যচাষ ও প্রাণিসম্পদ খাতে- বিশেষ করে গরু, ছাগল এবং হাঁস-মুরগি পালনে যুক্ত নারীদের কৃষক কার্ড দেওয়ার দাবি জানানো হয়। হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলে এসব কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গ্রামাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক নিয়মিত কৃষিকাজে শ্রম দিয়ে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল রাখছেন। গ্রামীণ জনসংখ্যার প্রায় ৫০ থেকে ৫৬ শতাংশই এ ধরনের কৃষি মজুর। তাই তাদের জন্য কৃষক কার্ড অথবা পৃথক কৃষি মজুর কার্ড চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে কৃষক কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণসহ যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামসহ মোট ২৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক।


































