ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলের প্ররোচনায় ইরান যুদ্ধের ফাঁদে যুক্তরাষ্ট্র: কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / 107

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইসরাইলের কৌশলগত প্ররোচনার শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি।

তাঁর দাবি, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী ওয়াশিংটনকে এমন ধারণা দেয় যে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে এবং ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে এই সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

আল–জাজিরাকে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক চাপ কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক মানচিত্র নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্য থেকেই এই সংঘাতকে উসকে দেওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থী মহল বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করে আসছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের ভেতরে ভয় ও চাপ তৈরি করা হয়েছে।

শেখ হামাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানো হয়েছিল—এই যুদ্ধ হবে স্বল্পমেয়াদি এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সরকার দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে গেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি গোটা অঞ্চলে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সংকট আরও বেড়েছে।

তিনি হরমুজ প্রণালিকে বর্তমান সংঘাতের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এই যুদ্ধ চায়নি। তারপরও ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি, জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার সবচেয়ে বড় চাপ এখন তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিনির্ভর নীতিরও সমালোচনা করেন। শেখ হামাদের মতে, ওয়াশিংটনের আসল শক্তি সবসময় কূটনৈতিক সমাধানে ছিল, সরাসরি যুদ্ধের পথে নয়। তাঁর দাবি, ওমানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকলে হয়তো এই সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতো।

সাক্ষাৎকারে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য একটি যৌথ প্রতিরক্ষা জোট গঠনের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, বাইরের হুমকির চেয়ে অভ্যন্তরীণ বিভাজনই এখন আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে সমন্বিত ও খোলামেলা সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কারণ ভৌগোলিক বাস্তবতায় ইরানকে বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইসরাইলের প্ররোচনায় ইরান যুদ্ধের ফাঁদে যুক্তরাষ্ট্র: কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইসরাইলের কৌশলগত প্ররোচনার শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি।

তাঁর দাবি, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী ওয়াশিংটনকে এমন ধারণা দেয় যে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে এবং ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে এই সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

আল–জাজিরাকে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক চাপ কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক মানচিত্র নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্য থেকেই এই সংঘাতকে উসকে দেওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থী মহল বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করে আসছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের ভেতরে ভয় ও চাপ তৈরি করা হয়েছে।

শেখ হামাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানো হয়েছিল—এই যুদ্ধ হবে স্বল্পমেয়াদি এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সরকার দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে গেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি গোটা অঞ্চলে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সংকট আরও বেড়েছে।

তিনি হরমুজ প্রণালিকে বর্তমান সংঘাতের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এই যুদ্ধ চায়নি। তারপরও ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি, জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার সবচেয়ে বড় চাপ এখন তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিনির্ভর নীতিরও সমালোচনা করেন। শেখ হামাদের মতে, ওয়াশিংটনের আসল শক্তি সবসময় কূটনৈতিক সমাধানে ছিল, সরাসরি যুদ্ধের পথে নয়। তাঁর দাবি, ওমানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকলে হয়তো এই সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতো।

সাক্ষাৎকারে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য একটি যৌথ প্রতিরক্ষা জোট গঠনের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, বাইরের হুমকির চেয়ে অভ্যন্তরীণ বিভাজনই এখন আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে সমন্বিত ও খোলামেলা সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কারণ ভৌগোলিক বাস্তবতায় ইরানকে বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।