ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ৩কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্য ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 97
চলমান ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধরনের বহুমাত্রিক চাপ তৈরি করছে—যেখানে একসঙ্গে জ্বালানি সংকট, খাদ্য সংকট এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি কাজ করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই তিনটি চাপ একত্রে বিশ্ব অর্থনীতিকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর প্রভাব হবে তুলনামূলকভাবে বেশি এবং দীর্ঘস্থায়ী।
ইউএনডিপির প্রশাসক ও বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, যুদ্ধ সাধারণত উন্নয়নকে পেছনের দিকে ঠেলে দেয়। তার মতে, এমনকি যদি এখনই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবুও এর নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতি ও সমাজে ইতিমধ্যেই স্থায়ী ছাপ ফেলতে শুরু করেছে।
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেহরানে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও চাপের মধ্যে ফেলেছে।
এই সংকটের প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। খাদ্য উৎপাদন, সার সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক শিপিং ব্যবস্থাতেও এর বড় ধরনের ধাক্কা লাগছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সার সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে আগামী দিনে খাদ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, দ্রুত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ না নিলে অনেক দেশ দীর্ঘমেয়াদি মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে। ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণের চাপে থাকা দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
জাতিসংঘের মতে, বর্তমান সংকট গত এক দশকে দারিদ্র্য হ্রাসে যে অগ্রগতি হয়েছিল, তাকে উল্টো পথে ঠেলে দিতে পারে। ফলে বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডা নতুন করে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ছে।


































