ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে খার্গ দ্বীপ দখলসহ ‘ভয়াবহ হামলার’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / 12

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নতুন হামলা ও কৌশলগত তেল স্থাপনার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে জানা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ওপর “খুব কঠোরভাবে” হামলা চালানো হবে এবং খুব শিগগিরই দেশটির তেল ও গ্যাস খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বিশেষভাবে ইরানের খার্গ দ্বীপের কথা উল্লেখ করেন, যা দেশটির তেল রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু এবং অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্য এমন সময় এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিসরের যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানা যায়।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালালেও কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরান নীতিগতভাবে পারমাণবিক অস্ত্র না নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে, তবে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি এখনো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের সামরিক স্থাপনা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা লক্ষ্য করে নতুন করে “আত্মরক্ষামূলক” হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় মার্কিন নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও মেরিন কোরের ইউনিট অংশ নেয় এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল এমন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী “সতর্ক, শক্তিশালী ও প্রস্তুত” অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো বিদ্যমান যুদ্ধবিরতিকে প্রায় অকার্যকর করে দিয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, “এই অপরাধমূলক হামলার ভয়াবহ পরিণতির সম্পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকেই বহন করতে হবে।”

ট্রাম্প পরে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র “গোপনে” ইরানের বিপুল পরিমাণ তেল সরিয়ে নেওয়ার কাজও করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উত্তেজনা আরও বাড়ায় তবে তা তাদের জন্য “বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।” তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ মূলত নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য আত্মরক্ষামূলক।

তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো একটি কার্যকর ও স্থায়ী চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে আগ্রহী।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইরানে খার্গ দ্বীপ দখলসহ ‘ভয়াবহ হামলার’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নতুন হামলা ও কৌশলগত তেল স্থাপনার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে জানা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ওপর “খুব কঠোরভাবে” হামলা চালানো হবে এবং খুব শিগগিরই দেশটির তেল ও গ্যাস খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বিশেষভাবে ইরানের খার্গ দ্বীপের কথা উল্লেখ করেন, যা দেশটির তেল রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু এবং অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্য এমন সময় এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিসরের যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানা যায়।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালালেও কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরান নীতিগতভাবে পারমাণবিক অস্ত্র না নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে, তবে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি এখনো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের সামরিক স্থাপনা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা লক্ষ্য করে নতুন করে “আত্মরক্ষামূলক” হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় মার্কিন নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও মেরিন কোরের ইউনিট অংশ নেয় এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল এমন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী “সতর্ক, শক্তিশালী ও প্রস্তুত” অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো বিদ্যমান যুদ্ধবিরতিকে প্রায় অকার্যকর করে দিয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, “এই অপরাধমূলক হামলার ভয়াবহ পরিণতির সম্পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকেই বহন করতে হবে।”

ট্রাম্প পরে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র “গোপনে” ইরানের বিপুল পরিমাণ তেল সরিয়ে নেওয়ার কাজও করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উত্তেজনা আরও বাড়ায় তবে তা তাদের জন্য “বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।” তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ মূলত নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য আত্মরক্ষামূলক।

তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো একটি কার্যকর ও স্থায়ী চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে আগ্রহী।