ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আল্লাহ আমাকে খাবার দাও, বৃদ্ধ সাজুর আকুতি

পুলক রায়, শেরপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 42

আল্লাহ খাবার দাও, বৃদ্ধ সাজুর আকুতি

দারিদ্র্য আর বার্ধক্যের কাছে জীবন যখন অসহায়, তখনও ভালোবাসা আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন শেরপুরের ৮০ বছর বয়সী সাজু শেখ ও তার স্ত্রী নূরজাহান। প্রায় ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনে নানা অভাব-অনটন পেরিয়েও একে অপরের পাশে রয়েছেন তারা।

শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামের পৈতৃক ভিটায় বসবাস করেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। সংসারের খরচ চালাতে একসময় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন সাজু শেখ। সীমিত আয়ের মধ্যেই ছয় সন্তান; তিন ছেলে ও তিন মেয়েকে বড় করেছেন তারা। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে অনেক আগেই। তারা কেউ কেউ মাঝে মধ্যে বাবা-মায়ের খোঁজ নেন।

তিন ছেলের একজন করোনার সময় নিখোঁজ হয়ে গেলেও মাঝেমধ্যে খোঁজখবর নেন। আরেক ছেলে ঢাকায় রিকশা চালান এবং বছরে দু-একবার বাড়িতে আসেন। অপর ছেলে নূর ইসলাম শেরপুরে দিনমজুরি ও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে নিজের সংসারের পাশাপাশি বৃদ্ধ মা-বাবার যতটা সম্ভব দেখাশোনা করেন।

তবে নূর ইসলামের নিজের সংসারেও অভাব-অনটন রয়েছে। কয়েক বছর আগে তার স্ত্রী চিকিৎসার অভাবে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ফলে চাইলেও মা-বাবার ভরণপোষণ ও চিকিৎসার খরচ ঠিকমতো বহন করতে পারছেন না তিনি।

এর মধ্যে প্রায় পাঁচ বছর আগে পা পিছলে পড়ে কোমরের হাড় ভেঙে যায় নূরজাহানের। এরপর থেকে তিনি শয্যাশায়ী। অর্থাভাবে তার চিকিৎসাও করাতে পারছেন না স্বামী সাজু শেখ। একই কারণে মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছেন না ছেলে নূর ইসলামও।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ঘরের দরজার বাইরে স্ত্রীকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাজু শেখ। এ সময় অসহায় কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে খাবার দাও, আমার স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’

বৃদ্ধ সাজু শেখের এই আকুতি শুনে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাদের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আল্লাহ আমাকে খাবার দাও, বৃদ্ধ সাজুর আকুতি

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দারিদ্র্য আর বার্ধক্যের কাছে জীবন যখন অসহায়, তখনও ভালোবাসা আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন শেরপুরের ৮০ বছর বয়সী সাজু শেখ ও তার স্ত্রী নূরজাহান। প্রায় ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনে নানা অভাব-অনটন পেরিয়েও একে অপরের পাশে রয়েছেন তারা।

শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামের পৈতৃক ভিটায় বসবাস করেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। সংসারের খরচ চালাতে একসময় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন সাজু শেখ। সীমিত আয়ের মধ্যেই ছয় সন্তান; তিন ছেলে ও তিন মেয়েকে বড় করেছেন তারা। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে অনেক আগেই। তারা কেউ কেউ মাঝে মধ্যে বাবা-মায়ের খোঁজ নেন।

তিন ছেলের একজন করোনার সময় নিখোঁজ হয়ে গেলেও মাঝেমধ্যে খোঁজখবর নেন। আরেক ছেলে ঢাকায় রিকশা চালান এবং বছরে দু-একবার বাড়িতে আসেন। অপর ছেলে নূর ইসলাম শেরপুরে দিনমজুরি ও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে নিজের সংসারের পাশাপাশি বৃদ্ধ মা-বাবার যতটা সম্ভব দেখাশোনা করেন।

তবে নূর ইসলামের নিজের সংসারেও অভাব-অনটন রয়েছে। কয়েক বছর আগে তার স্ত্রী চিকিৎসার অভাবে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ফলে চাইলেও মা-বাবার ভরণপোষণ ও চিকিৎসার খরচ ঠিকমতো বহন করতে পারছেন না তিনি।

এর মধ্যে প্রায় পাঁচ বছর আগে পা পিছলে পড়ে কোমরের হাড় ভেঙে যায় নূরজাহানের। এরপর থেকে তিনি শয্যাশায়ী। অর্থাভাবে তার চিকিৎসাও করাতে পারছেন না স্বামী সাজু শেখ। একই কারণে মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছেন না ছেলে নূর ইসলামও।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ঘরের দরজার বাইরে স্ত্রীকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাজু শেখ। এ সময় অসহায় কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে খাবার দাও, আমার স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’

বৃদ্ধ সাজু শেখের এই আকুতি শুনে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাদের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।