আগস্টেই যোগদানের দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষকরা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / 71
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। নতুন করে যোগদানের তারিখ ঘোষণা করা হলেও তাতে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, আর বিলম্ব নয়; আগস্টের মধ্যেই নিয়োগ কার্যকর করতে হবে।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হন। তারা দ্রুত যোগদানের দাবিতে স্লোগান দেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও তারা কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি। এতে তারা চরম অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট ও মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
তাদের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী এখনো যোগদান ও পদায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন। নিয়োগবিধি অনুযায়ী আগস্ট মাসের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দাবি করেন তারা।
এর আগে শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ভার্চ্যুয়াল সভা শেষে সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে নিয়োগে বিলম্ব হয়েছে। তিনি তখন বলেছিলেন, আগামী ২৯ অক্টোবর নির্বাচিত সহকারী শিক্ষকরা যোগদান করবেন।
তবে পরদিন রোববার সকালে মন্ত্রণালয় আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫’-এর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। এর আগে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে এবং যোগদানের পর ধাপে ধাপে পদায়ন ও পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
তবে নতুন তারিখও প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের ভাষ্য, অক্টোবর পর্যন্ত আরও দুই মাস অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন চাকরিতে যোগ দিতে না পারায় অনেকেই পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়নের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চান তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষকদের প্ল্যাটফর্মের নেতা দেবব্রত সরকার বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে তারা বেকার অবস্থায় রয়েছেন। নতুন তারিখ ঘোষণা করা হলেও তা তাদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। তবে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলে কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে প্রাথমিকভাবে সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা এখনো কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি।





























