আওয়ামী সরকারের সময় পাচার ২৩৪ বিলিয়ন ডলার সংসদে প্রধানমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
- / 201
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। আজ সংসদে প্রথমবার প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য উত্থাপন করেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, এই বিপুল অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। তা উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ ও আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চীনের ওপর নজর রাখা হয়েছে। তিনটি দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি সই হয়েছে, বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন।
অবৈধ অর্থের শিকারে ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ১১টি অগ্রাধিকার মামলা চলছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ, শুল্ক গোয়েন্দা ও এনবিআরের যৌথ তদন্ত দল এ মামলাগুলোর অনুসন্ধান করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আদালতের মাধ্যমে দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ হয়েছে।
এছাড়া ১৪১টি মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টির চার্জশিট দাখিল এবং ৬টির রায় দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধ দমনে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

































