আওয়ামী লীগের শরিকদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 16
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পর দলটির শরিক ও মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজধানীতে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কার্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও তরিকত ফেডারেশনসহ কয়েকটি দলের কার্যালয় অনেকটাই নিষ্ক্রিয়।
২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ এবং দলটির অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এর মধ্যে প্রকাশনা, প্রচার, মিছিল, সভা-সমাবেশ ও সম্মেলনসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও রয়েছে। একই সময়ে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট সংশোধনী অনুমোদনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আইনি ভিত্তিও স্থায়ী করা হয়।
তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে থাকা কয়েকটি দলের কার্যালয়ে এখনো কর্মীদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সহযোগী সংগঠন ছাত্রমৈত্রী ও যুবমৈত্রীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত নেতাকর্মীরা আসছেন বলে জানা গেছে। দলটির এক কর্মী জানান, তাদের দল নিষিদ্ধ না হওয়ায় রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে কোনো বাধা নেই। প্রয়োজন হলে অনলাইনে সভাও করা হয়।
রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও নিয়মিত খোলা থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সেখানে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানা গেছে।
জাসদের এক কর্মী জানান, তাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তবে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কার্যক্রম বর্তমানে সীমিত বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে রাজধানীর কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও তরিকত ফেডারেশনসহ কয়েকটি দলের কার্যালয় দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মাঝে মধ্যে কিছু কর্মী সেখানে এলেও নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম নেই বলে তাদের দাবি।
সম্প্রতি গুলিস্তানের জাসদ কার্যালয়ে দলীয় বৈঠককে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী আটকের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ও আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে এসব দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকায় তাদের বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। ১৪ দলীয় জোটে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদসহ কয়েকটি দল দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ছিল। তবে আওয়ামী লীগের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, তা এসব দল ও তাদের কার্যালয়ের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য কি না; এ নিয়ে আইনগত ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যার প্রশ্ন রয়েছে।
সরকারের ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে থাকা কিন্তু পৃথক নিবন্ধিত দলগুলোর কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট আইনি সিদ্ধান্ত ও সরকারি পদক্ষেপের বিষয়।
এদিকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পর দলটির শরিকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এসব দলের কার্যালয়ে নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম চলবে কি না এবং সরকার তাদের বিষয়ে কোনো পৃথক সিদ্ধান্ত নেবে কি না; সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।





























