ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্থায়ী সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

অন্তার্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 19

স্থায়ী চুক্তিতে বাধা: অস্থায়ী সমঝোতার পথে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় স্থায়ী শান্তিচুক্তি থেকে পিছিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বর্তমানে দুই দেশ একটি অস্থায়ী সমঝোতা বা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা করছে। এই চুক্তির ফলে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য আরও ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে। মূলত পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর মতপার্থক্যের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে। স্থায়ী শান্তিচুক্তির পরিবর্তে উভয় পক্ষ এখন একটি অস্থায়ী সমঝোতা স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে পরমাণু ইস্যুতে দুই দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যগুলো এখন শিথিল করা হয়েছে। ফলে শীঘ্রই একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি সই হতে পারে। বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় আইএইএ-র প্রতিনিধিদের যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।

দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও পরমাণু প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র চায় যে ইরান আগামী ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক। তবে তেহরান মাত্র ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য এই কর্মসূচি স্থগিত করতে রাজি। মূলত ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ফলে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির বদলে আপাতত অস্থায়ী সমঝোতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

যুদ্ধের কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। ইসলামাবাদ বৈঠকে ইরান প্রস্তাব দিয়েছে যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে তারা এই পথ খুলে দেবে। বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১২টি জাহাজ এই পথে চলাচল করতে পারছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হচ্ছে। মূলত এই সংকট কাটাতেও একটি অস্থায়ী সমঝোতা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।

যদি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, তবে যুদ্ধের ডামাডোল কিছুটা শান্ত হবে। বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত রয়েছে। পশ্চিমারা একে পরমাণু অস্ত্র তৈরির হুমকি হিসেবে দেখছে। তবে আলোচনার টেবিলে দুই পক্ষই কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। অবশেষে এই অস্থায়ী সমঝোতার মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ খোঁজা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অস্থায়ী সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

সর্বশেষ আপডেট ০১:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় স্থায়ী শান্তিচুক্তি থেকে পিছিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বর্তমানে দুই দেশ একটি অস্থায়ী সমঝোতা বা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা করছে। এই চুক্তির ফলে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য আরও ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে। মূলত পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর মতপার্থক্যের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে। স্থায়ী শান্তিচুক্তির পরিবর্তে উভয় পক্ষ এখন একটি অস্থায়ী সমঝোতা স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে পরমাণু ইস্যুতে দুই দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যগুলো এখন শিথিল করা হয়েছে। ফলে শীঘ্রই একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি সই হতে পারে। বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় আইএইএ-র প্রতিনিধিদের যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।

দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও পরমাণু প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র চায় যে ইরান আগামী ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক। তবে তেহরান মাত্র ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য এই কর্মসূচি স্থগিত করতে রাজি। মূলত ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ফলে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির বদলে আপাতত অস্থায়ী সমঝোতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

যুদ্ধের কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। ইসলামাবাদ বৈঠকে ইরান প্রস্তাব দিয়েছে যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে তারা এই পথ খুলে দেবে। বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১২টি জাহাজ এই পথে চলাচল করতে পারছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হচ্ছে। মূলত এই সংকট কাটাতেও একটি অস্থায়ী সমঝোতা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।

যদি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, তবে যুদ্ধের ডামাডোল কিছুটা শান্ত হবে। বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত রয়েছে। পশ্চিমারা একে পরমাণু অস্ত্র তৈরির হুমকি হিসেবে দেখছে। তবে আলোচনার টেবিলে দুই পক্ষই কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। অবশেষে এই অস্থায়ী সমঝোতার মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ খোঁজা হচ্ছে।