দাম বাড়লেও কাটেনি সংকট, পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 28
জ্বালনি তেলের দাম বাড়লেও দেশেজুড়ে সংকট কাটছে না। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছে না অনেক গ্রাহক। রোবাবার ( ১৯ এপ্রিল) ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
এরইমধ্যে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি গুরুতর রংপুর বিভাগে। শহরাঞ্চলের কিছু ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ থাকলেও গ্রামাঞ্চলে সংকট তীব্র হওয়ায় অনেক পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ডিজেলের ঘাটতি বেশি দেখা যাচ্ছে, যা কৃষি ও পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
একই ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগেও। ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে নিয়মিত সরবরাহ না পাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবরে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অনেকেই বলছেন, ইতোমধ্যে সংকটের কারণে যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে, দাম বৃদ্ধির ফলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার ২৯টি ফিলিং স্টেশনে বিপুল পরিমাণ মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন অন্তর্ভুক্ত। নির্দেশনা অনুযায়ী, মজুত থাকা তেল পুরানো দামে বিক্রি করার কথা বলা হলেও তা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এক ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পুরানো দামে বিক্রির বিষয়ে তারা প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশনা পাননি।
চট্টগ্রামেও জ্বালানি সংকট অব্যাহত রয়েছে। বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে এখনও পর্যাপ্ত সরবরাহ শুরু হয়নি। ফলে চালক ও সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। চালকরা জানিয়েছেন, তারা সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তেল পাচ্ছেন না। এতে তাদের দৈনন্দিন পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং খরচও বাড়ছে।
একজন চালক বলেন, দাম বাড়লেও আমাদের তেল নিতে হচ্ছে। খরচ বাড়বে, কিন্তু আমাদের তো চলতেই হবে। আরেকজন জানান, সকাল সাতটা থেকে অপেক্ষা করেও এখনও তেল পাননি।
সারাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট ও দাম বৃদ্ধির প্রভাব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে।































