ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গুতে এবার রক্তক্ষরণের শঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / 9

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

চলতি মরসুমে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দিয়ে রক্তক্ষরণেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের এক বিশেষ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন এবারের ডেঙ্গুর রূপ অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে, যার পোশাকি নাম ‘হেমোরেজিক’। এই ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোগীর অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। এই মারাত্মক পরিস্থিতি এড়াতে সাধারণ মানুষকে আগে থেকেই অনেক বেশি সচেতন ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিনদিন পর থেকেই দেশজুড়ে জোরদার মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

মশার লার্ভা অনুসন্ধানে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক অভিযান চালানো হবে এবং যে প্রতিষ্ঠানেই ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা বাড়ির মালিকদের মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম মশক নিধনে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, কেবল সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, এ জন্য জনগণকে নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

সাম্প্রতিক এক জরিপের ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মোট ৬৩টি ওয়ার্ড বর্তমানে ডেঙ্গুর জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে ২৮টি ওয়ার্ডকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও যোগ করেন, ডেঙ্গুর এই মহামারি মোকাবিলায় সাধারণ জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ হলেই কেবল ঢাকা থেকে ডেঙ্গু সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ডেঙ্গুতে এবার রক্তক্ষরণের শঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

চলতি মরসুমে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দিয়ে রক্তক্ষরণেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের এক বিশেষ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন এবারের ডেঙ্গুর রূপ অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে, যার পোশাকি নাম ‘হেমোরেজিক’। এই ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোগীর অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। এই মারাত্মক পরিস্থিতি এড়াতে সাধারণ মানুষকে আগে থেকেই অনেক বেশি সচেতন ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিনদিন পর থেকেই দেশজুড়ে জোরদার মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

মশার লার্ভা অনুসন্ধানে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক অভিযান চালানো হবে এবং যে প্রতিষ্ঠানেই ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা বাড়ির মালিকদের মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম মশক নিধনে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, কেবল সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, এ জন্য জনগণকে নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

সাম্প্রতিক এক জরিপের ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মোট ৬৩টি ওয়ার্ড বর্তমানে ডেঙ্গুর জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে ২৮টি ওয়ার্ডকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও যোগ করেন, ডেঙ্গুর এই মহামারি মোকাবিলায় সাধারণ জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ হলেই কেবল ঢাকা থেকে ডেঙ্গু সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হবে।