ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ লাখ কোটির বাজেটে বড় ঘাটতি, ঋণনির্ভরতার আশঙ্কা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / 8

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের বিশাল ঘাটতি মেটাতে এবারও সরকারকে বড় আকারে দেশি ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশাল ঘাটতি পূরণে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং বিভিন্ন বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসেবে সংগ্রহ করা হবে। এর পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে আগের নেওয়া বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ বাদে আরও ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে সরকারকে। এবারের বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যার বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকার দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত মাত্র ১০ মাসেই সরকার নিট ১ লাখ ৯ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেলেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ইতিমধ্যেই ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরুতে সরকারের ব্যাংকঋণের স্থিতি যেখানে ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা, তা মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে 6 লাখ ৬০ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকায়। মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক—উভয় উৎস থেকেই সরকারের এই ঋণ নেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

অর্থনৈতিক খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের আয়ের প্রধান উৎস রাজস্ব হলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে শুল্ক ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা পার হয়ে গেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব ঘাটতি। মূলত দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি মন্থর গতি এবং আমদানি কমে যাওয়ার কারণেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় করতে পারছে না। এনবিআরের তথ্যমতে, প্রথম ১০ মাসে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা।

এই পরিস্থিতির কারণে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের ঋণের ওপর নির্ভরতা যেমন বাড়ছে, তেমনি দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে চরম আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাঁরা মনে করছেন, সরকার একাই যদি ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেয়, তবে বেসরকারি খাতে ঋণ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে এবং সুদের হারও বেড়ে যাবে। ইতিমধ্যেই বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দেশে তীব্র বিনিয়োগ মন্দার প্রমাণ দেয়। বর্তমানে দেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি প্রায় ১১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই বিষয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম সতর্ক করে বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বেশ কঠিন হবে এবং অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির বদলে উল্টো ছাঁটাই বা সংকোচনের ঝুঁকি বাড়াবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৯ লাখ কোটির বাজেটে বড় ঘাটতি, ঋণনির্ভরতার আশঙ্কা

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের বিশাল ঘাটতি মেটাতে এবারও সরকারকে বড় আকারে দেশি ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশাল ঘাটতি পূরণে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং বিভিন্ন বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসেবে সংগ্রহ করা হবে। এর পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে আগের নেওয়া বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ বাদে আরও ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে সরকারকে। এবারের বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যার বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকার দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত মাত্র ১০ মাসেই সরকার নিট ১ লাখ ৯ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেলেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ইতিমধ্যেই ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরুতে সরকারের ব্যাংকঋণের স্থিতি যেখানে ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা, তা মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে 6 লাখ ৬০ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকায়। মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক—উভয় উৎস থেকেই সরকারের এই ঋণ নেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

অর্থনৈতিক খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের আয়ের প্রধান উৎস রাজস্ব হলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে শুল্ক ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা পার হয়ে গেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব ঘাটতি। মূলত দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি মন্থর গতি এবং আমদানি কমে যাওয়ার কারণেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় করতে পারছে না। এনবিআরের তথ্যমতে, প্রথম ১০ মাসে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা।

এই পরিস্থিতির কারণে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের ঋণের ওপর নির্ভরতা যেমন বাড়ছে, তেমনি দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে চরম আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাঁরা মনে করছেন, সরকার একাই যদি ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেয়, তবে বেসরকারি খাতে ঋণ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে এবং সুদের হারও বেড়ে যাবে। ইতিমধ্যেই বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দেশে তীব্র বিনিয়োগ মন্দার প্রমাণ দেয়। বর্তমানে দেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি প্রায় ১১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই বিষয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম সতর্ক করে বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বেশ কঠিন হবে এবং অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির বদলে উল্টো ছাঁটাই বা সংকোচনের ঝুঁকি বাড়াবে।