ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসি-রোনালদোর হাত ধরে মাঠে নামা শিশুরা কারা !

স্পোর্টস ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / 19

মেসি-রোনালদোর হাত ধরে মাঠে নামা শিশুরা কারা ! ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল ম্যাচ শুরুর আগে একটি দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। তারকা ফুটবলারদের হাত ধরে কিংবা তাদের পাশে হেঁটে মাঠে প্রবেশ করে ছোট ছোট শিশুরা। হাজারো দর্শকের সামনে তাদের চোখেমুখে থাকে উচ্ছ্বাস আর আনন্দের ঝলক।

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই শিশুরা কারা? আর কেনই বা তারা ফুটবলারদের সঙ্গে মাঠে নামার সুযোগ পায়?

ফুটবল জগতে এই শিশুদের সাধারণত দুটি নামে ডাকা হয়- ‘মাসকট’ এবং ‘প্লেয়ার এসকর্ট’। যদি কোনো শিশু পুরো দলের প্রতিনিধিত্ব করে, তাকে বলা হয় মাসকট। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করে, তাহলে তাকে বলা হয় প্লেয়ার এসকর্ট।

এই প্রথার সঠিক সূচনা কখন হয়েছিল, তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে ধারণা করা হয়, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই এটি জনপ্রিয় হতে শুরু করে।

১৯৯৬ সালে লিভারপুল ও এভারটনের এক ম্যাচে দুই দলের অধিনায়কের পাশে দুইজন কিশোরকে দেখা যায়। মজার বিষয় হলো, এভারটনের সেই শিশুদের একজন ছিলেন ভবিষ্যতের ফুটবল তারকা ওয়েন রুনি। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর।

এরপর ২০০০ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে একজন করে শিশু মাঠে প্রবেশ করে। তবে এই প্রথা সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পায় ২০০২ সালের বিশ্বকাপে।

সেবার ফিফা ও ইউনিসেফ যৌথভাবে ‘সে ইয়েস টু চিলড্রেন’ নামে একটি বৈশ্বিক প্রচারণা চালায়। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই প্রতিটি ফুটবলারের সঙ্গে একজন শিশু মাঠে প্রবেশ করেছিল। এরপর থেকে ফুটবলের অন্যতম পরিচিত ঐতিহ্যে পরিণত হয় এই দৃশ্য।

তাহলে এই শিশুরা কারা? সাধারণত পাঁচ থেকে সতেরো বছর বয়সী শিশুদের মধ্য থেকে তাদের নির্বাচন করা হয়। অনেক ক্লাব তাদের দীর্ঘদিনের সমর্থকদের সন্তানদের এই সুযোগ দেয়। আবার কোথাও সদস্যদের সন্তানদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়।

স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। বিজয়ী শিশুরা তখন নিজেদের প্রিয় তারকার হাত ধরে মাঠে নামার সুযোগ পায়।

অনেক সময় গুরুতর অসুস্থ শিশুদের বিশেষ অতিথি হিসেবেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের জন্য এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

বড় বড় ক্লাবের নিজস্ব ফুটবল একাডেমিও রয়েছে। সেখানে মেধাবী বা পরিশ্রমী শিশুদের পুরস্কার হিসেবে প্রথম দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে নামার সুযোগ দেওয়া হয়। এতে তারা কাছ থেকে তারকাদের দেখতে পারে, কথা বলতে পারে এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা পায়।

কিছু ক্লাব আবার নির্দিষ্ট ফি-এর বিনিময়ে মাসকট হওয়ার সুযোগ দেয়। এই অর্থ ক্লাবের উন্নয়ন কিংবা বিভিন্ন সামাজিক ও দাতব্য কাজে ব্যয় করা হয়। জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রে চাহিদা এত বেশি যে, সুযোগ পেতে অনেক সময় কয়েক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

ফুটবলারদের সঙ্গে শিশুদের মাঠে প্রবেশ করানো শুধুই একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি একটি বার্তা। এমন একটি বার্তা, যা মনে করিয়ে দেয়- খেলাধুলা শুধু জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়। এটি নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখানোরও একটি মাধ্যম।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মেসি-রোনালদোর হাত ধরে মাঠে নামা শিশুরা কারা !

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ফুটবল ম্যাচ শুরুর আগে একটি দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। তারকা ফুটবলারদের হাত ধরে কিংবা তাদের পাশে হেঁটে মাঠে প্রবেশ করে ছোট ছোট শিশুরা। হাজারো দর্শকের সামনে তাদের চোখেমুখে থাকে উচ্ছ্বাস আর আনন্দের ঝলক।

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই শিশুরা কারা? আর কেনই বা তারা ফুটবলারদের সঙ্গে মাঠে নামার সুযোগ পায়?

ফুটবল জগতে এই শিশুদের সাধারণত দুটি নামে ডাকা হয়- ‘মাসকট’ এবং ‘প্লেয়ার এসকর্ট’। যদি কোনো শিশু পুরো দলের প্রতিনিধিত্ব করে, তাকে বলা হয় মাসকট। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করে, তাহলে তাকে বলা হয় প্লেয়ার এসকর্ট।

এই প্রথার সঠিক সূচনা কখন হয়েছিল, তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে ধারণা করা হয়, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই এটি জনপ্রিয় হতে শুরু করে।

১৯৯৬ সালে লিভারপুল ও এভারটনের এক ম্যাচে দুই দলের অধিনায়কের পাশে দুইজন কিশোরকে দেখা যায়। মজার বিষয় হলো, এভারটনের সেই শিশুদের একজন ছিলেন ভবিষ্যতের ফুটবল তারকা ওয়েন রুনি। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর।

এরপর ২০০০ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে একজন করে শিশু মাঠে প্রবেশ করে। তবে এই প্রথা সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পায় ২০০২ সালের বিশ্বকাপে।

সেবার ফিফা ও ইউনিসেফ যৌথভাবে ‘সে ইয়েস টু চিলড্রেন’ নামে একটি বৈশ্বিক প্রচারণা চালায়। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই প্রতিটি ফুটবলারের সঙ্গে একজন শিশু মাঠে প্রবেশ করেছিল। এরপর থেকে ফুটবলের অন্যতম পরিচিত ঐতিহ্যে পরিণত হয় এই দৃশ্য।

তাহলে এই শিশুরা কারা? সাধারণত পাঁচ থেকে সতেরো বছর বয়সী শিশুদের মধ্য থেকে তাদের নির্বাচন করা হয়। অনেক ক্লাব তাদের দীর্ঘদিনের সমর্থকদের সন্তানদের এই সুযোগ দেয়। আবার কোথাও সদস্যদের সন্তানদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়।

স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। বিজয়ী শিশুরা তখন নিজেদের প্রিয় তারকার হাত ধরে মাঠে নামার সুযোগ পায়।

অনেক সময় গুরুতর অসুস্থ শিশুদের বিশেষ অতিথি হিসেবেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের জন্য এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

বড় বড় ক্লাবের নিজস্ব ফুটবল একাডেমিও রয়েছে। সেখানে মেধাবী বা পরিশ্রমী শিশুদের পুরস্কার হিসেবে প্রথম দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে নামার সুযোগ দেওয়া হয়। এতে তারা কাছ থেকে তারকাদের দেখতে পারে, কথা বলতে পারে এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা পায়।

কিছু ক্লাব আবার নির্দিষ্ট ফি-এর বিনিময়ে মাসকট হওয়ার সুযোগ দেয়। এই অর্থ ক্লাবের উন্নয়ন কিংবা বিভিন্ন সামাজিক ও দাতব্য কাজে ব্যয় করা হয়। জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রে চাহিদা এত বেশি যে, সুযোগ পেতে অনেক সময় কয়েক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

ফুটবলারদের সঙ্গে শিশুদের মাঠে প্রবেশ করানো শুধুই একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি একটি বার্তা। এমন একটি বার্তা, যা মনে করিয়ে দেয়- খেলাধুলা শুধু জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়। এটি নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখানোরও একটি মাধ্যম।