ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ম গ্রেডেই শুরু, ১০ম গ্রেডেই শেষ

মাঠপ্রশাসনে ২৫ বছরেও পদোন্নতি নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 117

জেলা প্রশাসকের কাছে বঞ্চিতদের স্মারকলিপি

মাঠপ্রশাসনের প্রায় ৮৩০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে একই পদে কর্মরত থাকলেও চাকরিজীবনে কোনো পদোন্নতির সুযোগ পাচ্ছেন না। ১০ম গ্রেডে যোগ দিয়ে একই গ্রেডে থেকেই অবসরে যেতে হচ্ছে তাদের। এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে।

পদোন্নতির সুযোগ ও কার্যকর ক্যারিয়ার প্ল্যানিং চালুর দাবিতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘বাংলাদেশ মাঠপ্রশাসন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি’। দেশের আট বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নির্বাচন, দুর্যোগ মোকাবিলা, ভিআইপি প্রটোকল, স্থানীয় সরকার, রাজস্ব আদায়, কৃষি কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের প্রশাসনিক কাজে তাদের দায়িত্ব রয়েছে।

তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ব পালনের পরও তাদের পদোন্নতির কোনো সোপান তৈরি হয়নি। ফলে একই পদে বছরের পর বছর কাজ করতে হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দাবি, এতে পেশাগত মর্যাদা ও কর্মস্পৃহা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সমিতির দাবি, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ১৮ ধারায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য কর্মজীবন পরিকল্পনা বা ক্যারিয়ার প্ল্যানিংয়ের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মাঠপ্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি।

সচিবালয়ের কর্মচারীদের সঙ্গে তুলনা করে কর্মকর্তারা বৈষম্যের অভিযোগও তুলেছেন। তাদের দাবি, সচিবালয়ে অপেক্ষাকৃত নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরাও পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে উচ্চতর পদে যাওয়ার সুযোগ পান। অথচ মাঠপ্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন একই গ্রেডে আটকে রয়েছেন।

সমিতির সভাপতি এস এম জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাঠপ্রশাসনে ক্যাডার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তারা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। ২৫ বছর একই পদে আটকে থাকার বিষয়টি তাদের জন্য মানসিকভাবে কষ্টকর। তারা অতিরিক্ত কোনো সুবিধা নয়, সরকারি চাকরি আইনের আলোকে ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও পদোন্নতির সুযোগ চান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মাঠপ্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতির পথ তৈরির বিষয়ে এর আগেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের ২৪ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘মাঠপ্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কর্মজীবন পরিকল্পনা’ বিষয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৯ম গ্রেডে ‘সেকশন অফিসার’ এবং ৭ম/৮ম গ্রেডে ‘সিনিয়র সেকশন অফিসার’ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৫-এ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে ৯ম গ্রেডের একাধিক পদ সৃষ্টির মাধ্যমে পদোন্নতির সুযোগ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এসব সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ কর্মকর্তাদের।

তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হলে ক্যাডার কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক চাপ কমবে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ জনবলকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে এবং সরকারি সেবার গতি বাড়বে।

দীর্ঘদিনের এই পদোন্নতি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত পদসোপান সৃষ্টি ও ক্যারিয়ার প্ল্যানিং বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

১০ম গ্রেডেই শুরু, ১০ম গ্রেডেই শেষ

মাঠপ্রশাসনে ২৫ বছরেও পদোন্নতি নেই

সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

মাঠপ্রশাসনের প্রায় ৮৩০ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে একই পদে কর্মরত থাকলেও চাকরিজীবনে কোনো পদোন্নতির সুযোগ পাচ্ছেন না। ১০ম গ্রেডে যোগ দিয়ে একই গ্রেডে থেকেই অবসরে যেতে হচ্ছে তাদের। এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে।

পদোন্নতির সুযোগ ও কার্যকর ক্যারিয়ার প্ল্যানিং চালুর দাবিতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘বাংলাদেশ মাঠপ্রশাসন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি’। দেশের আট বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নির্বাচন, দুর্যোগ মোকাবিলা, ভিআইপি প্রটোকল, স্থানীয় সরকার, রাজস্ব আদায়, কৃষি কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের প্রশাসনিক কাজে তাদের দায়িত্ব রয়েছে।

তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ব পালনের পরও তাদের পদোন্নতির কোনো সোপান তৈরি হয়নি। ফলে একই পদে বছরের পর বছর কাজ করতে হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দাবি, এতে পেশাগত মর্যাদা ও কর্মস্পৃহা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সমিতির দাবি, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ১৮ ধারায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য কর্মজীবন পরিকল্পনা বা ক্যারিয়ার প্ল্যানিংয়ের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মাঠপ্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি।

সচিবালয়ের কর্মচারীদের সঙ্গে তুলনা করে কর্মকর্তারা বৈষম্যের অভিযোগও তুলেছেন। তাদের দাবি, সচিবালয়ে অপেক্ষাকৃত নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরাও পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে উচ্চতর পদে যাওয়ার সুযোগ পান। অথচ মাঠপ্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন একই গ্রেডে আটকে রয়েছেন।

সমিতির সভাপতি এস এম জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাঠপ্রশাসনে ক্যাডার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তারা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। ২৫ বছর একই পদে আটকে থাকার বিষয়টি তাদের জন্য মানসিকভাবে কষ্টকর। তারা অতিরিক্ত কোনো সুবিধা নয়, সরকারি চাকরি আইনের আলোকে ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও পদোন্নতির সুযোগ চান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মাঠপ্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতির পথ তৈরির বিষয়ে এর আগেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের ২৪ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘মাঠপ্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কর্মজীবন পরিকল্পনা’ বিষয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৯ম গ্রেডে ‘সেকশন অফিসার’ এবং ৭ম/৮ম গ্রেডে ‘সিনিয়র সেকশন অফিসার’ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৫-এ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে ৯ম গ্রেডের একাধিক পদ সৃষ্টির মাধ্যমে পদোন্নতির সুযোগ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এসব সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ কর্মকর্তাদের।

তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হলে ক্যাডার কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক চাপ কমবে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ জনবলকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে এবং সরকারি সেবার গতি বাড়বে।

দীর্ঘদিনের এই পদোন্নতি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত পদসোপান সৃষ্টি ও ক্যারিয়ার প্ল্যানিং বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তারা।