পিংক বাসে বেগুনি রং ব্যবহারের দাবি নারীপক্ষের
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
- / 76
নারীদের জন্য সম্প্রতি চালু হওয়া পিংক বাসের কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি এতে বেগুনি রং ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে নারী অধিকার সংগঠন নারীপক্ষ। সংগঠনটির মতে, বেগুনি রং নারী অধিকার, সমতা ও ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে এই উদ্যোগের উদ্দেশ্যের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শনিবার (২২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে নারীপক্ষ এ দাবি জানায়। একই সঙ্গে গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
নারীপক্ষের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে; গণপরিবহন ও জনপরিসরে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পরিবহনকর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া, সহজলভ্য ও কার্যকর অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা চালু করা এবং সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া।
এ ছাড়া নগর ও পরিবহন পরিকল্পনায় নারীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং নারীসহ সবার জন্য সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ গণপরিবহন নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে নারীপক্ষ বলেছে, গণপরিবহনে যৌন হয়রানি ও সহিংসতার কারণে নারীর নিরাপদ চলাচল এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এ বাস্তবতায় পিংক বাস নারীদের তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা নিরাপত্তা ও স্বস্তি দিতে পারে। তাই উদ্যোগটিকে বিচ্ছিন্ন সমাধান না দেখে সহায়ক ও অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানায় তারা।
সংগঠনটি আরও বলেছে, নারীর নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ বা অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণকে বৈষম্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদ এবং সিডও সনদের ৪(১) অনুচ্ছেদেও এ ধরনের বিশেষ ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে নারীপক্ষ।
তবে সংগঠনটির প্রশ্ন, নারীদের কেন আলাদা বাসে নিরাপদ বোধ করতে হবে, সাধারণ গণপরিবহন ও জনপরিসর সবার জন্য নিরাপদ হবে না কেন?
নারীপক্ষ মনে করে, দীর্ঘমেয়াদে এমন জনপরিসর গড়ে তুলতে হবে যেখানে বয়স, পোশাক, পেশা, শ্রেণি কিংবা চলাচলের সময় নির্বিশেষে নারীরা স্বাধীনভাবে, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে চলাচল করতে পারেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, পিংক বাসের মতো উদ্যোগ যেন সাধারণ গণপরিবহন ও জনপরিসরকে নারীবান্ধব ও নিরাপদ করার রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়িত্বকে আড়াল না করে। নারীর নিরাপত্তার স্থায়ী সমাধান তাকে জনপরিসর থেকে আলাদা করা নয়; বরং জনপরিসরকেই সবার জন্য নিরাপদ করে তোলা।
নারীপক্ষের মতে, প্রতীকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ।






























