ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিংক বাসে বেগুনি রং ব্যবহারের দাবি নারীপক্ষের

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 74

পিংক বাসে বেগুনি রং ব্যবহারের দাবি নারীপক্ষের

নারীদের জন্য সম্প্রতি চালু হওয়া পিংক বাসের কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি এতে বেগুনি রং ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে নারী অধিকার সংগঠন নারীপক্ষ। সংগঠনটির মতে, বেগুনি রং নারী অধিকার, সমতা ও ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে এই উদ্যোগের উদ্দেশ্যের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শনিবার (২২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে নারীপক্ষ এ দাবি জানায়। একই সঙ্গে গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

নারীপক্ষের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে; গণপরিবহন ও জনপরিসরে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পরিবহনকর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া, সহজলভ্য ও কার্যকর অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা চালু করা এবং সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া।

এ ছাড়া নগর ও পরিবহন পরিকল্পনায় নারীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং নারীসহ সবার জন্য সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ গণপরিবহন নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে নারীপক্ষ বলেছে, গণপরিবহনে যৌন হয়রানি ও সহিংসতার কারণে নারীর নিরাপদ চলাচল এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এ বাস্তবতায় পিংক বাস নারীদের তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা নিরাপত্তা ও স্বস্তি দিতে পারে। তাই উদ্যোগটিকে বিচ্ছিন্ন সমাধান না দেখে সহায়ক ও অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানায় তারা।

সংগঠনটি আরও বলেছে, নারীর নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ বা অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণকে বৈষম্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদ এবং সিডও সনদের ৪(১) অনুচ্ছেদেও এ ধরনের বিশেষ ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে নারীপক্ষ।

তবে সংগঠনটির প্রশ্ন, নারীদের কেন আলাদা বাসে নিরাপদ বোধ করতে হবে, সাধারণ গণপরিবহন ও জনপরিসর সবার জন্য নিরাপদ হবে না কেন?

নারীপক্ষ মনে করে, দীর্ঘমেয়াদে এমন জনপরিসর গড়ে তুলতে হবে যেখানে বয়স, পোশাক, পেশা, শ্রেণি কিংবা চলাচলের সময় নির্বিশেষে নারীরা স্বাধীনভাবে, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে চলাচল করতে পারেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, পিংক বাসের মতো উদ্যোগ যেন সাধারণ গণপরিবহন ও জনপরিসরকে নারীবান্ধব ও নিরাপদ করার রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়িত্বকে আড়াল না করে। নারীর নিরাপত্তার স্থায়ী সমাধান তাকে জনপরিসর থেকে আলাদা করা নয়; বরং জনপরিসরকেই সবার জন্য নিরাপদ করে তোলা।

নারীপক্ষের মতে, প্রতীকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পিংক বাসে বেগুনি রং ব্যবহারের দাবি নারীপক্ষের

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

নারীদের জন্য সম্প্রতি চালু হওয়া পিংক বাসের কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি এতে বেগুনি রং ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে নারী অধিকার সংগঠন নারীপক্ষ। সংগঠনটির মতে, বেগুনি রং নারী অধিকার, সমতা ও ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে এই উদ্যোগের উদ্দেশ্যের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শনিবার (২২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে নারীপক্ষ এ দাবি জানায়। একই সঙ্গে গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

নারীপক্ষের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে; গণপরিবহন ও জনপরিসরে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পরিবহনকর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া, সহজলভ্য ও কার্যকর অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা চালু করা এবং সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া।

এ ছাড়া নগর ও পরিবহন পরিকল্পনায় নারীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং নারীসহ সবার জন্য সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ গণপরিবহন নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে নারীপক্ষ বলেছে, গণপরিবহনে যৌন হয়রানি ও সহিংসতার কারণে নারীর নিরাপদ চলাচল এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এ বাস্তবতায় পিংক বাস নারীদের তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা নিরাপত্তা ও স্বস্তি দিতে পারে। তাই উদ্যোগটিকে বিচ্ছিন্ন সমাধান না দেখে সহায়ক ও অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানায় তারা।

সংগঠনটি আরও বলেছে, নারীর নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ বা অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণকে বৈষম্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদ এবং সিডও সনদের ৪(১) অনুচ্ছেদেও এ ধরনের বিশেষ ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে নারীপক্ষ।

তবে সংগঠনটির প্রশ্ন, নারীদের কেন আলাদা বাসে নিরাপদ বোধ করতে হবে, সাধারণ গণপরিবহন ও জনপরিসর সবার জন্য নিরাপদ হবে না কেন?

নারীপক্ষ মনে করে, দীর্ঘমেয়াদে এমন জনপরিসর গড়ে তুলতে হবে যেখানে বয়স, পোশাক, পেশা, শ্রেণি কিংবা চলাচলের সময় নির্বিশেষে নারীরা স্বাধীনভাবে, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে চলাচল করতে পারেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, পিংক বাসের মতো উদ্যোগ যেন সাধারণ গণপরিবহন ও জনপরিসরকে নারীবান্ধব ও নিরাপদ করার রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়িত্বকে আড়াল না করে। নারীর নিরাপত্তার স্থায়ী সমাধান তাকে জনপরিসর থেকে আলাদা করা নয়; বরং জনপরিসরকেই সবার জন্য নিরাপদ করে তোলা।

নারীপক্ষের মতে, প্রতীকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ।