নরসিংদী ঘুষ চক্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জেরে এডিসি বদলি
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 82
নরসিংদীতে জমি অধিগ্রহণে ‘ঘুস সিন্ডিকেটর বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ায় প্রভাবশালী মহলের দাপটে এডিসি মাহমুদা বেগম এর বদলি| একজন সৎ সাহসি যোগ্য কর্মকর্তাকে তদন্ত ছাড়া তড়িঘড়ি করে বদলি করায় নরসিংদীর জনমনে হতাশা বিরাজ করছে| বদলি ঠেকাতে বিভিন্ন মহলের জোর দাবী|
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নরসিংদীতে জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুস বাণিজ্যের বিস্তৃত চিত্র উঠে এসেছে দীর্ঘ অনুসন্ধানে| এতে শত শত কোটি টাকার কমিশন লেনদেনকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে|
‘ঘুস বানিজ্য সিন্ডিকেটর বিরুদ্ধে এডিসি কঠোর হওয়ায় প্রভাবশালীদের দাপটে বদলি| একজন সৎ যোগ্য কর্মকর্তাকে তদন্ত ছাড়া তড়িঘড়ি করে বদলি করায় নরসিংদীর জনমনে হতাশা বিরাজ করছে|
অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি), সড়ক ও জনপথ (সওজ) ও গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী, সার্ভেয়ার, কানুনগো, স্থানীয় দালাল ও প্রভাবশালী মহলসহ অন্তত ২০-২৫ জনের একটি চক্র জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছিল| এই চক্রের মাধ্যমে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়ানো হতো|
সরকার অতিরিক্ত রাজ¯^ দেওয়ার কারনে অনেক গুন ব্যায় হইত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) এই ব্যায় ঠেকাতে সৎ সাহসি ভুমিকা নিলে তাকে বদলি করতে দুষ্ট চক্র নানা ষড়যন্ত্র মেতে উঠে|
দুর্নীতির কৌশল হিসেবে কৃষিজমি বা নালাকে ভিটি এবং ভিটিকে বাণিজ্যিক শ্রেণিতে দেখানো হতো| অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তের পরও রাতারাতি নিম্নমানের স্থাপনা নির্মাণ করে জমির মূল্য কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়| এসব স্থাপনা পরে বাণিজ্যিক হিসেবে দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করা হয়|
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ঘুস লেনদেনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তিপত্র ˆতরি করা হতো| এমনকি এসব চুক্তির কিছু অংশ প্রশাসনিক নথির সঙ্গে সংযুক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা প্রশাসনিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে|
প্রায় সাড়ে ১৬ একর জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে এই অনিয়মের বিস্তার ঘটে| মসজিদের দানকৃত জমি ব্যক্তির নামে দেখিয়ে ক্ষতিপূরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমিও ব্যক্তি নামে প্রস্তাব করা—এ ধরনের গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে|
তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকল্পে বরাদ্দ ১২০০ কোটি টাকার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব ˆতরি করা হয়েছিল, যার সঙ্গে বাস্তবতার বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে| এ কারণে বিভিন্ন এলএ কেসে বিপুল সংখ্যক নাম ও স্থাপনা বাতিল করা হয়েছে|
স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে অনেক জমির মালিককে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা ঘুস হিসেবে দিতে হয়েছে| অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রকৃত মালিকের পরিবর্তে দালালদের মাধ্যমে চেক উত্তোলন করা হয়েছে|
ইতোমধ্যে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ বিতরণ করা হলেও এর বড় অংশই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাগাভাগি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে|
এদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজ) মাহমুদা বেগম দায়িত্ব নেওয়ার পর অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম শনাক্ত করেন| তিনি জমির রেকর্ড, বাস্তব অবস্থা ও আইনগত বিধান যাচাই করে নিয়মবহির্ভূত আবেদন বাতিল করেন এবং নতুন করে যাচাই-বাছাই শুরু করেন|
তার এই কঠোর অবস্থানের ফলে সরকারের প্রায় ৩হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা ˆতরি হয় এবং দীর্ঘদিনের ঘুস সিন্ডিকেট ভেঙে পড়ে|
তবে প্রভাবশালী মহলের চাপ উপেক্ষা করায় গত ২৭ এপ্রিল তাকে পরিকল্পনা কমিশনে বদলি করা হয়েছে| কয়েকজন দালাল ছাড়া বাকী নরসিংদীবাসীর জোর দাবী একজন সৎ সাহসী প্রতিবাদী মেধাবী এডিসিকে বদলি ঠেকাতে জোর দাবী করা হচ্ছে|
অধিগ্রহণ সিদ্ধান্তের পর নির্মিত ভবনসহ বহু অনিয়ম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা আইনের পরিপন্থী| এসব বাতিল করায় তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছেন|
এক প্রভাবশালী মহলের অবৈধ তদবির না মানায় তাকে বদলি করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ ওঠেছে| এর আগে ২০২০ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকেও এ প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল|
তবে তাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে| এই ঘটনা নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতি আরও বিস্তার লাভ করবে এবং সরকারের বিপুল আর্থিক ব্যাপক ক্ষতি হবে|





































