নবম পে-স্কেল নিয়ে সুখবর
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
- / 18
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও শুরুতেই মূল বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনাই আলোচনায় এসেছে।
সরকারি বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসে গঠিত কমিটি নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ জমা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি চলছে, যদিও চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও বাকি।
এর আগে ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশনসংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পরই তারা নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া তৈরি করে জমা দিয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে একাধিক ধাপে এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হতে পারে। তবে প্রথম ধাপেই মূল বেতন বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরবর্তী ধাপগুলোতে চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা সমন্বয় করা হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সর্বশেষ অষ্টম পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রায় এক যুগ কেটে গেলেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ বাস্তবে দেখা যায়নি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন করে পে-কমিশন গঠন এবং সুপারিশ প্রণয়নের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি আবারও গতি পায়।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে, যেখানে অনুপাত রাখা হয়েছে ১:৮। এই অনুপাত ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার একটি প্রবণতা আগের কমিশনগুলোতেও দেখা গেছে।
নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর বর্তমান মোট আয় যেখানে প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা, নতুন স্কেলে তা ভাতাসহ ৪১ হাজার টাকার বেশি হতে পারে—যদিও এটি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে।
১৯তম থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ থাকলেও সেটি সীমিত রাখার ইঙ্গিত রয়েছে, যাতে সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় থাকে। যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকি ভাতার মতো সুবিধাগুলোতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। তবে গাড়ি সুবিধা নগদায়নের ভাতা এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে, ফলে উচ্চ গ্রেডে ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম দেখাতে পারে।
এছাড়া বর্তমানে চালু থাকা ১০ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করার কথাও বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রস্তাবটি একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়—যদিও বাস্তবায়নের গতি ও পরিসর শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।





























