ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম বাড়িয়েও স্বাভাবিক হয়নি এলপিজি বাজার

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 42

এলপিজি

এলপিজির দাম সমন্বয়ের পরও বাজারে সরবরাহ সংকট কাটেনি। আমদানিকারকদের আশ্বাসের পরও অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে চাহিদামতো সিলিন্ডার পাচ্ছেন না পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আমদানিকারকরা পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানির কথা বললেও পরিবেশকদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করছে না। এ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে সংকটের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকির দাবি উঠেছে।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব জানিয়েছিল, দাম সমন্বয় করা হলে আমদানি বাড়বে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

তাদের অভিযোগ, আমদানিকারক পর্যায়ে ট্রাক আটকে থাকছে। তিন থেকে চার দিন অপেক্ষার পর গাড়ি এলেও চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এক ব্যবসায়ী জানান, ১২ কেজির ১৪৭টি সিলিন্ডার পেতে তিন দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। পাইকারি পর্যায়ে পণ্য পৌঁছানোর পর খুচরা দোকানিরা ভাগে মাত্র পাঁচ থেকে সাতটি সিলিন্ডার পাচ্ছেন। গাড়ি পাঠানোর পরও চার থেকে পাঁচ দিন প্ল্যান্টে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে সরবরাহে দেরির পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে।

তবে সংকটের অভিযোগ মানতে নারাজ লোয়াব। সংগঠনটির দাবি, চলতি মাসে দেড় লাখ টনের বেশি এলপিজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য কেনার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে কার্গো পৌঁছাতে সময় লাগছে। নির্ধারিত সময়ে জাহাজ না পৌঁছানোয় ট্রাকগুলো অপেক্ষায় থাকছে। এই পরিস্থিতিকে কেউ কেউ সরবরাহ সংকট হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

লোয়াবের সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ জানান, সমন্বয়ের মাধ্যমে চলতি মাসে বাজারে এলপিজির সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্পট মার্কেট থেকে কেনা কার্গো নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছানোয় সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক চাপ তৈরি হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, ১০ তারিখে পৌঁছানোর কথা থাকা একটি কার্গো এসেছে ১৫ তারিখে। এই পাঁচ দিনের ব্যবধানেই ট্রাকগুলো আটকে থাকে।

অন্যদিকে, আমদানিকারকদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। সংগঠনটি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মধ্যস্থতায় আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায়। সমিতির অর্থ সম্পাদক আবু তাহের কোরেশীর দাবি, গত ছয় মাসের অনুপাত অনুযায়ী আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে এবং গ্যাসও দেশে এসেছে বলে বিইআরসি ও কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে। কোম্পানিগুলোর কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস থাকলে পরিবেশকেরা তা পাচ্ছেন না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সরবরাহ সংকটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের আহ্বানও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দাম নির্ধারণ বা সমন্বয় করলেই বাজার স্বাভাবিক হবে না। আমদানি, মজুত, পরিবহন ও পরিবেশক পর্যায়ে সরবরাহের প্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়াতে হবে বিইআরসিকে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন কি না, তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এলপিজির বাজার স্বাভাবিক করতে বিপিসির ব্যবস্থাপনায় আমদানির উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দাম বাড়িয়েও স্বাভাবিক হয়নি এলপিজি বাজার

সর্বশেষ আপডেট ১১:০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

এলপিজির দাম সমন্বয়ের পরও বাজারে সরবরাহ সংকট কাটেনি। আমদানিকারকদের আশ্বাসের পরও অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে চাহিদামতো সিলিন্ডার পাচ্ছেন না পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আমদানিকারকরা পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানির কথা বললেও পরিবেশকদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করছে না। এ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে সংকটের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকির দাবি উঠেছে।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব জানিয়েছিল, দাম সমন্বয় করা হলে আমদানি বাড়বে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

তাদের অভিযোগ, আমদানিকারক পর্যায়ে ট্রাক আটকে থাকছে। তিন থেকে চার দিন অপেক্ষার পর গাড়ি এলেও চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এক ব্যবসায়ী জানান, ১২ কেজির ১৪৭টি সিলিন্ডার পেতে তিন দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। পাইকারি পর্যায়ে পণ্য পৌঁছানোর পর খুচরা দোকানিরা ভাগে মাত্র পাঁচ থেকে সাতটি সিলিন্ডার পাচ্ছেন। গাড়ি পাঠানোর পরও চার থেকে পাঁচ দিন প্ল্যান্টে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে সরবরাহে দেরির পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে।

তবে সংকটের অভিযোগ মানতে নারাজ লোয়াব। সংগঠনটির দাবি, চলতি মাসে দেড় লাখ টনের বেশি এলপিজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য কেনার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে কার্গো পৌঁছাতে সময় লাগছে। নির্ধারিত সময়ে জাহাজ না পৌঁছানোয় ট্রাকগুলো অপেক্ষায় থাকছে। এই পরিস্থিতিকে কেউ কেউ সরবরাহ সংকট হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

লোয়াবের সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ জানান, সমন্বয়ের মাধ্যমে চলতি মাসে বাজারে এলপিজির সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্পট মার্কেট থেকে কেনা কার্গো নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছানোয় সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক চাপ তৈরি হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, ১০ তারিখে পৌঁছানোর কথা থাকা একটি কার্গো এসেছে ১৫ তারিখে। এই পাঁচ দিনের ব্যবধানেই ট্রাকগুলো আটকে থাকে।

অন্যদিকে, আমদানিকারকদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। সংগঠনটি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মধ্যস্থতায় আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায়। সমিতির অর্থ সম্পাদক আবু তাহের কোরেশীর দাবি, গত ছয় মাসের অনুপাত অনুযায়ী আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে এবং গ্যাসও দেশে এসেছে বলে বিইআরসি ও কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে। কোম্পানিগুলোর কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস থাকলে পরিবেশকেরা তা পাচ্ছেন না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সরবরাহ সংকটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের আহ্বানও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দাম নির্ধারণ বা সমন্বয় করলেই বাজার স্বাভাবিক হবে না। আমদানি, মজুত, পরিবহন ও পরিবেশক পর্যায়ে সরবরাহের প্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়াতে হবে বিইআরসিকে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন কি না, তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এলপিজির বাজার স্বাভাবিক করতে বিপিসির ব্যবস্থাপনায় আমদানির উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।