ঢাকা ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 29

সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে

সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাঁরা হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।

আদালতে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আসামিরা পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha # 1’ ও ‘BBM Transparency’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছিলেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাঁরা সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য পলাতক নেতার সঙ্গে যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে আসামিরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন। পরে সংগঠনটির ১০১ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয়। দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে পাঁচটি উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মামলার অন্য সহযোগীদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করা, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা, ডিজিটাল আলামত ও অবৈধ অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা, আসামিদের পরিচালিত অন্য ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজের সন্ধান পাওয়া এবং মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী থানার ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাঁরা হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।

আদালতে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আসামিরা পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha # 1’ ও ‘BBM Transparency’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছিলেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাঁরা সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য পলাতক নেতার সঙ্গে যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে আসামিরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন। পরে সংগঠনটির ১০১ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয়। দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে পাঁচটি উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মামলার অন্য সহযোগীদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করা, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা, ডিজিটাল আলামত ও অবৈধ অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা, আসামিদের পরিচালিত অন্য ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজের সন্ধান পাওয়া এবং মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী থানার ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর।