ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ এশিয়া তালিকা থেকে বাদ পাকিস্তান

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 32

বিশ্বব্যাংকের নতুন আঞ্চলিক পুনর্বিন্যাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে, যা অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান আর দক্ষিণ এশিয়ার অংশ নয়; তাদের এখন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা—এমইএনএ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ‘বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য’ কাঠামোর অধীনে এই পরিবর্তন ২০২৫ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিকটি এখানে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে—এমনটাই ইঙ্গিত করছে সংস্থাটির ব্যাখ্যা।

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ বলছে, পাকিস্তানের অর্থনীতি বহু বছর ধরেই উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির আর্থিক প্রবাহে বড় ভূমিকা রাখে। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা স্পষ্ট। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় ওই অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগই বেশি দৃশ্যমান—এমন একটি ধারণা ক্রমেই জোরালো হয়েছে।

এই পুনর্বিন্যাস আঞ্চলিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। পাকিস্তান বাইরে চলে যাওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও শোনা যাচ্ছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক জোট সার্কের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।

তবে বিষয়টি একমুখী নয়। নতুন বলয়ে যুক্ত হওয়ায় পাকিস্তানের সামনে কিছু সুযোগও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ, অর্থায়ন ও শ্রমবাজারে প্রবেশের পথ আরও প্রশস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও তেলের দামের অস্থিরতা বা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক টানাপোড়েন ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এই সতর্কতাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অর্থায়নের দিক থেকেও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। ২০২৪ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বব্যাংকের বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৫.৯ বিলিয়ন ডলার, যেখানে এমইএনএ অঞ্চলে তা ছিল ৪.৬ বিলিয়ন ডলার। এই পার্থক্য বিবেচনায় নতুন কাঠামোয় পাকিস্তান তুলনামূলক কম সহায়তা পেতে পারে—এমন ধারণা অমূলক নয়।

এর মধ্যেই সৌদি আরব পাকিস্তানের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা ৫ বিলিয়ন ডলারের আমানতের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা এসেছে, যা স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।

এদিকে, এই পুনর্বিন্যাসে দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যার হিসাবও বদলেছে। আগে প্রায় ২০০ কোটির যে অঞ্চল, তা এখন নেমে এসেছে প্রায় ১৭০ কোটিতে। ফলে ভারতের অংশ বেড়ে প্রায় ৮৬ শতাংশে পৌঁছেছে, অন্য দেশগুলোর অংশও সামান্য বেড়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দক্ষিণ এশিয়া তালিকা থেকে বাদ পাকিস্তান

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বব্যাংকের নতুন আঞ্চলিক পুনর্বিন্যাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে, যা অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান আর দক্ষিণ এশিয়ার অংশ নয়; তাদের এখন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা—এমইএনএ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ‘বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য’ কাঠামোর অধীনে এই পরিবর্তন ২০২৫ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিকটি এখানে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে—এমনটাই ইঙ্গিত করছে সংস্থাটির ব্যাখ্যা।

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ বলছে, পাকিস্তানের অর্থনীতি বহু বছর ধরেই উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির আর্থিক প্রবাহে বড় ভূমিকা রাখে। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা স্পষ্ট। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় ওই অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগই বেশি দৃশ্যমান—এমন একটি ধারণা ক্রমেই জোরালো হয়েছে।

এই পুনর্বিন্যাস আঞ্চলিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। পাকিস্তান বাইরে চলে যাওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও শোনা যাচ্ছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক জোট সার্কের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।

তবে বিষয়টি একমুখী নয়। নতুন বলয়ে যুক্ত হওয়ায় পাকিস্তানের সামনে কিছু সুযোগও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ, অর্থায়ন ও শ্রমবাজারে প্রবেশের পথ আরও প্রশস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও তেলের দামের অস্থিরতা বা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক টানাপোড়েন ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এই সতর্কতাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অর্থায়নের দিক থেকেও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। ২০২৪ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বব্যাংকের বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৫.৯ বিলিয়ন ডলার, যেখানে এমইএনএ অঞ্চলে তা ছিল ৪.৬ বিলিয়ন ডলার। এই পার্থক্য বিবেচনায় নতুন কাঠামোয় পাকিস্তান তুলনামূলক কম সহায়তা পেতে পারে—এমন ধারণা অমূলক নয়।

এর মধ্যেই সৌদি আরব পাকিস্তানের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা ৫ বিলিয়ন ডলারের আমানতের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা এসেছে, যা স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।

এদিকে, এই পুনর্বিন্যাসে দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যার হিসাবও বদলেছে। আগে প্রায় ২০০ কোটির যে অঞ্চল, তা এখন নেমে এসেছে প্রায় ১৭০ কোটিতে। ফলে ভারতের অংশ বেড়ে প্রায় ৮৬ শতাংশে পৌঁছেছে, অন্য দেশগুলোর অংশও সামান্য বেড়েছে।