ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংরক্ষিত নারী এমপিরা যেসব সুবিধা পাবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:২২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 31

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে আলোচনার ভেতরেই আবার সামনে এসেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন—এই আসনের সংসদ সদস্যরা ঠিক কী ধরনের আর্থিক সুবিধা পান, এবং তা কি সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের সমান?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দলীয় আসন বণ্টনের হিসাব অনুযায়ী বিএনপি পাচ্ছে ৩৬টি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১৩টি এবং একটি আসন থাকছে স্বতন্ত্রদের জন্য।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরুর পর থেকেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে—এই সদস্যদের অবস্থান ও প্রাপ্ত সুবিধা কতটা সমানতালে দাঁড়ায় নির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে।

আইন বলছে, পার্থক্যের সুযোগ খুব কম। ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’—যা সময় সময় সংশোধিত হয়েছে—এর আওতায় সংরক্ষিত ও সাধারণ আসনের এমপিরা একই কাঠামোয় বেতন-ভাতা পান। ফলে মাসিক মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা, সঙ্গে সরকারি বাসভবন, পরিবহন, চিকিৎসা ও বিমা সুবিধা—সবই সমানভাবে প্রযোজ্য।

তবে এখানে শুধু বেতনের হিসাবেই বিষয়টি শেষ হয় না। দৈনন্দিন খরচের জন্য আলাদা ভাতা রয়েছে—লন্ড্রি, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, এমনকি যোগাযোগ খরচও এর মধ্যে পড়ে। সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়; রেল, নৌ বা বিমানে ভ্রমণে নির্দিষ্ট হারে ভাতা, সড়কপথে কিলোমিটারভিত্তিক অর্থপ্রদান—সবই নির্ধারিত নিয়মে চলে।

একই সঙ্গে বছরে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভ্রমণ ভাতা কিংবা ট্রাভেল পাসের সুবিধা রয়েছে। অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণের সময় দৈনিক ভাতা ও যাতায়াত খরচ আলাদাভাবে যুক্ত হয়, যা মোট প্রাপ্তির পরিমাণকে আরও বাড়ায়—যদিও এই অঙ্কগুলো খুব বড় নয়, বরং প্রতীকী বলেই মনে হতে পারে।

চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের সুযোগ পান। এর পাশাপাশি রয়েছে মাসিক চিকিৎসা ভাতা এবং দুর্ঘটনা বিমা—যার পরিমাণ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতা ঘটলে এই সুবিধা কার্যকর হয়।

একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নির্দিষ্ট শর্তে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। যদিও বর্তমান সংসদে সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা এই সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্তে গেছেন—যা একধরনের রাজনৈতিক বার্তা বলেই অনেকে দেখছেন।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, সংরক্ষিত ও সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে সাংবিধানিক বা আর্থিক কোনো বিভাজন নেই। পরিচয় একটাই—সংসদ সদস্য। সেই পরিচয়ের সঙ্গেই জুড়ে আছে সমান সুযোগ-সুবিধা।

তবু প্রশ্নটা থেকে যায় অন্য জায়গায়। যেহেতু সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না, তাই তাদের প্রতিনিধিত্বের ধরন ও জবাবদিহির কাঠামো নিয়ে আলোচনা মাঝেমধ্যেই ফিরে আসে। আর ঠিক সেখানেই বেতন-ভাতা নয়, বরং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গটি বেশি গুরুত্ব পায়—যা সংখ্যার হিসাব দিয়ে মাপা কঠিন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সংরক্ষিত নারী এমপিরা যেসব সুবিধা পাবেন

সর্বশেষ আপডেট ০৯:২২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে আলোচনার ভেতরেই আবার সামনে এসেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন—এই আসনের সংসদ সদস্যরা ঠিক কী ধরনের আর্থিক সুবিধা পান, এবং তা কি সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের সমান?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দলীয় আসন বণ্টনের হিসাব অনুযায়ী বিএনপি পাচ্ছে ৩৬টি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১৩টি এবং একটি আসন থাকছে স্বতন্ত্রদের জন্য।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরুর পর থেকেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে—এই সদস্যদের অবস্থান ও প্রাপ্ত সুবিধা কতটা সমানতালে দাঁড়ায় নির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে।

আইন বলছে, পার্থক্যের সুযোগ খুব কম। ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’—যা সময় সময় সংশোধিত হয়েছে—এর আওতায় সংরক্ষিত ও সাধারণ আসনের এমপিরা একই কাঠামোয় বেতন-ভাতা পান। ফলে মাসিক মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা, সঙ্গে সরকারি বাসভবন, পরিবহন, চিকিৎসা ও বিমা সুবিধা—সবই সমানভাবে প্রযোজ্য।

তবে এখানে শুধু বেতনের হিসাবেই বিষয়টি শেষ হয় না। দৈনন্দিন খরচের জন্য আলাদা ভাতা রয়েছে—লন্ড্রি, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, এমনকি যোগাযোগ খরচও এর মধ্যে পড়ে। সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়; রেল, নৌ বা বিমানে ভ্রমণে নির্দিষ্ট হারে ভাতা, সড়কপথে কিলোমিটারভিত্তিক অর্থপ্রদান—সবই নির্ধারিত নিয়মে চলে।

একই সঙ্গে বছরে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভ্রমণ ভাতা কিংবা ট্রাভেল পাসের সুবিধা রয়েছে। অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণের সময় দৈনিক ভাতা ও যাতায়াত খরচ আলাদাভাবে যুক্ত হয়, যা মোট প্রাপ্তির পরিমাণকে আরও বাড়ায়—যদিও এই অঙ্কগুলো খুব বড় নয়, বরং প্রতীকী বলেই মনে হতে পারে।

চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের সুযোগ পান। এর পাশাপাশি রয়েছে মাসিক চিকিৎসা ভাতা এবং দুর্ঘটনা বিমা—যার পরিমাণ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতা ঘটলে এই সুবিধা কার্যকর হয়।

একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নির্দিষ্ট শর্তে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। যদিও বর্তমান সংসদে সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা এই সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্তে গেছেন—যা একধরনের রাজনৈতিক বার্তা বলেই অনেকে দেখছেন।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, সংরক্ষিত ও সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে সাংবিধানিক বা আর্থিক কোনো বিভাজন নেই। পরিচয় একটাই—সংসদ সদস্য। সেই পরিচয়ের সঙ্গেই জুড়ে আছে সমান সুযোগ-সুবিধা।

তবু প্রশ্নটা থেকে যায় অন্য জায়গায়। যেহেতু সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না, তাই তাদের প্রতিনিধিত্বের ধরন ও জবাবদিহির কাঠামো নিয়ে আলোচনা মাঝেমধ্যেই ফিরে আসে। আর ঠিক সেখানেই বেতন-ভাতা নয়, বরং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গটি বেশি গুরুত্ব পায়—যা সংখ্যার হিসাব দিয়ে মাপা কঠিন।